১২:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বাধীনতার রূপকার সিরাজুল আলম খানের তৃতীয় প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

  • Update Time : ০৫:২৩:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
  • / 16

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
স্বাধীনতার রূপকার সিরাজুল আলম খানের (দাদা ভাই) তৃতীয় প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে আজ এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘মুক্ত রাজনৈতিক আন্দোলন, কেন্দ্রীয় টিম’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় দেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, বুদ্ধিজীবী এবং সিরাজ অনুসারীরা অংশ নেন।
সভার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘১৪ দফাই আগামী বাংলাদেশ’। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে এই মূল দাবিটি উত্থাপন করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি স্বরূপ হাসান শাহীন।
১৪ দফার প্রাসঙ্গিকতা ও মূল বক্তব্য
আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে স্বরূপ হাসান শাহীন বলেন, “আজকে উন্নত জ্ঞানভিত্তিক মানবীয় রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সিরাজুল আলম খান এর ১৪ দফা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অভ্যন্তরীণ উপনিবেশ বা পরাধীনতা থেকে মুক্তির লক্ষ্যে রাজনৈতিক চর্চায় গুণগত পরিবর্তন আনা জরুরি। এর জন্য দরকার চিন্তার স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রে জনগণের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা। এই লক্ষ্যেই তাঁর প্রখ্যাত ‘১৪ দফা’ রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।
উক্ত ১৪ দফার প্রধান প্রধান সংস্কার প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে:

দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ: দেশের বিভিন্ন পেশাজীবী ও শ্রমজীবী মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে উচ্চকক্ষ গঠন।
ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ: দেশকে বিভিন্ন প্রদেশে বিভক্ত করে তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
শক্তিশালী স্থানীয় সরকার: উপজেলা ও স্থানীয় পর্যায়কে স্বশাসিত এবং শক্তিশালী করা।
অদলীয় রাজনীতির বিকাশ: দলীয় সংকীর্ণতা ও লেজুড়বৃত্তি দূর করে সমাজ শক্তিকে জাগ্রত করা।

অনুষ্ঠানের কার্যক্রম ও বক্তাদের উপস্থিতি
সভার শুরুতেই স্বাধীনতার অন্যতম প্রধান রূপকার সিরাজুল আলম খানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। অনুষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও গবেষক ডাঃ ম. রশীদ আহমেদ এবং সভাটি সঞ্চালনা করেন মোঃ শহীদুজ্জামান।
আলোচনায় অংশ নিয়ে অন্যান্য বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা—একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে সিরাজুল আলম খানের চিন্তাধারার কোনো বিকল্প নেই। তিনি আজীবন যে অদলীয় রাজনৈতিক দর্শনের কথা বলে গেছেন, তা বাস্তবায়ন করতে পারলেই দেশে টেকসই রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা আসবে।
উক্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আলোচনায় আরও অংশ নেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
মশিউর রহমান মসীন, ওরীণ সুলতানা শান্তা,মিল্টন হোসেন, আকাশ আহমেদ, এম. এ. আউয়াল
মোহাম্মদ হামিদুল হক। বক্তারা দেশের সব শ্রম, কর্ম, পেশা এবং নারী সংগঠনের নেতৃত্ববৃন্দকে এই সমাজভিত্তিক রাজনৈতিক আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৯ জুন দেশের প্রখ্যাত এই রাজনৈতিক চিন্তাবিদ ও দার্শনিক মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর থেকে প্রতি বছর তাঁর প্রয়াণ দিবস ও জন্মবার্ষিকীতে বিভিন্ন সংগঠন তাঁর রাজনৈতিক দর্শন ও ১৪ দফা রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা নিয়ে দেশব্যাপী নানামুখী কর্মসূচি পালন করে আসছে।

Please Share This Post in Your Social Media

স্বাধীনতার রূপকার সিরাজুল আলম খানের তৃতীয় প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

Update Time : ০৫:২৩:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
স্বাধীনতার রূপকার সিরাজুল আলম খানের (দাদা ভাই) তৃতীয় প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে আজ এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘মুক্ত রাজনৈতিক আন্দোলন, কেন্দ্রীয় টিম’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় দেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, বুদ্ধিজীবী এবং সিরাজ অনুসারীরা অংশ নেন।
সভার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘১৪ দফাই আগামী বাংলাদেশ’। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে এই মূল দাবিটি উত্থাপন করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি স্বরূপ হাসান শাহীন।
১৪ দফার প্রাসঙ্গিকতা ও মূল বক্তব্য
আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে স্বরূপ হাসান শাহীন বলেন, “আজকে উন্নত জ্ঞানভিত্তিক মানবীয় রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সিরাজুল আলম খান এর ১৪ দফা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অভ্যন্তরীণ উপনিবেশ বা পরাধীনতা থেকে মুক্তির লক্ষ্যে রাজনৈতিক চর্চায় গুণগত পরিবর্তন আনা জরুরি। এর জন্য দরকার চিন্তার স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রে জনগণের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা। এই লক্ষ্যেই তাঁর প্রখ্যাত ‘১৪ দফা’ রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।
উক্ত ১৪ দফার প্রধান প্রধান সংস্কার প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে:

দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ: দেশের বিভিন্ন পেশাজীবী ও শ্রমজীবী মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে উচ্চকক্ষ গঠন।
ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ: দেশকে বিভিন্ন প্রদেশে বিভক্ত করে তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
শক্তিশালী স্থানীয় সরকার: উপজেলা ও স্থানীয় পর্যায়কে স্বশাসিত এবং শক্তিশালী করা।
অদলীয় রাজনীতির বিকাশ: দলীয় সংকীর্ণতা ও লেজুড়বৃত্তি দূর করে সমাজ শক্তিকে জাগ্রত করা।

অনুষ্ঠানের কার্যক্রম ও বক্তাদের উপস্থিতি
সভার শুরুতেই স্বাধীনতার অন্যতম প্রধান রূপকার সিরাজুল আলম খানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। অনুষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও গবেষক ডাঃ ম. রশীদ আহমেদ এবং সভাটি সঞ্চালনা করেন মোঃ শহীদুজ্জামান।
আলোচনায় অংশ নিয়ে অন্যান্য বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা—একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে সিরাজুল আলম খানের চিন্তাধারার কোনো বিকল্প নেই। তিনি আজীবন যে অদলীয় রাজনৈতিক দর্শনের কথা বলে গেছেন, তা বাস্তবায়ন করতে পারলেই দেশে টেকসই রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা আসবে।
উক্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আলোচনায় আরও অংশ নেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
মশিউর রহমান মসীন, ওরীণ সুলতানা শান্তা,মিল্টন হোসেন, আকাশ আহমেদ, এম. এ. আউয়াল
মোহাম্মদ হামিদুল হক। বক্তারা দেশের সব শ্রম, কর্ম, পেশা এবং নারী সংগঠনের নেতৃত্ববৃন্দকে এই সমাজভিত্তিক রাজনৈতিক আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৯ জুন দেশের প্রখ্যাত এই রাজনৈতিক চিন্তাবিদ ও দার্শনিক মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর থেকে প্রতি বছর তাঁর প্রয়াণ দিবস ও জন্মবার্ষিকীতে বিভিন্ন সংগঠন তাঁর রাজনৈতিক দর্শন ও ১৪ দফা রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা নিয়ে দেশব্যাপী নানামুখী কর্মসূচি পালন করে আসছে।