জগন্নাথপুরের ওয়ারিছ আলীর সংবাদ সম্মেলন: গড়গড়িকান্দি গ্রামের জামদ আলী চক্র আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার, হয়রানী, হুমকিসহ ক্ষতি সাধনে লিপ্ত রয়েছে

টুডে ডেস্ক:
জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ইউনিয়নের গড়গড়িকান্দি গ্রামের মৃত হাজি রোয়াব আরীর ছেলে ওয়ারিছ আলী একই গ্রামের জামদ আলী চক্র কর্তৃক মিথ্যা অপপ্রচার, হয়রানী, হুমকি সহ নানা রকম ক্ষতি সাধনের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। রবিবার (১৪ জুলাই) সিলেট প্রেসক্লাব ও জেলা প্রেসক্লাবে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে জামদ আলীর নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসীচক্র কর্তৃক শান্তিকামী এলাকাবাসী, আইন শৃংখলা বাহিনী তথা প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করতে মিথ্যা অপপ্রচারে লিপ্ত থাকার অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন ওয়ারিছ আলী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ওয়ারিছ আলী উল্লেখ করেন, আমরা জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ইউনিয়নের গড়গড়িকান্দি গ্রামের নিরীহ শান্তিকামী কয়েকটি পরিবার এলাকার একটি চিহিৃত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মামলাবাজদের চরম হয়রানী ও অত্যাচারের শিকার। গড়গড়িকান্দি গ্রামের হারিছ উল্ল্যার ছেলে জামদ আলী, ছামির আলীর ছেলে এমরান, মিজান, জামদ আলীর ছেলে আলী আহমদ চক্র দীর্ঘদিন থেকে আমাদের গ্রামের নিরীহ মানুষজনদের উপর বিভিন্নভাবে অত্যাচার চালিয়ে আসছে। এই চক্র কর্তৃক অত্যাচারিত ও নির্যাতিত লোকজনের পক্ষে মামলার স্বাক্ষী হওয়ায় তারা আমাদের উপর বেজায় ক্ষেপেছে। তারা আমাদেরকে সন্ত্রাসী ও মামলাবাজ সাজানোর জন্য এলাকার কিছু মানুষকে ম্যানেজ করে অপপ্রচারে নেমেছে। এই চক্র আমাদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে উঠেপড়ে লেগেছে। এসব অপপ্রচারমূলক কর্মসূচী সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ করে উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছে।
ওয়ারিছ আলী লিখিত বক্তব্যে আরো উল্লেখ করেন, চলতি বছরের ৬ মার্চ আমাদের বাড়ির কাজের লোক আফসার উদ্দিনকে এমরান, মিজান, জামদ আলী ও আলী আহমদ গং সন্ত্রাসীচক্র ব্যাপক মারধর করে মারাত্মক জখম করে। আশংকাজনক অবস্থায় আহত আফসার উদ্দিনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেয়ার পর আফসার উদ্দিন বর্তমানে কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠেছে। এ ঘটনায় আফসার উদ্দিন বাদী হয়ে ওই সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে বিশ^নাথ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-২, তারখি ৯-০৩-২০১৯ইং। এই মামলায় আমি ওয়ারিছ আলী, আমার চাচা মনুফর আলী, রওশন আলী, বারিক মিয়া সহ কয়েকজনকে স্বাক্ষী করা হয়। স্বাক্ষী হওয়ার কারনে আমাদের উপর ওই সন্ত্রাসী চক্রের আক্রোশ বেড়ে যায়। তারা আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের ফন্ধি আঁটে। গত ১৩ জুলাই শনিবার ওই সন্ত্রাসী চক্র ভয় দেখিয়ে ১৫/২০জন মানুষ নিয়ে একটি মানববন্ধনের আয়োজন করে। জানাগেছে, এদেরকে অন্য কথা বলে ধোঁকা দিয়ে এনে মানববন্ধনের নামে জড়ো করা হয়। এই কর্মকান্ড এলাকার সচেতন মানুষের কাছে হাস্যকর হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। কারন সবাই জানেন এরাই চিহিৃত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত। এই মামলার স্বাক্ষী হওয়ার কারনে আজ আমার পুরো পরিবার ওই সন্ত্রাসীদের রোষানলে পড়েছি। তারা আমাদের বিরুদ্ধে বার বার হয়রানী, হুমকিসহ নানা রকম ক্ষতি সাধনে লিপ্ত রয়েছে। সন্ত্রাসীচক্র শান্তিকামী এলাকাবাসী, আইন শৃংখলাবাহিনী তথা প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করতে এ ধরনের অপপ্রচারের আশ্রয় নিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গড়গড়িকান্দি গ্রামের মৃত করামত আলীর ছেলে আব্দুল কাদিও, মৃত-আম্বর আলীর ছেলে ফজর আলী, হাজি আছদ্দর আলীর ছেলে ইয়াওর আলী, মৃত- সোনাফর আলীর ছেলে তৈমুছ আলী, মৃত-মনা মিয়ার ছেলে আব্দুল মানিক, জবেদ আলীর ছেলে মনুফর আলী, মৃত-কলমদর আলীর ছেলে মনসুর আলী, আব্দুল হেকিমের ছেলে বারিক আলী, হাজি রোয়াব আলীর ছেলে ইকবাল হোসেন, মৃত আলমাছ উদ্দিনের ছেলে ইলিয়াছ উদ্দিন প্রমূখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *