ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ নীতিমালার খসড়া ক্ষমতা খর্ব ইসি কর্মকর্তার, বাড়ছে ডিসি এসপির

 

ডেস্ক রিপোর্ট ঃ   দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা (প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং) বাছাই ও প্যানেল তৈরির কার্যক্রমে নিজস্ব লোকবলের এখতিয়ার কমিয়ে দিচ্ছে ইসি। এ কার্যক্রমে যুক্ত করা হচ্ছে জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), ওসিসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের।

জেলা পর্যায়ে ডিসির নেতৃত্বে সাত/ছয় সদস্য এবং উপজেলা পর্যায়ে ইউএনও’র নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটি এ কার্যক্রম পরিচালনা করবে। সদস্য সচিব হিসাবে সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্মকর্তারা।
বৃহস্পতিবার (১৭ আগষ্ট) নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব নিয়ম অন্তর্ভুক্ত করে ‘ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্যানেল প্রস্তুত ও নিয়োগ নীতিমালা’ খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশনের এ সংক্রান্ত কমিটি।

আগামী সোমবার অনুষ্ঠেয় নির্বাচন কমিশনের ২২তম সভায় এটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার জন্য বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে রাখা হয়েছে।

সেখানে অনুমোদন পেলে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এ নীতিমালা কার্যকর হলে জাতীয় সংসদের মতো একই পদ্ধতিতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের (সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচনেও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ হবে।

সংশ্লিষ্ট জানা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

আরও জানা গেছে, এর আগেও ইসির কর্মকর্তাদের এখতিয়ার কমিয়ে একাধিক নীতিমালা ও প্রজ্ঞাপন জারি করে বর্তমান কমিশন।

এই মুহূর্তে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণের যে কাজ চলমান, সেই কার্যক্রমের নীতিমালাতে কয়েক দিন আগে ডিসি, এসপি, ইউএনও, ওসিসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের যুক্ত করা হয়। খর্ব করা হয় ইসি কর্মকর্তাদের একক ক্ষমতা।

স্থানীয় প্রশাসক দিয়ে ভোটকেন্দ্রের খসড়া তৈরি করতে গিয়ে গলদগর্ম হয়েছে কমিশন।

খসড়া প্রকাশের দিনেও বিভিন্ন জেলায় মিটিংয়ের পর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে এ পর্যন্ত যে সংখ্যক ভোটার বেড়েছে, সেই হারে ভোটকেন্দ্র বাড়েনি, বেড়েছে ভোটকক্ষ। খসড়ায় ৫.৪৭ শতাংশ ভোটকেন্দ্র বেড়েছে এবং ভোটকক্ষ বেড়েছে ২৬.২২ শতাংশ; যা অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন ইসির সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা।

যদিও নীতিমালায় গড়ে তিন হাজার ভোটারের জন্য একটি কেন্দ্র নির্ধারণের কথা উল্লেখ রয়েছে।

এছাড়া সর্বশেষ অনুষ্ঠিত গাজীপুর, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের এখতিয়ার ও ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া হয়।

বর্তমান কমিশনের অধীনে ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ‘ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম’ এবং ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল’র প্রধান ছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। রংপুর সিটি নির্বাচন উপলক্ষ্যে জারি করা পরিপত্র-৪ এ ওই দায়িত্ব থাকার কথা উল্লেখ ছিল।

সর্বশেষ অনুষ্ঠিত গাজীপুর, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল’র প্রধানের দায়িত্ব ইসির কর্মকর্তার বদলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের দিয়ে পরিপত্র জারি করে ইসি।

ওই পরিপত্রে ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমের কার্যক্রমও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে সমন্বয় করে করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এভাবে একের পর এক ক্ষমতা কমানোর ঘটনায় ইসির কর্মকর্তাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

নাম গোপন রাখার শর্তে ইসির কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসাবে ডিসি, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসাবে ইউএনও এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এমনিতেই নির্বাচনের সার্বিক দায়িত্বে থাকেন।

এখন তফসিল ঘোষণার আগেও প্রস্তুতিমূলক কাজে তাদের সম্পৃক্তা বাড়ানো হচ্ছে।

তারা বলেন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে অংশীজনরা ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বাড়ানোর সুপারিশ করেছেন।

এমনকি আগামী নির্বাচনে নিজস্ব কর্মকর্তাদের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। অথচ নির্বাচন কমিশন ওই সুপারিশের বিপরীতে গিয়ে নিজস্ব কর্মকর্তাদের ক্ষমতা ও এখতিয়ার কমিয়ে দিচ্ছেন।

শুধু তাই নয়, নানাভাবে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের চাপের মধ্যে রাখা হয়েছে। কেউ কোনো বিষয়ে ভিন্নমত দিলে তাকে বদলিসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ইসির কর্মকর্তাদের এখতিয়ার কমানো নয় বরং সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশন সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম।

শুক্রবার তিনি  বলেন, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার প্যানেল তৈরির নীতিমালা হালনাগাদ করা হচ্ছে। এটি কমিশনে তোলা হবে।

ওই সভায় কী পাশ হবে, তা আগভাগেই বলা যাচ্ছে না। এ নীতিমালার মাধ্যমে ইসি কর্মকর্তাদের ক্ষমতা কমানো হচ্ছে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কী কখনো কেউ একা করতে পারে।

সবাইকে নিয়ে নির্বাচন করতে হয়। এখানে কারও ক্ষমতা কেউ নিচ্ছে না। সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা আছে।

জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমানের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের প্যানেল প্রস্তুত ও তদারকিসংক্রান্ত কমিটির বৈঠক নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত হয়।

ওই বৈঠকে ‘ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার প্যানেল প্রস্তুত ও নিয়োগ নীতিমালা’র খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের যোগ্যতার বিষয়ে বিদ্যমান নীতিমালার সঙ্গে মিল রাখা হয়েছে নতুন নীতিমালায়। এতে নবম বা তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তাকে প্রিজাইডিং, ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তাকে সহকারী প্রিজাইডিং এবং ১১ থেকে ১৬তম গ্রেডের কর্মচারীদের পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে।

তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে অন্য গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এসব পদে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে কোনোক্রমেই জাতীয় বেতন স্কেলের ১৭-২০ গ্রেডের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার দায়িত্ব না দেওয়ার জন্য বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের তথ্য ডাটাবেজে সংরক্ষণ করার কথাও বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রিজাইডিং কর্মকর্তারাই মূলত ভোটকেন্দ্রের প্রধান অভিভাবক থাকেন। ভোটের পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলে তারা চাইলে নির্বাচন স্থগিত করারও ক্ষমতা রাখেন।

সম্প্রতি সারা দেশে ভোটকেন্দ্রের খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। এই খসড়াই চূড়ান্ত হিসাবে ধরা হলে আগামী নির্বাচনে ৪২ হাজার ৩৮০ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, দুই লাখ ৬১ হাজার ৬৬৮ জন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা এবং পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ৩৩৬ জন পোলিং অফিসার প্রয়োজন হবে।

ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা বাছাইয়ে যে ভূমিকা থাকবে প্রশাসনের : নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে এবং বিদ্যমান ও নতুন নীতিমালা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বিগত কয়েক নির্বাচনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্যানেল এককভাবে তৈরি করে আসছেন নির্বাচন কমিশনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

তফসিল ঘোষণার পর রিটার্নিং কর্মকর্তা ওই প্যানেল থেকে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে আসছেন। নতুন নীতিমালায় ওই পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এতে ভোটকেন্দ্র নীতিমালায় উল্লেখ করা কমিটিকেই ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ওই হিসাবে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার প্যানেল তৈরিতে জেলা পর্যায়ের কমিটির আহ্বায়ক থাকবেন ডিসি।

তার নেতৃত্বাধীন কমিটিতে থাকবেন বিভাগীয় কমিশনারের প্রতিনিধি, পুলিশ সুপার, সংশ্লিষ্ট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের প্রতিনিধি, জেলা শিক্ষা অফিসার ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার।

ওই কমিটিতে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। অপর দিকে উপজেলা পর্যায়ের কমিটির আহবায়ক হবেন ইউএনও।

তার নেতৃত্বাধীন কমিটি সদস্যরা হলেন-উপজেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও অফিসার ইন-চার্জ (ওসি)। এ কমিটির সদস্য সচিব হবেন উপজেলা বা থানা নির্বাচন কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে খসড়া নীতিমালার ৩.২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ইসির নিজস্ব কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট ছকে সম্ভাব্য ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের তথ্য সংগ্রহ করে কমিটির কাছে উপস্থাপন করবেন। কমিটি ওই তথ্য বিচার-বিশ্লেষণ করে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য তালিকা চূড়ান্ত করবে এবং নিজস্ব তথ্যভাণ্ডারে সংরক্ষণ করবে।

কমিটি নির্দিষ্টসংখ্যক ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার বাইরে আরও ৫০ ভাগ বেশি সংখ্যক যোগ্য ব্যক্তিকেও প্যানেলের অন্তর্ভুক্ত করবে। তবে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে প্রয়োজনীয়সংখ্যক কর্মকর্তার অতিরিক্ত ১০ শতাংশ ব্যক্তিকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির একজন কর্মকর্তা বলেন, অনেক সময়ে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের অনেকেই ছুটি, অসুস্থ বা অবসরে যান। আবার অনেকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ওঠে।

কেউ কেউ দায়িত্ব পালনেও অপরাগতা প্রকাশ করেন। এসব বিবেচনায় বেশিসংখ্যক কর্মকর্তাকে প্যানেলে রাখার জন্য বলা হয়েছে।

সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর তথ্য দিতে হবে ইসিকে : নতুন খসড়া নীতিমালায় নির্বাচনি এলাকার সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত দপ্তর ও সংস্থা এবং প্রতিষ্ঠানের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর তথ্য নির্বাচন কমিশনকে সরবরাহের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

ওইসব প্রতিষ্ঠান সঠিক তথ্য দিয়েছে কি না-তা যাচাইয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর তথ্য না দিলে সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সহযোগিতা না করার দায়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

সূত্র জাতীয় দৈনিক

প্রশাসনে উপসচিব পদমর্যাদার ১৪ কর্মকর্তাকে বদলী

প্রশাসনে উপসচিব পদমর্যাদার ১৪ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। এদের মধ্যে আটজনকে নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এ নিয়ে গত পাঁচ দিনে ২৮ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দিলো সরকার।

সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখার উপসচিব ভাস্কর দেবনাথ বাপ্পি স্বাক্ষরিত আলাদা দুইটি প্রজ্ঞাপনে আরও আট জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগের তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব মো. শামীম হাসানকে মেহেরপুর জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে বদলি করা হয়েছে। আর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক আব্দুল্লাহ আল খায়রুমকে শেরপুরের ডিসি, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপসচিব মো. ইমরান আহমেদকে জামালপুরের, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মো. আবু জাফর রিপনকে মুন্সীগঞ্জের, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসানকে রংপুরের, রেহেনা আক্তারকে মানিকগঞ্জের, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর উপপ্রকল্প পরিচালক মো. মাহমুদুল হককে নারায়ণগঞ্জের এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রাণলয়ের উপসচিব কিসিঞ্জার চাকমাকে চুয়াডাঙ্গার ডিসি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, চুয়াডাঙ্গার ডিসি মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খানকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে। আর মানিকগঞ্জের ডিসি মুহাম্মদ আব্দুল লতিফকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উপসচিব, শেরপুরের ডিসি সাহেলা আক্তারকে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে, রংপুরের ডিসি চিত্র লেখা নাজনীনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে, জামালপুরের ডিসি শ্রাবন্তী রায়কে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে এবং মেহেরপুরের ডিসি মোহাম্মদ আজিজুল ইসলামকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

এর আগে গত ৬ জুলাই ঢাকাসহ ১০ জেলার ডিসি রদবদল করা হয়। তিন দিনের ব্যবধানে ৯ জুলাই আরও ১০ জেলার ডিসি রদবদল করা হয়।

ডিবি পুলিশের জালে দুদক কর্মকর্তা সহ আটক ৪

ডেস্ক রিপোর্ট ঃ- ফাঁদ পেতে দুদকের এক কর্মকর্তাকে ঘুষ লেনদেনের সময় গ্রেপ্তার করেছেন গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেপ্তারকৃত গৌতম ভট্টাচার্য্য (৪২) দুদকের এক মহাপরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশিদ।

শুক্রবার গ্রেপ্তারের পর আজ শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে জানান হয়।

মতিঝিলের একটি হোটেলে টাকা লেনদেনের সময় গৌতমকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান হারুন।

তার সঙ্গে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন হাবিবুর রহমান (৪২), পরিতোষ মন্ডল (৬৩) এবং এসকেন আলী খান (৫৭)। এসকেন আলী চাকরিচ্যুত পুলিশ কনস্টেবল। অন্য দুজন দালাল।

এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অর্থ দাবির পর গৌতমকে ধরতে ফাঁদ পেতেছিল ডিবি।

হারুন বলেন, দুদক কর্মকর্তাদের সই জাল করে বায়তুল মোকাররম মার্কেটের ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের একটি চিঠি তৈরি করে তা নথিভুক্ত না করার আশ্বাস দিয়ে গৌতম ২ কোটি টাকা দাবি করেন।

“পুরো বিষয়টি ভূয়া। দুদকের প্যাডে একটি ভূয়া চিঠি দিয়ে বলা হয়, তিনি (ওই ব্যবসায়ী) অবৈধভাবে সম্পদ গড়েছেন।”

ওই ব্যবসায়ী ঘটনাটি ডিবি পুলিশকে জানান। ডিবি তদন্ত করে জানতে পারে যে, বিষয়টি ভুয়া। তখন আগের কথা মতো ওই ব্যবসায়ীকে ২০ লাখ টাকা দিয়ে পাঠানো হয় মতিঝিলের একটি হোটেলে।

“এরপরই পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে গৌতমসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়,।

একজন সাংবাদিককে অবশ্যই গ্র্যাজুয়েট হতে হবে: বিচারপতি নাসিম

একজন সাংবাদিককে অবশ্যই গ্র্যাজুয়েট হতে হবে: বিচারপতি নাসি
ডেস্ক রিপোর্ট ঃ
বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. নিজামুল হক নাসিম বলেছেন, ‘একজন সাংবাদিককে অবশ্যই গ্র্যাজুয়েট হতে হবে।

তারপর তিনি প্রেস কাউন্সিলে আবেদন করবেন। আমরা যাচাই-বাছাই করে তাকে সনদ দেব। তারপর তিনি সাংবাদিক হবেন। সাংবাদিক পরিচয় দিতে হলে প্রেস কাউন্সিলের সনদ লাগবে।’

বৃহস্পতিবার (২২ জুন) গাজীপুর সার্কিট হাউস মিলনায়তনে প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট ১৯৭৪ ও প্রেস কাউন্সিল প্রণীত সাংবাদিকদের জন্য আচরণবিধি প্রতিপালন শীর্ষক সেমিনার ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘তবে বর্তমানে যারা এ পেশায় রয়েছেন, তাদের মধ্যে যদি কারও গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি না থাকে, তাহলে তাকে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা সনদ দাখিল করতে হবে।

নতুন নীতিমালায় এ রমকই বিধান রাখা হয়েছে। এটি এখন সংসদীয় কমিটিতে আছে।’

বিচারপতি মো. নিজামুল হক নাসিম বলেন, ‘প্রস্তাবিত আইন প্রণীত হলে গ্র্যাজুয়েশন ছাড়া নতুন কোনো ব্যক্তি সাংবাদিকতায় আসবে না।

আর এখন যারা আছেন তাদের মধ্যে পাঁচ বছরের কম অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কোন সাংবাদিক থাকবেন না। সাংবাদিক পরিচয় দিতে হলে প্রেস কাউন্সিলের সনদ লাগবে।

ফলে আশা করা যায়, সাংবাদিকতা পেশাগত মান উন্নয়ন হবে।’

প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই নীতিমালা করার পর সব জেলা প্রশাসককে নিজ নিজ জেলায় পত্রিকায় কর্মরত সাংবাদিকদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে আমাদের কাছে পাঠানোর জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।

আমরা ইতিমধ্যে এক বছরে ২২টি জেলা থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়েছি। এসব তথ্য দিয়ে আমরা ডেটাবেইস তৈরি করছি। আশা করছি, অন্য জেলাগুলো থেকেও দ্রুত তথ্য পাওয়া যাবে।

ডেটাবেইস তৈরি করার পর প্রত্যেকের ব্যক্তিগত তথ্য আমরা সন্নিবেশিত করব।’

সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও সাগর–রুনি হত্যার বিচারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে কিছু করতে পারলে খুবই ভালো হতো।

বিশেষ করে সেদিন নাদিম চলে গেল, বেশ কিছু বছর আগে সাগর–রুনি চলে গেছে। একটি কেস (মামলা) ৯৯ বার টাইম (সময়) পৌঁছানো হবে, তদন্ত শেষ হবে না-এটি দেখতেও খারাপ লাগে, শুনতেও খারাপ লাগে।’

বিচারপতি নাসিম বলেন, ‘আইনে আছে হত্যা মামলায় ১২০ দিনের মধ্যে তদন্তকাজ শেষ করতে হবে।

১২০ দিনে বড়জোর চার থেকে পাঁচটা তারিখ পড়তে পারে। এখানে ৯৯টি তারিখ পড়ে গেছে, এখনো তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ-তারা তদন্ত শেষ করতে পারেনি, ফলে বিচার শুরু হয়নি!’

তিনি বলেন, ‘এটাকে কি বলব, শুধু দুর্ভাগ্যই বলব এর বেশি কিছু আমার বলার নেই।’

পরে তিনি বলেন, ‘আমি আশা করব, ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।

সাগর–রুনির মামলার মতো দ্বিতীয় আর কোনো মামলার ঘটনায় যেন এ রকমটি না ঘটে-এটি আমার প্রত্যাশা।’

তিনি বলেন, ‘পত্রপত্রিকায় দেখেছি জামালপুরের নাদিম খুন হয়েছেন। বিষয়টি আমাকে ব্যথিত করেছে। আমি চাইব কে দোষী কে দোষী না, সেটি বিষয় নয়, যে দোষী তার যেন দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক বিচার হয়, সেটি আমি চাইব।’

সাংবাদিকদের বেতন–ভাতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের বেতন–ভাতার ব্যাপারটি নিশ্চিত হওয়া দরকার।

ইলেকট্রনিক কিংবা প্রিন্ট মিডিয়ায়।

মালিকদের উচিত ওয়েজ বোর্ড মেনে নিয়ে বেতন ভাতা প্রদান করা।

আমি আমার সাংবাদিকদের বেতন দেব, আমি তাদের ঠকাব কেন? তার দ্বারা কাজ আদায় করছি, তার দ্বারা সমাজের সম্মান পাচ্ছি, সেই কারণে আমার উচিত সাংবাদিকদের মূল্যায়ন করা।’

গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য দেন গাজীপুর মহানগর পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার ফাহিম আশজাদ।

সঞ্চালনায় করেন জেলা তথ্য কর্মকর্তা ওবায়দুল কবির।

আরও বক্তব্য দেন–বাংলাদেশ বেতারের গাজীপুর প্রতিনিধি মাসুদুল হক, এটিএন বাংলার মাজহারুল হক মাসুম, আজকের পত্রিকার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, ডিবিসি নিউজের মাহমুদা শিকদার, এশিয়ান টিভির আরিফ হোসেন আবির, অবজারভারের মোসাদ্দেক আলী, নিউ ন্যাশনের বাদামি বিপ্লব, দিনকালের মো. দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা ৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু;জগন্নাথপুর টুডে ডেস্ক

    জটুডে ডেস্কঃ-

     বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা আগামী ৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে।
আগামী ১৯ ডিসেম্বর বার্ষিক বা তৃতীয় প্রান্তিক পরীক্ষা শেষ হবে। এ পরীক্ষার প্রশ্ন হবে ক্লাস্টারভিত্তিক। কম্পিউটার কম্পোজড প্রশ্ন ফটোকপি করে শিক্ষার্থীদের সরবরাহ করতে হবে।
৬০ নম্বরের বার্ষিক পরীক্ষার সঙ্গে ক্লাস টেস্টের ৪০ নম্বর যোগ করে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতির প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে শিক্ষকদের।

পরীক্ষার জন্য অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি নেয়া যাবে না। পরীক্ষার খাতা ও প্রশ্ন ফটোকপি করে স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের সরবরাহ করবে, এর ব্যায় নির্বাহ করা হবে স্কুলের বাজেটের আনুষাঙ্গিক খাত থেকে।

এভাবেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। রোববার এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

পরীক্ষার রুটিন :
জানা গেছে, সকাল নয়টা থেকে বেলা এগারোটা এবং বেলা সাড়ে এগারোটা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত দুই শিফটে পরীক্ষা নেয়া হবে।
৮ ডিসেম্বর সকাল ৯ নয়টা থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ইংরেজি পরীক্ষা ও বেলা সাড়ে ১১টা থেকে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ইংরেজি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

১১ ডিসেম্বর সকাল নয়টা থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির গণিত ও বেলা সাড়ে ১১টা থেকে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী গণিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

১২ ডিসেম্বর সকাল নয়টা থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বাংলা ও বেলা সাড়ে ১১টা থেকে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির বাংলা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

১৩ ডিসেম্বর সকাল নয়টা থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সমাজ ও বিজ্ঞান এবং ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা এবং বেলা সাড়ে ১১টা থেকে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

আগামী ১৮ ডিসেম্বর সকাল নয়টা থেকে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা ও বেলা সাড়ে ১১টা থেকে এসব শ্রেণির চারু ও কারুকলা, সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

আর ১৯ ডিসেম্বর সকাল নয়টা থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চারু ও কারুকলা, সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের ও বেলা সাড়ে ১১টা থেকে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

পরীক্ষা যেভাবে :
পরীক্ষা আয়োজনের পদ্ধতি নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বলছে, প্রতি শ্রেণিতে প্রতি বিষয়ে পূর্ণমান ৬০ নম্বরের মধ্যে বার্ষিক মূল্যায়ন সম্পন্ন করতে হবে। সহকারী উপজেলা বা থানা শিক্ষা অফিসারের তত্ত্বাবধানে বিষয় শিক্ষকের মাধ্যমে জ্ঞান, অনুধাবন ও প্রয়োগমূলক শিখনক্ষেত্র বিবেচনায় ক্লাস্টারভিত্তিক প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করতে হবে।

মূল্যায়ন কার্যক্রম সম্পন্নের জন্য শিক্ষার্থী বা অভিভাবকদের কাছ থেকে কোনো ফি গ্রহণ করা যাবে না। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী প্রশ্নপত্র কম্পিউটার কম্পোজ করে ফটোকপি করতে হবে।
প্রশ্নপত্র ফটোকপি ও উত্তরপত্রসহ (খাতা) আনুষাঙ্গিক ব্যয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের আনুষাঙ্গিক খাত বা স্লিপ ফান্ড থেকে ব্যয় নির্বাহ করতে হবে।

প্রয়োজনে আগামী বাজেট থেকে সমন্বয় করা যাবে।
অধিদপ্তর আরও বলছে, কোনো অবস্থাতেই প্রশ্নপত্র ছাপাখানায় মুদ্রণ করা যাবে না।

প্রত্যেকটি বিষয়ে শ্রেণি মূল্যায়নের প্রাপ্ত নম্বর এবং চূড়ান্ত প্রান্তিকের প্রাপ্ত নম্বর যোগ করে ২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের অগ্রগতির প্রতিবেদন প্রণয়ন করতে হবে এবং অভিভাবকদের অবহিত করতে হবে।

কোনো বিশেষ পরিস্থিতির জন্য মূল্যায়নের তারিখ ও সময়সূচি পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে থানা বা উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সিদ্ধান্তে তারিখ ও সময় পুননির্ধারণ করা যাবে।

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল ২৮ থেকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী ২৮ থেকে ৩০ নভেম্বরের যেকোনো একদিন প্রকাশ হতে পারে। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি তপন কুমার সরকার আজ বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, শিক্ষা বোর্ডগুলোর পক্ষ থেকে এই তিন দিনের মধ্যে যেকোনো একদিন ফল প্রকাশের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেদিন সময় দিতে পারবেন, সেদিন ফল প্রকাশ করা হবে।

কমনওয়েলথের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, রানির স্মৃতি উজ্জল রাখার আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কমনওয়েলথ থেকে প্রয়াত রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের স্মরণে যথাযথ কিছু করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কয়েক বছর ধরে ফোরামে তার নিবেদিত সেবা স্মরণে থাকে।

শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) কমনওয়েলথ মহাসচিব প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড কিউসি লন্ডনে শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত রানীকে ‌‘মাতৃতুল্য ব্যক্তিত্ব’ হিসাবে অভিহিত করেছেন এবং রানীর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত স্মৃতি স্মরণ করেছেন।
কমনওয়েলথ মহাসচিব কমনওয়েলথের প্রতি তার অঙ্গীকারের জন্য রানীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
কমনওয়েলথের নতুন প্রধান হিসেবে রাজা তৃতীয় চার্লস এই উত্তরাধিকারকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন বলেও তিনি আস্থা প্রকাশ করেন।

চলতি বছরের জুনে রুয়ান্ডায় কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের বৈঠকে মহাসচিব পদে প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড পুনরায় নির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তাকে অভিনন্দন জানান।
মহাসচিব নারীর ক্ষমতায়ন, শিশু উন্নয়ন, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং সহিংস চরমপন্থা মোকাবিলায় শেখ হাসিনার অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি কোভিড-১৯ মহামারী সফলভাবে মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, কমনওয়েলথ সদস্য রাষ্ট্রগুলি সেই সঙ্কটের সময় যথেষ্ঠ আরও ভালো করেছিল যেগুলির নেতৃত্বে নারীরা রয়েছেন বা পরিচালনা প্রক্রিয়ায় নারীরা সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে কমনওয়েলথ পরিবারের নারী নেতৃত্ব তুলে ধরার বিষয়ে মহাসচিবের পরামর্শে প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক সাড়া দেন।

তিনি আগামী বছর স্মারক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘শান্তির বছর’ এবং ‘যুব বছর’ পালনের জন্য কমনওয়েলথের সঙ্গে অংশীদারিত্বের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মহাসচিব প্রকৃতি সংরক্ষণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের কাজের উল্লেখ করেন এবং কমনওয়েলথের ‘লিভিং ল্যান্ডস’ উদ্যোগে নেতৃত্ব প্রদর্শনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান।
তিনি সংস্থার ‘ব্লু চার্টার’ উদ্যোগের সঙ্গে বাংলাদেশের নেতৃত্বের সম্পৃক্ততার কথাও স্মরণ করেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কমনওয়েলথের অর্থনৈতিক উন্নয়ন কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশের সক্রিয় পদচিহ্নের সঙ্গে ব্যবসা ক্ষেত্রে সংযোগের উন্নয়নে কাজ করায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া এবং যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম।

দেশে করোনায় ২৬৪ জনের মৃত্যু

টুডে ডেস্ক:-

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ২৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২১ হাজার ৯০২ জনে। এটিই দেশে একদিনে করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু। এর আগে ২৭ জুলাই দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ হাজার ৭৪৪ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৩ লাখ ২২ হাজার ৬৫৪ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬ হাজার ৫২২ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হলেও এদিন পরীক্ষা করা হয়েছে ৪৬ হাজার ৯৯৫টি নমুনা। যেখানে শনাক্তের হার ২৭ দশমিক ১২ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্তের মোট হার ১৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, একদিনে নতুন করে সুস্থ হয়েছেন ১৫ হাজার ৭৮৬ জন। এ নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা ১১ লাখ ৫৬ হাজার ৯৪৩ জন।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মারা যাওয়া ২৬৪ জনের মধ্যে ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে তিনজন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১৫ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৫০ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৭৪ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৫৯ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩১ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ২৫ জন ও ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৫ জন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে একজন ও ১০ বছরের নিচে একজন রয়েছে।

করোনায় আজও মৃত্যু ২৪১ জন, শনাক্ত প্রায় ১৪ হাজার২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে পুরুষ ১৪০ জন ও মহিলা ১২৪ জন। যাদের মধ্যে বাসায় ১৯ জন ছাড়া বাকিরা হাসপাতালে মারা গেছেন। একই সময়ে বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৮৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৯ জন, খুলনা বিভাগে ৩৫ জন, বরিশাল বিভাগে ১৬ জন, সিলেট বিভাগে ২৩ জন, রংপুর বিভাগে ১৮ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১০ জন মারা গেছেন।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

করোনায় আরও ২১৮ জনের মৃত্যু

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে আরও ২১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২০ হাজার ৬৮৫ জনে। এর আগে ২৭ জুলাই দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছিলো।

শনিবার (৩১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৯ হাজার ৩৬৯ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১২ লাখ ৪৯ হাজার ৪৮৪ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৩০ হাজার ৯৭৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তবে পরীক্ষা করা হয়েছে ৩০ হাজার ৯৮০টি নমুনা। যেখানে শনাক্তের হার ৩০ দশমিক ২৪ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্তের মোট হার ১৬ দশমিক ১৪ শতাংশ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, একদিনে নতুন করে সুস্থ হয়েছেন ১৪ হাজার ১৭ জন। এ নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা ১০ লাখ ৭৮ হাজার ২১২ জন।

No description available.বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মারা যাওয়া ২১৮ জনের মধ্যে ১০০ বছরের বেশি বয়সী দুইজন, ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে চারজন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১৫ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৩৩ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৬৬ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৩৭ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩৭ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১৭ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ছয়জন ও ১০ বছরের কম বয়সী একজন রয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে পুরুষ ১৩৪ জন ও মহিলা ৮৪ জন। যাদের মধ্যে বাসায় ১৩ জন ছাড়া বাকিরা হাসপাতালে মারা গেছেন। একই সময়ে বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৬৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ২২ জন, খুলনা বিভাগে ২৭ জন, বরিশাল বিভাগে ১০ জন, সিলেট বিভাগে ৯ জন, রংপুর বিভাগে ১৬ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১২ জন মারা গেছেন।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২০ হাজার ১৬ জন

টুডে ডেস্ক:-

দেশে করোনা ভাইরাস দিন দিন মহামারি আকার ধারণ করছে। প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ভাইরাসটির শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে আরও ২৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২০ হাজার ১৬ জনে। এর আগে গতকাল ২৭ জুলাই দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছিলো।

বুধবার (২৮ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৩০ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১২ লাখ ১০ হাজার ৯৮২ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৬ হাজার ১৫৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তবে দেশের ইতিহাসে একদিনে সর্বোচ্চ পরীক্ষা করা হয়েছে ৫৩ হাজার ৮৭৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। যেখানে শনাক্তের হার ৩০ দশমিক ১২ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্তের মোট হার ১৫ দশমিক ৯১ শতাংশ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, একদিনে নতুন করে সুস্থ হয়েছেন ১৩ হাজার ৪৭০ জন। এ নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা ১০ লাখ ৩৫ হাজার ৮৮৪ জন।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মারা যাওয়া ২৩৭ জনের মধ্যে ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে একজন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১৫ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৪৫ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৭৮ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৪৪ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩৪ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১১ জন ও ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৯ জন রয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে পুরুষ ১৪৯ জন ও মহিলা ৮৮ জন। যাদের মধ্যে বাসায় ১৩ জন ছাড়া বাকিরা হাসপাতালে মারা গেছেন। একই সময়ে বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৭০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬২ জন, রাজশাহী বিভাগে ২১ জন, খুলনা বিভাগে ৩৪ জন, বরিশাল বিভাগে ৯ জন, সিলেট বিভাগে ১৮ জন, রংপুর বিভাগে ১৬ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে ৯ জন মারা গেছেন।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।