০৪:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘আইনের অধীনে জামিন’ শীর্ষক মতবিনিময় অনুষ্ঠিত

  • Update Time : ১০:৫২:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1

নিজস্ব প্রতিবেদক:
মামলা-মোকদ্দমার দীর্ঘসূত্রিতা কমানো, বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি হ্রাস এবং ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বেসরকারি সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব পিপল ইনভলভড ইন লিটিগেশন্স (অ্যাপিল)- এর এডুকেটিভ প্রোগ্রাম আইন ও অভিজ্ঞতা শীর্র্ষক সিরিজ শুরু হয়েছে। সিরিজের প্রথম ধাপে ‘আইনের অধীনে জামিন’ শীর্ষক লেকচার-১ কক্সবাজার পৌসভার সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১লা অক্টোবর, ২০২৬ কক্সবাজার পৌরসভার সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন, বিশিষ্ট আইনবিদ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্ন-সচিব ও সচিব মর্যাদার আইন কমিশনের পরামর্শক জনাব এ কে মোহাম্মদ হোসেন।
লেকচার মামলা পরিচালনার বাস্তব সমস্যা, বিচারপ্রার্থীদের অধিকার, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার, বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা এবং আইনগত সচেতনতা বৃদ্ধিসহ জামিন সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন আইন বিষয়ক লেকচার সিরিজ-১ এর রিসোর্স পার্সন, কক্সবাজার জেলার সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর ও সাবেক কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি, লেখক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর।
বিভিন্ন মামলায় কোন কোন কৌশলে আসামিদের জামিন নিয়েছিলেন এবং কোন কোন কৌশলে আসামিদের জামিনের বিরোধিতা করে সফল ও ব্যর্থ হয়েছিলেন উক্ত বিষয়গুলোকে আইনজীবী আইনের শিক্ষার্থী ও মামলা মোকদ্দমায় জড়িত ব্যক্তিদের নিকট উপস্থাপন করেন।
রিসোর্স পার্সন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর একটি জামিনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিচার বিশ্লেষণ, আদালতের মোটিভ স্টাডি বিষয়গুলোকেও কীভাবে তিনি অনুসরণ করেছিলেন তার পেশাগত জীবনে এগুলোর এগুলোর দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেন। শুধু জামিনের জন্য ওকালতি নয় একটি মামলাকে দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নির্দোষ ব্যক্তিদের মামলায় জড়ানো, মিথ্যা এজাহার ও মিথ্যা নালিশী দরখাস্তকে দায়ী করে তার দ্বারা পরিচালিত বিভিন্ন মামলার দৃষ্টান্ত ঘটনা সহকারে উপস্থাপন করেন। একই সাথে বিগত সরকারের আমলে আদালতের বিচারপতিগণ তাদের নিজ বিচারই স্বাধীনতাকে খর্ব করে ক্ষমতাসীন দলের দলদাস হয়ে জামিন প্রদানের ক্ষেত্রে উপযুক্ত আইনি বিধি-বিধান থাকা সত্ত্বেও প্রাক্তন প্রধানমমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন্স বেগম খালেদা জিয়াকে আইনের অপব্যবহারের মাধ্যমে জেলে আটক রাখার বিষয় তিনি উল্লেখ করেন। আইন আদালতে রাজনীতির প্রভাব জামিন প্রদান করা ও জামিন না দেওয়া তার ক্ষেত্রে আইনের লঙ্ঘনের বিভিন্ন দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেন। বিচারপতি খাইরুল হক ও বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের ঘটনা উপস্থাপন করে তাদের দ্বারা আদালত অঙ্গনের ভাবমর্যাদা ক্ষুন্ন হওয়ার বিষয়টিও বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করেন। আইন আদালত রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হলে জামিন দেওয়া ও না দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনের যথাযথ প্রয়োগ সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আলোচনায় তিনি মামলা পরিচালনার বাস্তব সমস্যা, বিচারপ্রার্থীদের অধিকার, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার, বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতার কারণ, আইনগত সচেতনতা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বিরোধ নিষ্পত্তির বিকল্প পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন।
পাশাপাশি মধ্যস্থতা, সালিশ, সমঝোতা ও মীমাংসাসহ বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতির কার্যকর ব্যবহার নিয়ে মতামত তুলে ধরা হয়।
স্বাগত বক্তব্যে আপিলের স্বপ্নদ্রষ্ঠা ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সংবিধান বিশেষজ্ঞ এ কে মোহাম্মদ হোসেন আইন ও বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বিচারপ্রার্থীদের আইনগত সহায়তা, দিকনির্দেশনা প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় এবং সহযোগিতা জোরদার করার কথা ব্যক্ত করেন।
একই সাথে এ বিষয়ে গবেষণা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং নীতিগত আলোচনার মাধ্যমে বিচারব্যবস্থার বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত সুপারিশ প্রণয়নেরও কথা জানান তিনি।
অ্যাপিলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুর মোহাম্মদ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত লেকচার সিরিজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আপিলের সিনিয়র সহ-সভাপত ও কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাংবাদিক মুহম্মদ নূরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি অধ্যাপক দিলওয়ার চৌধুরী, সহ-সভাপতি মোজাহেরুল হক, সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম, সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিন, সিনিয়র আইনজীবী আব্দুল কাইয়ুম, অ্যাপিলের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আব্দুল মাবুদ রাজনসহ, সিনিয়ির আইনজীবী, জুনিয়র আইনজীবী, শিক্ষানবিশ আইনজীবি, আইন শিক্ষার্থী, মামলা-মোকদ্দমায় জড়িত ব্যক্তিবর্গসহ নানা পেশাজীবী শ্রেণির লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
রিসোর্স পার্সন জনাব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের জীবন বৃত্তান্ত পাঠ করেন আপেলের সহ-সভাপতি অধ্যাপক দিলওয়ার চৌধুরী। অনুষ্ঠানের শেষে এডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে আপিলের পক্ষ থেকে সম্মান স্মারক প্রদান করা হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

‘আইনের অধীনে জামিন’ শীর্ষক মতবিনিময় অনুষ্ঠিত

Update Time : ১০:৫২:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:
মামলা-মোকদ্দমার দীর্ঘসূত্রিতা কমানো, বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি হ্রাস এবং ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বেসরকারি সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব পিপল ইনভলভড ইন লিটিগেশন্স (অ্যাপিল)- এর এডুকেটিভ প্রোগ্রাম আইন ও অভিজ্ঞতা শীর্র্ষক সিরিজ শুরু হয়েছে। সিরিজের প্রথম ধাপে ‘আইনের অধীনে জামিন’ শীর্ষক লেকচার-১ কক্সবাজার পৌসভার সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১লা অক্টোবর, ২০২৬ কক্সবাজার পৌরসভার সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন, বিশিষ্ট আইনবিদ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্ন-সচিব ও সচিব মর্যাদার আইন কমিশনের পরামর্শক জনাব এ কে মোহাম্মদ হোসেন।
লেকচার মামলা পরিচালনার বাস্তব সমস্যা, বিচারপ্রার্থীদের অধিকার, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার, বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা এবং আইনগত সচেতনতা বৃদ্ধিসহ জামিন সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন আইন বিষয়ক লেকচার সিরিজ-১ এর রিসোর্স পার্সন, কক্সবাজার জেলার সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর ও সাবেক কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি, লেখক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর।
বিভিন্ন মামলায় কোন কোন কৌশলে আসামিদের জামিন নিয়েছিলেন এবং কোন কোন কৌশলে আসামিদের জামিনের বিরোধিতা করে সফল ও ব্যর্থ হয়েছিলেন উক্ত বিষয়গুলোকে আইনজীবী আইনের শিক্ষার্থী ও মামলা মোকদ্দমায় জড়িত ব্যক্তিদের নিকট উপস্থাপন করেন।
রিসোর্স পার্সন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর একটি জামিনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিচার বিশ্লেষণ, আদালতের মোটিভ স্টাডি বিষয়গুলোকেও কীভাবে তিনি অনুসরণ করেছিলেন তার পেশাগত জীবনে এগুলোর এগুলোর দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেন। শুধু জামিনের জন্য ওকালতি নয় একটি মামলাকে দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নির্দোষ ব্যক্তিদের মামলায় জড়ানো, মিথ্যা এজাহার ও মিথ্যা নালিশী দরখাস্তকে দায়ী করে তার দ্বারা পরিচালিত বিভিন্ন মামলার দৃষ্টান্ত ঘটনা সহকারে উপস্থাপন করেন। একই সাথে বিগত সরকারের আমলে আদালতের বিচারপতিগণ তাদের নিজ বিচারই স্বাধীনতাকে খর্ব করে ক্ষমতাসীন দলের দলদাস হয়ে জামিন প্রদানের ক্ষেত্রে উপযুক্ত আইনি বিধি-বিধান থাকা সত্ত্বেও প্রাক্তন প্রধানমমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন্স বেগম খালেদা জিয়াকে আইনের অপব্যবহারের মাধ্যমে জেলে আটক রাখার বিষয় তিনি উল্লেখ করেন। আইন আদালতে রাজনীতির প্রভাব জামিন প্রদান করা ও জামিন না দেওয়া তার ক্ষেত্রে আইনের লঙ্ঘনের বিভিন্ন দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেন। বিচারপতি খাইরুল হক ও বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের ঘটনা উপস্থাপন করে তাদের দ্বারা আদালত অঙ্গনের ভাবমর্যাদা ক্ষুন্ন হওয়ার বিষয়টিও বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করেন। আইন আদালত রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হলে জামিন দেওয়া ও না দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনের যথাযথ প্রয়োগ সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আলোচনায় তিনি মামলা পরিচালনার বাস্তব সমস্যা, বিচারপ্রার্থীদের অধিকার, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার, বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতার কারণ, আইনগত সচেতনতা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বিরোধ নিষ্পত্তির বিকল্প পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন।
পাশাপাশি মধ্যস্থতা, সালিশ, সমঝোতা ও মীমাংসাসহ বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতির কার্যকর ব্যবহার নিয়ে মতামত তুলে ধরা হয়।
স্বাগত বক্তব্যে আপিলের স্বপ্নদ্রষ্ঠা ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সংবিধান বিশেষজ্ঞ এ কে মোহাম্মদ হোসেন আইন ও বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বিচারপ্রার্থীদের আইনগত সহায়তা, দিকনির্দেশনা প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় এবং সহযোগিতা জোরদার করার কথা ব্যক্ত করেন।
একই সাথে এ বিষয়ে গবেষণা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং নীতিগত আলোচনার মাধ্যমে বিচারব্যবস্থার বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত সুপারিশ প্রণয়নেরও কথা জানান তিনি।
অ্যাপিলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুর মোহাম্মদ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত লেকচার সিরিজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আপিলের সিনিয়র সহ-সভাপত ও কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাংবাদিক মুহম্মদ নূরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি অধ্যাপক দিলওয়ার চৌধুরী, সহ-সভাপতি মোজাহেরুল হক, সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম, সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিন, সিনিয়র আইনজীবী আব্দুল কাইয়ুম, অ্যাপিলের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আব্দুল মাবুদ রাজনসহ, সিনিয়ির আইনজীবী, জুনিয়র আইনজীবী, শিক্ষানবিশ আইনজীবি, আইন শিক্ষার্থী, মামলা-মোকদ্দমায় জড়িত ব্যক্তিবর্গসহ নানা পেশাজীবী শ্রেণির লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
রিসোর্স পার্সন জনাব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের জীবন বৃত্তান্ত পাঠ করেন আপেলের সহ-সভাপতি অধ্যাপক দিলওয়ার চৌধুরী। অনুষ্ঠানের শেষে এডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে আপিলের পক্ষ থেকে সম্মান স্মারক প্রদান করা হয়।