স্টাফ রিপোর্টার :
টানা বর্ষন ও পাহাড়ী ঢলে জগন্নাথপুর উপজেলার পৌরসভা সহ ৮টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় ১০ সহস্রাধিক পরিবার পানি বন্ধী অবস্থায় রয়েছে। গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায় ১টি মাছ ধরার নৌকা ঝড়ের কবলে পড়ে কাঁটা নদীতে ডুবে যায়। এতে কওছর মিয়া (২৮) নামের এক জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। সে উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের নারিকেলতলা গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে। ওপর ২ জেলে একই এলাকার বাসিন্দা শফিকুল (২৫) ও কাওছার মিয়া (৩০) নদী সাতঁরে তীরে উঠলে আহত অবস্থায় স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও এলাকার লোকজন নিখোঁজ কওছর মিয়াকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা অখিল সিনহা জানান, নিখোঁজ জেলের উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে। কুশিয়ারা ও নলজুর নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী পাইলগাঁও, আশারকান্দি ও রানীগঞ্জ ইউনিয়ন এবং নলজুর নদীর তীরবর্তী জগন্নাথপুর পৌর শহর সহ প্রায় ৫সহস্রাধিক পরিবার এবং কলকলিয়া, চিলাউড়া হলদিপুর, পাটলী, মীরপুর ও সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়নের ৫সহস্রাধিক সহ মোট ১০ সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্ধী অবস্থায় রয়েছেন। পুরো উপজেলার ৩ভাগ গ্রাম ও শহরের ঘরবাড়ি রাস্তা ঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্টান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় লেখাপড়া বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি চরম দুর্ভোগে পড়েছেন জনসাধারন। ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসন দুর্গত এলাকার তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুহাম্মদ শাহাদত হোসেন ভুইয়া, সাইফুদ্দিন খানকে প্রধান করে ৩সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ত্রান বিতরন করা হয়েছে। কাতিয়া গ্রামের কয়েছ মিয়া জানান, কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার উপর প্রবাহিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে নদী তীরবর্তী কাতিয়া, ফেচীর বাজার সহ আশ-পাশ গ্রামের অধিকাংশ পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে চরম দূর্ভোগে রয়েছেন। এছাড়াও কুশিয়ারা নদীর পানির প্রবল স্রোতে শিবগঞ্জ-কাতিয়া, ফেচীর বাজার ভায়া বেগমপুর সড়কের জগন্নাথপুর অংশের সড়কটির ভাঙ্গনের সইষ্ট হওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। পিআইও অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাইফুদ্দিন খান জানান, গতকাল রবিবার চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের বেতাউকা, দাসনোয়াগাঁও, ভুরাখালী, গাদিয়ালা সহ আশ-পাশ গ্রামগুলোর পানিবন্ধী রোকজনদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভারপ্রাপ্ত ইয়াসির আরাফাত জানান, উপজেলার পৌরসভা সহ ৮টি ইউনিয়নে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত আশ্রয় কেন্দ্রে বন্যার্তরা উঠেননি। ইতোমধ্যে বন্যার্তদের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরন করা হয়েছে।