সিলেট সহ দেশের ১৬ অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা

জগন্নাথপুর টুডে ডেস্ক::

সিলেট সহ দেশের ১৬ অঞ্চলে আজ ঝড়বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এসব অঞ্চলের নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখানো হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, ঢাকা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের উপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে আজ ভোরের দিকে ঢাকায় ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সময়ে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ আংশিক মেঘলা হতে অস্থায়ীভাবে মেঘলা থাকতে পারে। হালকা বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব/পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে। দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেব এর ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা

স্টাফ রিপোর্টার::
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদরে ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেব জগন্নাথপুর উপজেলাবাসী সহ সারা দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

ইংল্যান্ডে শুক্রবার ঈদুল আযহা: স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ হবে

মুহাম্মদ শাহেদ রাহমান ( যুক্তরাজ্য ) ::

সরকারের কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে আগামী ৩১ জুলাই শুক্রবার যুক্তরাজ্যে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে এবং পবিত্র ঈদুল আযহা পালিত হবে। শর্ত হলো ঘর থেকে অজু পড়ে, নিজের জায়নামাজ নিয়ে, মাস্ক পড়ে আসতে হবে।

গ্রেট ব্রিটেনসহ ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও আগামী ৩১ জুলাই শুক্রবার পবিত্র ঈদুল আযহা তথা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে।
তবে যুক্তরাজ্যসহ সারাবিশ্বে করোনা মহামারির কারণে এ বছর মুসলিম অধ্যুষিত এলাকার কোথাও খোলা মাঠে ঈদের নামাজ হবে না।

যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনের মাইল এন্ড স্টেডিয়ামে প্রতি বছর ঈদের বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে থাকলেও এ বছর কোনো জামাত হচ্ছে না।
মসজিদগুলোতে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

ইস্ট লন্ডনের বাংলাটাউন খ্যাত ব্রিকলেনে ঐতিহ্যবাহী ব্রিকলেন জামে মসজিদে সকাল ৮টা, ৯টা, ১০টা ও ১১টায় মোট চারটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন মসজিদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সাজ্জাদ মিয়া।

ইস্ট লন্ডন মস্কের ভলান্টিয়ার জনাব আব্দুর রহিম কামালী জানান- ইস্ট লন্ডন মস্ক এন্ড লন্ডন মুসলিম সেন্টারে এ বছর ৪টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
প্রথম জামাত সকাল ৭.৩০ মিনিটে, দ্বিতীয় জামাত ৮.৩০ মিনিটে, ৩য় জামাত ৯.৩০ মিনিটে ও ৪র্থ জামাত ১০.৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে।
প্রতিটি জামাতে ৬৩২ জন পুরুষ ও ১৭০ জন মহিলা নামাজ পড়তে পারবেন।

তিনি আরো জানান- মুসল্লিগন সরকারের বর্তমান গাইলাইন অনুযায়ী চলবেন এবং ঘর বা অফিসে অজু পড়ে নিজের জায়নামাজ, মাস্ক, নিজ জুতার জন্য ব্যাগ ইত্যাদি নিয়ে আসবেন।

তিনি করোনাকালিন সময়ে মসজিদে জামাতে নামাজের জন্য সরকার প্রদত্ত্ব যে গাইডলাইন আছে তা পুরোপুরি অনুসরন করে ঈদের নামাজ পড়তে মুসল্লিদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য লন্ডন বারা অব টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সকল মসজিদের নিজস্ব ওয়বসাইট আছে। সেখানে ঈদের নামাজের সময়সুচি পাওয়া যাবে।

ফোর্ডস্কয়ার জামে মসজিদে ৫টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জামাতগুলো হবে সকাল ৬টা, সাড়ে ৮টা, সাড়ে ৯টা, সাড়ে ১০টা ও সাড়ে ১১টায়। হাফিজ মাওলানা শামসুল হক জানিয়েছেন, সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে প্রতি জামাতে সর্বোচ্চ ৪৫০ জন নামাজ পড়তে পারবেন।

বেথনাল গ্রীন বায়তুল আমান জামে মসজিদে চারটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জামাতগুলো সকাল সাড়ে ৭টা, সাড়ে ৮টা, সাড়ে ৯টা ও সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন মসজিদের এসিসটেন্ট সেক্রেটারি সৈয়দ জহুরুল হক।

যুক্তরাজ্যে মলডন কাউন্সিলের মেয়র হলেন সিলেটের আব্দুল হাফিজ

মুহাম্মদ শাহেদ রাহমান  (যুক্তরাজ্য) ::

করোনার বৈরী সময়ে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশী কমিনিউটির ভাবমুর্তি উজ্জ্বল করা আলোকিত মুখ অনন্য ক’জনের তালিকায় নতুন একটি নাম আজ যুক্ত হলো। সেই আলোকিত মুখ হলেন আব্দুল হাফিজ জু্য়েল।

সোমবার ( ২০ জুলাই ২০২০ইং ) আব্দুল হাফিজ ইংল্যান্ডের এসেক্সের মলডন কাউন্সিলের বার্ষিক ভার্চুয়াল মিটিং এর মাধ্যমে মেয়রের দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেন।

তিনি বৃটিশ মেইন ষ্ট্রিমের একজন রাজনীতিবিদ, সমাজ কর্মী, সফল ব্যবসায়ী, তরুণ উদ্যোক্তা, ইউকের অভিজাত্য শহর এসেক্স এলাকার, মলডন কাউন্সিল এর মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

তিনি দৈনিক ইনকিলাবের যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধির কাছে দেওয়া বক্তব্যে বলেন- ইংল্যান্ডের মলডন টাউন মেয়র পদ্ধতি ১৮৭৪ সাল থেকে শুরু হয়ে এখনো ঐতিহ্যবাহী করে আসছে; সেই ধারাবিকতায় মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেছি । করোনার কারণে মলটাউনের জনগণ ব্রিটিশ সরকারের করোনানীতিমালা পালন করে গৃহে বসবাস করে আসছেন। আশা করি শীঘ্রই কমিউনিটির জনগণ এই কঠিন মুহূর্ত কাটিয়ে পূর্বের মতো স্বাভাবিক জীবনযাপন করবেন। আমি, আমার পরিবার ও মলডন কাউন্সিল কমিউনিটির জনগণের পাশে আছে— থাকবে।

নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র আব্দুল হাফিজ আরো বলেন-
আমি মলডন কাউন্সিলের মেয়র হিসেবে জনকল্যাণে কমিউনিটির উন্নয়নে কাজ করে যেতে চাই এবং সকলের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি।

উল্লেখ্য সিলেটের বালাগন্জের সিরাজপুর গ্রামের বাসিন্দা ব্রিটিশ, বাংলাদেশী-বাঙালি, সমাজকর্মী আব্দুল হাফিজ — বিগতদিনে মলডন কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এখন ২০২০ সালে এসে একবছরের জন্য দায়িত্ব নিলেন মলডন কাউন্সিলের মেয়র হিসেবে।
তিনি কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত থেকে দীর্ঘদিন যাবত মানবকল্যাণ ও কমিউনিটির উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন।

বিমানের লন্ডন সিলেট ফ্লাইট বন্ধ : ব্রিটেনে ক্ষুব্ধ কমিউনিটি

মুহাম্মদ শাহেদ রাহমান  (যুক্তরাজ্য ) :

লন্ডন টু সিলেটের যাত্রীদের নিয়ে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে বিমানে! বাংলাদেশ বিমানের লন্ডন সিলেট ফ্লাইট বন্ধ করায় ব্রিটেনে ক্ষুব্ধ বাঙালি কমিউনিটি নানা পেশার মানুষজন তাই বলছেন। এমনকি এভাবে যাত্রী হয়রানী চলতে থাকলে বিমানে চলাচল বয়কট করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রবাসী কেউ কেউ; চলছে প্রতিবাদ।

শুক্রবার ( ২৪ জুলাই ) বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্স (সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ) একটি নোটিশে জানিয়েছে, এখন থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সে যারা লন্ডন থেকে সিলেট যাবেন তারা ঢাকায় ইমিগ্রেশন করে সেখানেই তাদের ব্যাগেজ ক্লেইম করতে হবে এবং ঢাকা থেকে আবার নতুন করে বডিং পাস নিয়ে সিলেটে যাবেন !

ইংল্যান্ডের ব্রিটিশ-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল এবং হিলসাইড ট্রাভেলসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর হেলাল খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ নিয়ে ধীরে ধীরে ক্ষোভের জন্ম হচ্ছে ব্রিটিশ বাংলাদেশী কমিউনিটিতে। কমিউনিটির সাধারণ মানুষ একে প্রবাসীদের প্রতি বিমানের যুলুম-নিপীড়ন মূলক মানষিকতা বহিপ্রকাশ বলে মনে করছেন।
বাংলাদেশ হাইকমিশন লন্ডনে পররাষ্ট্র মন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপিও প্রদান করেছেন যুক্তরাজ্যে ‘আমরা সিলেটবাসী’ সংগঠনের নেতৃবন্দ।

ইউকে-তে হাইকমিশনের দ্বারস্থ ‘আমরা সিলেটবাসী’ সংগঠনের সভাপতি সাংবাদিক আনসার আহমেদ উল্লাহ ও সেক্রেটারি ডক্টর আনিছুর রহমান বলেন— আমরা বিমানের সরাসরি লন্ডন টু সিলেট ফ্লাইট চাই। কর্তৃপক্ষের ভিন্ন সিদ্ধান্তের পরিবর্তন চেয়েছি জনস্বার্থে । দাবি জানিয়েছেন প্রয়োজনে সিলেটে আইসোলেশন সেন্টার করার, তবুও তাদের ইমিগ্রেশন যেন সিলেটে হয় এবং লাগেজ যেন সিলেটই যায়।
যেন বাংলাদেশ বিমানে লন্ডন সিলেট যাত্রীদের চূড়ান্ত গন্তব্য এবং লাগেজ সংগ্রহ সিলেটেই হয় ।
ঢাকায় ইমিগ্রেশন সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের ডমেস্টিক ফ্লাইটে সিলেটে পাঠানো হচ্ছে, সেই সিদ্ধান্ত সরকারকে বাতিল করতে হবে ।

এদিকে করোনা নিয়ন্ত্রণের জন্যই উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনায় বিমান এমন নির্দেশনা জারি করেছে বলে জানিয়েছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার।

করোনা ঠেকাতে ঢাকার নেয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বৃটিশ নাগরিকদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বাংলাদেশ হাইকমিশনের তরফে জানানো হয় তারা এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন।

সরকারি ওই সিদ্ধান্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন।
বৃটিশ-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল হেলাল খান গতকাল ফেসবুক পোস্টে লিখেন- ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্স (সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ) একটি নোটিশ দিয়ে আমাদের জানিয়েছে যে, এখন থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সে যারা লন্ডন থেকে সিলেট যাবেন তারা ঢাকায় ইমিগ্রেশন করে সেখানেই তাদের ব্যাগেজ ক্লেইম করতে হবে এবং ঢাকা থেকে আবার নতুন করে বোর্ডিং পাস নিয়ে সিলেটে যাবেন! কেউ কি ভাবতে পারেন কতটুকু জুলুম-নিপীড়নমূলক মানসিকতা থেকে বিমানের ঐ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা এ কাজটি করছেন? নিঃসন্দেহে এটি একটি চরম সিলেট বিদ্বেষী আচরণ! একজন ব্যবসায়ী হিসেবে নয়, সমাজের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি- আমাদের পূর্ব পুরুষদের রক্ত ঘামে গড়া দেশের মানুষের সঙ্গে এই অমানবিকতার শেষ হোক! আসুন এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই একসঙ্গে।

সাংবাদিক মিসবাহ জামাল লিখেন-
আমি যতদিন লন্ডন সিলেট সরাসরি বিমান না চলবে, আমি বয়কট করলাম।এখন দেখার পালা। খুবই মানসিক আঘাতের কারণে আমি আজ থেকে বিমান বয়কট করলাম।

এ রিপোর্টটি লেখা পর্যন্ত বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন , ব্যক্তি করোনাকালিন সময়ে ব্রিটিশ আইন পালন করে প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এবিষয়ে লন্ডনে বাংলাদেশে হাইকমিশনের মাধ্যমে কর্তপক্ষের বরাবরে সমাধানের লক্ষ্যে স্মারকলিপি পাঠিয়েছেন – আনসার আহমদ উল্লাহ, নূরউদ্দিন আহমদ , মতিয়ার চৌধুরী, ড. আনিছ , শাহ মোস্তাফিজুর রহমান বেলাল ও জামাল খান প্রমুখ।
স্মারক লিপিতে লন্ডনে ও ঢাকায় বিমানের বিভিন্ন দুর্নীতির কথা লিখেন এবং কেন সিলেটবাসীর সাথে বারবার এমন হচ্ছে, কি স্বার্থ , কাদের স্বার্থ তা স্পষ্ট উল্লেখ করেন নের্তৃবৃন্দ।

ইমু’র মৃত্যু বার্ষিকীতে বন্ধু’র ভালোবাসা

দক্ষিন সুনামগঞ্জ উপজেলার সিচনী গ্রামের মো. আব্দাল মিয়া ও জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন রসুলপুর গ্রামের মোছা: পারভীন বেগম এর ২য় তথা কনিষ্ট পুত্র তানভীর আহমেদ ইমু, নাচে, গানে, বাজনা সহ অভিনয়ে পারদর্শী ছিল।

১১ জুলাই তানভীর আহমেদ ইমু ইমুর ২য়মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে ১০ জুলাই শুক্রবার জগন্নাথপুর, সিচনী  এবং চিলাউড়া সহ ভিবিন্ন স্থানে তার আত্মার শান্তি কামনা করে পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের পক্ষ থেকে মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্টিত হয়েছে।

বন্ধু’র প্রতি আজও ভালোবাসা রয়ে গেছে তানভীর আহমেদ ইমু’র  বন্ধুবান্ধবদের। এমন এক বন্ধু ইংলিশ ট্রেনিং ইন্সটিটিউট টপ এম এম –এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মো. তাহের আল-তামিম বন্ধুত্বের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ইমু ছিল আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধুদের মধ্যে অন্যতম বন্ধু। তার মতো একটি উজ্জল নক্ষত্র আমাদের মাঝে আর নেই, হৃদয় আজ ক্লান্ত এবং নি:শব্দ হয়ে বিদায় বেদনায় দুমড়ে মুছড়ে নিজের মধ্যে বিয়োগ বেদনা অনুভব করছি,সেটা ভেবেও আমার হৃদয় শিউরে উঠে, একটি নিস্ব:পাপ প্রাণ এভাবে ঝরে যাবে তা কখনও কল্পনাও করিনি।

মৃত্যুর বেশ কিছুদিন পূর্বে সিলেট সুমন বড়োয়ার স্টুডিওতে “ভাড়া কইরা আনবি মানুষ কান্দিতে মোর লাশের পাশে, চারদিকে রাখবি নজর সে না যেন দেখতে আসে” এই গানটি রের্কড করে। তবে তার বিয়োগে ভাড়া করে লোক আনার কোন প্রয়োজন হয়নি, বরং ধর্ম -বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণী পেশার মানুষ তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। তার মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল প্রায় ১৯বছর।

ইমু যেন পরপারে ভাল থাকে এই কামনা ব্যক্ত করে তার রূহের মাগফেরাত কামনা করছি । মহান আল্লাহ সোবহান তা-আলা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন আমিন । আমি তার জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থী।

সভাপতি অলিউর সাধারণ সম্পাদক তছনু : নবীগঞ্জ রিপোটার্স ইউনিটির কমিঠি গঠন

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি::

নবীগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে নবীগঞ্জ রিপোটার্স ইউনিটির কমিঠি গঠন করা হয়েছে। দৈনিক দিনকাল এর নবীগঞ্জ প্রতিনিধি অলিউর রহমানকে সভাপতি ও এনটিভি ইউরোপ এর নবীগঞ্জ প্রতিনিধি মহিবুর রহমান চৌধুরী তছনুকে সাধারণ সম্পাদক করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরী কমিঠি গঠন করা হযেছে।

সোমবার হবিগঞ্জ জেলা রিপোটার্স ইউনিনিটির সভাপতি শেখ আব্দুল হাকিম ও সাধারণ সম্পাদক এম এ আজিজ সেলিম এই কমিঠি অনুমোদন করেছেন। কমিঠির অন্যান্যরা হলেন সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদ , এটিএম ফুয়াদ হাসান রাজন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শওকত আলী, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো: ইকবাল হোসেন তালুকদার ,

হাসান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদ চৌধুরী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম নাহিদ , মুফাজ্জল হোসেন সজিব, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শাওন আহমেদ, সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো: আলাল মিয়া, দপ্তর সম্পাদক নিরব তালুকদার, সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহ সুলতান আহমেদ, সদস্য মুরাদ আহমদ, মহিবুর রহমান, মতিউর রহমান মুন্না, ছনি চৌধুরী, দীপু আহমেদ , আল আমিন।

নবগঠিত কমিটি অনুমোদনকালে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আজকের পত্রিকার বার্তা সম্পাদক এ আর শায়েল।

বিদেশে যাওয়ার জন্য শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা দাবি : না পেয়ে সন্তান হত্যা

জগন্নাথপুরে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি : অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্ধি

স্টাফ রিপোর্টার::
টানা বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ী ঢলে জগন্নাথপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল সহ পুরো উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় ওইসব গ্রামের লোকজন পানিবন্ধি হয়ে পড়ায় চরম দূর্ভোগে রয়েছেন।

গত ১ সপ্তাহ ধরে অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার পৌর শহর সহ কলকলিয়া ,চিলাউড়া হলদিপুর, রাণীগঞ্জ ও পাইলগাঁও ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম এবং পাড়া মহল্লার ঘর বাড়ি ও সড়কপথ বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এসব এলাকার শ্রমজীবী অসহায় দরিদ্র পরিবার গুলো চরম দূর্ভোগে পড়েছেন।

এছাড়াও পুরো উপজেলার অধিকাংশ গ্রাম এবং সড়কপথ জলমগ্ন থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার বিপর্যয়ের পাশাপাশি লোকজন পানিবন্ধি রয়েছেন। এছাড়াও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বসতঘরে পানি প্রবেশ করায় হাঁস, মোরগ, গরু, ছাগল ও ধান নিয়ে পড়ছেন মহা বিপাকে।

কলকলিয়া ইউনিয়নের কামারখাল , কান্দারগাঁও , জগদীশপুর ,শ্রীধরপাশা এবং চিলিাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের স্বজনশ্রী , ইসমাইলচক, বাউধরণ , ভুরাখালি , বেতাউকা, দাসনোয়াগাঁও, গোপরাপুর, সালদিঘা গ্রাম সহ পৌর শহরের জগন্নাথপুর , বাড়ি জগন্নাথপুর, বাদাউড়া, শেরপুর সহ অর্ধশতাধিক গ্রাম ও পাড়া মহল্লার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

এসব এলাকার গ্রামীন সড়ক ,সেতু, কার্লভাট ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে উপজেলা সদরের সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র খোলা রাখা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুল আলম মাসুম জানান,

বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। কুশিয়ারা ও নলজুর নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে । ১টি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নে বন্যায় সহস্রাধিক ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

যে কারণে মূর্খ-অশিক্ষিতরাও ‘সাংবাদিকতা’ পেশায়

এম সুজন আকন: আমার মনে হয় মূর্খ আর অশিক্ষিত মানুষদের ‘সাংবাদিক’ পরিচয় দেয়াটা একটি লক্ষণ মাত্র, এটি হচ্ছে- দক্ষ ও শিক্ষিত সাংবাদিকদের অদক্ষতার ফসল।এর আরও বহু কারণ রয়েছে। একজন সাংবাদিক আরেকজনকে ঘায়েল করতে মূর্খদের দলে টেনে দল ভারী করে। মূর্খদের দলে টেনে শিষ্য বানিয়ে নিজেকে গুরু হিসেবে জাহির করে। দল-বল নিয়ে ভেড়ার পাল সাজিয়ে ধান্দাবাজিতে যাওয়াসহ সিনিয়রদের নানা অদক্ষতার কারণে মূর্খরা এ পেশায় দিন দিন সংখ্যাগুরু হচ্ছে। কথাগুলোর প্রমাণ চাইলে খোঁজ নিয়ে দেখবেন সব মূর্খদের এ পেশায় আসার পেছনে কোন না কোন সিনিয়র বা দক্ষ ও শিক্ষিত সাংবাদিকেরই অবদান বেশি।

সম্প্রতি আমার গ্রামের এক ছোট ভাই এসে বললো, ‘ভাই আপনিতো সাংবাদিকতায় কাজ করেন, আমাকে একটা সাংবাদিকতার কার্ড করে দেন’। সেদিন আমার খুব লজ্জা আর ক্ষোভ জমেছিলো মনে। এই পেশাটা কি এতটাই সহজ যে যিনি এসএসসি পাসও করেনি তিনি আমাকে বলে বসলেন, একটা সাংবাদিকতার কার্ড করে দিন। একটা আইডি কার্ড থাকলেই কি ‘সাংবাদিক’ হওয়া যায়? সাংবাদিকতা করতে কি কোন শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন নেই?

মনে ক্ষোভ নিয়ে গ্রামের ছোট ভাইকে বললাম- ‘কোন অ্যাডভোকেটের কাছে গিয়েছিলে তুমি? তাকে বলেছিলে যে, ভাই আমাকে একটা কার্ড করে দেন, ‘ওকালতি’ করবো। এত পেশা থাকতে সাংবাদিকতা কেন তোমার পছন্দ?’ উদাহরণ টেনে সে বলে- ‘অনেকেই তো করেন এটা! কিছু টাকা খরচ করে কার্ড করেছে, এখন তিনিও তো সাংবাদিক!’

বুঝতে আর বাকি রইলো না ব্যর্থতা আমাদেরও রয়েছে, যাই হোক বুঝিয়ে বললাম ‘ভাই আগে পড়ালেখা শেষ করো, সাংবাদিকতা করতে চাইলে আগে এ বিষয়ে জানো। তারপর এ পেশায় এসো।’ মূর্খদের সাংবাদিকতায় আসার পেছনে শুধু সিনিয়র সাংবাদিকদেরই আমি দায়ি করবো না, এখানে মিডিয়ার মালিক কর্তৃপক্ষও কম দায়ি নয়।

অনেক টিভি কর্তৃপক্ষকে দেখা যায়, বহু ‘টেকনিক’ শিখে গেছেন তারা। প্রথম শ্রেণির টিভি চ্যানেলগুলো এক জেলায় একজন ‘জেলা প্রতিনিধি’ নিয়োগ দিয়ে থাকেন। এবং তারা যতটুকু সম্ভব বেতন ভাতাও দেন। কিন্তু কিছু ভুঁইফোড় ‘টিভি চ্যানেল’ প্রতিটি জেলায় দুই থেকে চারজনও প্রতিনিধি নিয়োগ দিচ্ছে। উপজেলা প্রতিনিধি তো আছেই।

তারা ইতোমধ্যেই জেলা প্রতিনিধি (উত্তর), জেলা প্রতিনিধি (দক্ষিণ) ও জেলা সদর প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়ে আসছেন। হয়তো আগামীতে তারা জেলা প্রতিনিধি (পশ্চিম), জেলা প্রতিনিধি (পূর্ব), জেলা প্রতিনিধি (উত্তর কোণ), জেলা প্রতিনিধি (দক্ষিণ কোণ), জেলা প্রতিনিধি (পশ্চিম কোণ), জেলা প্রতিনিধি (পূর্ব কোণ), জেলা প্রতিনিধি (স্পেশাল), জেলা প্রতিনিধি (স্টাফ), জেলা প্রতিনিধি (ক্রাইম), জেলা প্রতিনিধি (ব্যুারো) সহ আরো কত যে পদে নিয়োগ দেবেন তা একমাত্র আল্লাহই জানেন।

এই যে বিভিন্ন পদে তারা জেলা-উপজেলায় নিয়োগ দিচ্ছেন তাদের কি শুধু শুধুই নিয়োগ দিচ্ছেন? আপনি হয়তো জানেন না। তবে আমি নিশ্চিত তারা কিন্তু বিনে পয়সায় নিয়োগকর্ম চালায় না। প্রথম শ্রেণির টিভি চ্যানেলের মত তাদের আবার বেতন ভাতা দেয়ার ঝামেলাও নেই।

নিয়োগ দিয়ে শুধু একটাই উপদেশ তারা দেন তা হলো- ‘নাও আর যাও। বাবা, কামাই করে খাও’। এসব নিয়োগ বাণিজ্য হয়তো মফস্বলের সিনিয়র সাংবাদিকদের থামানোর ক্ষমতা নাও থাকতে পারে। তাহলে প্রশ্ন ওঠে তাদের করণীয় কি?

আমি মনে করি প্রতিটি জেলা-উপজেলার সিনিয়র সাংবাদিকদেরই এ সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে। প্রেসক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়ন, রিপোর্টার্স ইউনিটিসহ সাংবাদিকদের সকল সংগঠনকে এক হয়ে এর সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। না হলে হয়তো মফস্বল সাংবাদিকতাও কুলি, দিনমজুর, গরুর দালাল, থানার দালাল, জমির দালালসহ মূর্খ আর অশিক্ষিত মানুষদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে।

লেখক: কলামিস্ট-সাংবাদিক ।