প্রধানমন্ত্রীর মুগ্ধতায় একদিন
- Update Time : ০১:১০:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
- / 12

মুসলিমা আক্তার
বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গত ১৫ জুলাই “প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬” অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।
খুব কাছ থেকে কথা বলার এবং ফুল দিয়ে বরণ করে শুভেচ্ছা জানানোর সৌভাগ্য হয়েছে আমার। সময়টা খুব বেশি ছিল না, তবুও তিনি মুগ্ধতা ছড়িয়ে দিয়েছেন।
দেখা হওয়ার সাথে সাথেই তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন, “আপনি কি সামনের শিক্ষার্থীদের শিক্ষক?”
উত্তরে বললাম – “জি, আমি ওদের শিক্ষক।”
অনুষ্ঠানের আরেকটি মুগ্ধতার অংশ ছিল শিশুদের সাথে বৃক্ষরোপণ। অনলাইনের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন, যেখানে একযোগে প্রায় সাড়ে ছয় লক্ষ গাছ লাগানো হয়।
বক্তব্য দেওয়ার সময় হঠাৎ দুটি শিশু তাঁর সামনে এলে তিনি বক্তব্য থামিয়ে তাদের সালাম দিয়ে কথা বলেন। একজন সরকার প্রধানের এমন আচরণ সত্যিই বিমোহিত করেছে।
প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে তিনি হেঁটে হেঁটে প্রতিটি স্টল ঘুরে দেখেন, হাসিমুখে সবার সাথে সেলফি তোলেন। এটাই প্রমাণ করে তিনি কতটা শিক্ষকবান্ধব।
ব্যক্তিগতভাবে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি শিক্ষকদের সাথে এভাবে মিশে যাওয়ার জন্য।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শিশুবান্ধব বাংলাদেশ গঠনে গৃহীত উদ্যোগগুলো শিশুদের সামাজিক, নাগরিক, বিজ্ঞানী, শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, প্রশাসক ও রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে।
শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, পুষ্টি ও সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করতে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। জাতীয় সংবিধান, জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ (UNCRC) এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG)-এর আলোকে বাংলাদেশ শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছে।
উল্লেখযোগ্য কিছু উদ্যোগ:
– শিক্ষা: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, নতুন বিদ্যালয় নির্মাণ, শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষ স্থাপন ও ঝরে পড়া রোধ।
– সুরক্ষা: শিশু নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম প্রতিরোধে শিশু আইন ও জাতীয় শিশু নীতি বাস্তবায়ন।
– স্বাস্থ্য: সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা, কমিউনিটি ক্লিনিক, অপুষ্টি প্রতিরোধ ও ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন।
– *প্রযুক্তি*: অনলাইন শিক্ষা, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও শিক্ষকদের ডিজিটাল প্রশিক্ষণ।
– সার্বিক বিকাশ: উপবৃত্তি, কাব স্কাউট, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ক্রীড়া ও বিজ্ঞান মেলার মাধ্যমে প্রতিভা বিকাশ।
আগামী দিনে শিশুদের জন্য আরও মানসম্মত শিক্ষা, নিরাপদ পরিবেশ, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও দক্ষতা উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
একজন প্রধানমন্ত্রী যখন শিশুদের সালাম দেন, শিক্ষকদের সাথে হেঁটে স্টল দেখেন, তখন বোঝা যায় দেশের ভবিষ্যৎ কতটা নিরাপদ হাতে।



















