১০:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাকা ঘুরিয়ে মুন্নার স্বপ্ন বাস্তবায়ন

  • Update Time : ০১:৩৮:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / 15

চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস।

একটি সাইকেল, বুকের মাঝে স্বপ্ন,
চোখে বাংলার রূপ,
দেশকে দেখার অদম্য নেশায়
পথের হলো কূপ।
পথের ধুলো সঙ্গী করে
ছুটছে তরুণ প্রাণ,
চৌষট্টি জেলা ঘুরে দেখার
এটাই তার অভিযান।

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে
রামজীবনপুর গ্রাম,
সেখান থেকে উঠল জেগে
এক স্বপ্নবাজ নাম।
বাইশ বছরের তরুণ সে,
আশরাফুল ইসলাম মুন্না,
দেশকে ভালোবাসার টানে
পথের হলো সাথী যেন সে।

সামাজিক মাধ্যমে পরিচিত
‘মুন্না ক্রিয়েশন’ নামে,
বাংলার প্রতি ভালোবাসা তার
জেগে থাকে প্রাণে।
বইয়ের পাতায় নয় সে শুধু,
পর্দায় নয় দেশ,
নিজের চোখে দেখতে চায়
বাংলার রূপ-রেশ।

ষড়ঋতুর এই বাংলাদেশ
সবুজ-শ্যামল মায়া,
নদী-খাল আর মাঠের বুকে
প্রকৃতি দেয় ছায়া।
মানুষ, ভাষা, সংস্কৃতি আর
ঐতিহ্যেরই টান,
সেই টানে আজ সাইকেল চড়ে
ঘুরছে দেশের প্রাণ।

সামাজিক মাধ্যম, পত্রিকার
ভ্রমণকথার ধারা,
অন্যদের সেই পথের গল্প
করল তাকে সারা।
স্বপ্ন তখন ভাবনা ছেড়ে
বাস্তব হলো শেষে,
ছাব্বিশ জুন দুই হাজার ছাব্বিশ
যাত্রা শুরু দেশে।

প্রথম পথে নেত্রকোনা,
সুনামগঞ্জের ঘাট,
কিশোরগঞ্জে পেরিয়ে গেল
কত পথের বাঁক।
নরসিংদী আর ময়মনসিংহ,
শেরপুর, জামালপুর,
সাইকেলেরই চাকার সাথে
বাড়ল পথের সুর।

গাইবান্ধা আর কুড়িগ্রাম,
লালমনিরহাট পেরিয়ে,
নীলফামারী, পঞ্চগড়েতে
নতুন ছবি নিয়ে।
ঠাকুরগাঁও আর দিনাজপুর,
রংপুরেরই পথ,
বাংলাদেশের বুকের মাঝে
জাগল নতুন রথ।

বগুড়া পেরিয়ে সিরাজগঞ্জ,
পাবনা হলো সাথী,
নাটোর, নওগাঁ, জয়পুরহাটে
বাড়ল পথের গতি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী
দেখল তারই চোখ,
কুষ্টিয়া আর মেহেরপুরে
মুছে পথের শোক।

চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ,
মাগুরার সবুজ মাঠ,
যশোর পেরিয়ে সাতক্ষীরা
চলল অবিরাম যাত্রাপথ।
শেষে এলো খুলনা নগর,
ছাব্বিশ আগস্ট দিন,
একত্রিশটি জেলা পেরিয়ে
স্বপ্ন হলো রঙিন।

খুলনার বুকে পা রাখতেই
পেল নতুন টান,
শিল্পের ঘরে স্বপ্নবাজের
হলো সম্মান।
খুলনা আর্ট একাডেমিতে
এলো সোনার ক্ষণ,
ফুলের শুভেচ্ছায় বরণ করল
শিল্পী-শিক্ষকজন।

প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক
চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস,
ফুলের শুভেচ্ছা জানিয়ে দিলেন
ভালোবাসার আশ্বাস।
শিল্পের ঘরে পথিক এলো,
গল্প এলো সাথে,
বাংলাদেশের আরেক ছবি
জেগে উঠল হাতে।

ছিলেন সেদিন শিলা বিশ্বাস,
সহকারী পরিচালক,
সুব্রত কুমার মণ্ডলও ছিলেন
চারুকলার শিক্ষক।
চিরঞ্জিত আর শুভ সরকার,
প্রান্তর গোলদার সাথে,
সৌহার্দ্য বিশ্বাস, সম্প্রীতি
ছিলেন সেই সাথে।

অয়ন চক্রবর্তী, আর্দ্রতা দে,
তোয়া আর রিদা,
আরও অনেকে পাশে এসে
করল ভালোবাসা।
ফুলের গন্ধে মিলল যেন
পথের ক্লান্তি সব,
শিল্পের সাথে ভ্রমণকথায়
জেগে উঠল রব।

মুন্নার হাতে তুলে দেওয়া
ডায়েরি আর কলম,
পথের কথা লিখে রাখার
হোক না নতুন জন্ম।
দেশের পথে যে দৃশ্য দেখে
হৃদয় হবে ভরা,
সেইসব কথা অক্ষর হয়ে
থাকুক পাতায় ধরা।

কৃষকের ঘর সাধারণ ঘর,
সাধারণ তার জীবন,
তবু বুকের স্বপ্ন আকাশছোঁয়া
অসাধারণ মন।
দুই হাজার চব্বিশ সালে
এইচএসসি পাস,
তিন ভাইয়ের সে সবার ছোট,
স্বপ্ন তারই আশ্বাস।

বাবা মো. ছারুয়ার জাহান,
কৃষিকাজে দিন,
মা মোছা. আশিক নূর
ভালোবাসার ঋণ।
পরিবারের আশীর্বাদকে
সঙ্গী করে পথে,
মুন্না আজও এগিয়ে চলে
স্বপ্নেরই রথে।

ভ্রমণ নয়, দেশকে চেনা,
দেশকে অনুভব করা,
প্রতিটি জেলা নতুন অধ্যায়,
নতুন গল্প ধরা।
কোথাও নদী, কোথাও মাঠ,
কোথাও মানুষের হাসি,
কোথাও ইতিহাসের স্মৃতি,
কোথাও সংস্কৃতির বাঁশি।

সৃষ্টিজগতের সৌন্দর্যে
স্রষ্টার নিদর্শন খোঁজে,
পথের মাঝে সেই অনুভব
তার হৃদয়কে ভোজে।
দেশের তরুণ ভালো থাকুক,
এই তার প্রত্যাশা,
মাদক ছেড়ে সুস্থ জীবনে
জাগুক নতুন আশা।

অনৈতিকতার অন্ধকারে
না হারাক কোনো প্রাণ,
দেশকে জানুক, মানুষ চিনুক
এই তার আহ্বান।
প্রকৃতিকে ভালোবাসুক,
সংস্কৃতিকে মানুক,
নিজের দেশের মাটির সাথে
হৃদয় দিয়ে থাকুক।

চৌষট্টি জেলা শেষ হলে তার
আরও বড়ই সাধ,
একদিন সে পাড়ি দেবে
বিশ্বপথের বাঁধ।
বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে
দেখবে বিশ্বভুবন,
দেশের মাটির ভালোবাসা
থাকবে তারই মন।

খুলনা আর্ট একাডেমিতে
দীর্ঘ হলো আলাপ,
অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যতের
খুলল কত দ্বার।
স্বপ্ন, লক্ষ্য, পথের কথা
হলো বিনিময়,
তরুণ হৃদয় জয় করুক
দেশ এই তার পরিচয়।

চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস
বললেন সেদিন কথা
বিত্তবান ঘরেই শুধু কি
বড় স্বপ্নের ব্যথা?
কৃষকের ঘর থেকেও তো
জন্ম নিতে পারে
দেশের জন্য বড় স্বপ্ন,
আকাশ ছোঁয়ার তরে।

মুন্না যেন তারই প্রমাণ,
সাহসী এক নাম,
স্বপ্ন যদি সত্যি হয়
জয় হবে অবিরাম।
একটি তরুণ হৃদয়ের
সুন্দর স্বপ্ন যখন,
অন্য তরুণের বুকেও জাগে
আলোর নতুন ক্ষণ।

মুন্নার খুলনা আসার পেছনে
আছে পরিচয়ের সেতু,
চিত্রশিল্পী মোবারক হোসেন মাহি
হলেন সেই সূত্র।
চন্দ্রবিন্দু প্রকাশনের
বাংলাবাজারের টান,
সেই পরিচয়ে মিলন বিশ্বাস
জানলেন মুন্নার প্রাণ।

খুলনা আসার ইচ্ছেটুকু
জানার পরে শেষে,
আর্ট একাডেমির আমন্ত্রণ গেল
ভালোবাসার দেশে।
ফুলেল শুভেচ্ছা, ডায়েরি-কলম
স্মৃতির অমূল্য দান,
পথের খাতায় লিখবে মুন্না
বাংলাদেশের গান।

একত্রিশটি জেলা পেরিয়ে
এখন বাকি পথ,
চাকার ঘূর্ণন বলছে যেন
“থামিস না আর রথ!”
প্রতিটি জেলা নতুন দুয়ার,
নতুন কোনো গল্প,
বাংলাদেশের বুকের মাঝে
অগণিত তার অল্প।

চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস
করেন এক আবেদন,
রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও যেন
পায় সে সম্মান।
ময়মনসিংহে যখন যাবে
তার সাইকেলের চাকা,
জেলা প্রশাসন শুভেচ্ছা দিক
উৎসাহ হোক আঁকা।

সাধারণ ঘরের এই তরুণের
অসাধারণ যে স্বপ্ন,
রাষ্ট্র যদি দেয় সম্মান,
বাড়বে তারই শক্তি।
একজন মুন্নার পথের গল্প
হাজার প্রাণে জাগুক,
তরুণদের সুন্দর স্বপ্ন
আলোর পথে লাগুক।

চাকার সাথে ঘুরছে যেন
বাংলাদেশের গান,
মাটির গন্ধ, নদীর ঢেউ আর
মানুষেরই প্রাণ।
কখনো রোদ, কখনো বৃষ্টি,
কখনো পথের ক্লেশ,
তবু তার চোখে জ্বলছে শুধু
প্রিয় মাতৃদেশ।

একটি চাকা ঘুরছে পথে,
ঘুরছে স্বপ্ন সাথে,
বাংলাদেশের গল্প লেখা
হচ্ছে তারই হাতে।
পথের ধুলো ফুল হয়ে আজ
দিচ্ছে তাকে ডাকে,
চৌষট্টি জেলার স্বপ্ন যেন
বাস্তবতার ফাঁকে।

নিরাপদ হোক মুন্নার পথ,
নির্বিঘ্ন হোক যাত্রা,
প্রতিকূলতা হার মেনে যাক,
জয়ী হোক সে মাত্রা।
দেশের মানুষ শুভকামনা
রাখুক তারই তরে,
স্বপ্ন যেন পূর্ণ হয়
বাংলার মাটির ঘরে।

নেত্রকোনা থেকে খুলনা আজ
একত্রিশের গান,
বাকি জেলা ডাকছে তাকে
“এসো, জানো প্রাণ!”
চৌষট্টির পূর্ণ বৃত্তে
একদিন উঠুক আলো,
মুন্নার স্বপ্ন সফল হোক
বাংলাদেশ থাকুক ভালো।

দেশকে জানুক আমাদের তরুণ,
দেশকে ভালোবাসুক,
প্রকৃতির এই অপরূপ রূপ
হৃদয় দিয়ে আঁকুক।
মানুষ চিনুক, মাটি চিনুক,
চিনুক ইতিহাস,
সংস্কৃতির রঙে রঙিন হোক
আগামীর বাংলাদেশ।

পথ চলুক, চাকা ঘুরুক,
স্বপ্ন থাকুক জাগ্রত,
মুন্নার মতো তরুণদের
হৃদয় হোক আলোকিত।
একটি সাইকেল, একটি স্বপ্ন,
একটি দেশের টান
এই তো হতে পারে একদিন
বাংলাদেশের গান।

শুভ হোক তোমার পথচলা,
সফল হোক অভিযান,
চৌষট্টি জেলা জয় করে
পূরণ হোক প্রাণের গান।
তারপর যদি বিশ্ব ডাকে
খুলে দেয় সব দ্বার,
বাংলার মাটি সঙ্গে নিয়ে
যেও আরও বহুদূর পার।

মুন্না তুমি এগিয়ে চলো,
পথ হোক আলোকিত,
তোমার স্বপ্ন ছড়িয়ে পড়ুক
দেশজুড়ে অনুপ্রাণিত।
চাকার ঘূর্ণনে লিখে যাও
বাংলার নতুন গান,
তোমার পথে জেগে উঠুক
লক্ষ তরুণ প্রাণ।

শুভ হোক পথচলা,
সফল হোক স্বপ্ন।
দেশকে জানুক তরুণ,
দেশকে ভালোবাসুক তরুণ।

সাইকেলযাত্রী আশরাফুল ইসলাম মুন্নাকে উৎসর্গ করলাম।

Please Share This Post in Your Social Media

চাকা ঘুরিয়ে মুন্নার স্বপ্ন বাস্তবায়ন

Update Time : ০১:৩৮:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস।

একটি সাইকেল, বুকের মাঝে স্বপ্ন,
চোখে বাংলার রূপ,
দেশকে দেখার অদম্য নেশায়
পথের হলো কূপ।
পথের ধুলো সঙ্গী করে
ছুটছে তরুণ প্রাণ,
চৌষট্টি জেলা ঘুরে দেখার
এটাই তার অভিযান।

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে
রামজীবনপুর গ্রাম,
সেখান থেকে উঠল জেগে
এক স্বপ্নবাজ নাম।
বাইশ বছরের তরুণ সে,
আশরাফুল ইসলাম মুন্না,
দেশকে ভালোবাসার টানে
পথের হলো সাথী যেন সে।

সামাজিক মাধ্যমে পরিচিত
‘মুন্না ক্রিয়েশন’ নামে,
বাংলার প্রতি ভালোবাসা তার
জেগে থাকে প্রাণে।
বইয়ের পাতায় নয় সে শুধু,
পর্দায় নয় দেশ,
নিজের চোখে দেখতে চায়
বাংলার রূপ-রেশ।

ষড়ঋতুর এই বাংলাদেশ
সবুজ-শ্যামল মায়া,
নদী-খাল আর মাঠের বুকে
প্রকৃতি দেয় ছায়া।
মানুষ, ভাষা, সংস্কৃতি আর
ঐতিহ্যেরই টান,
সেই টানে আজ সাইকেল চড়ে
ঘুরছে দেশের প্রাণ।

সামাজিক মাধ্যম, পত্রিকার
ভ্রমণকথার ধারা,
অন্যদের সেই পথের গল্প
করল তাকে সারা।
স্বপ্ন তখন ভাবনা ছেড়ে
বাস্তব হলো শেষে,
ছাব্বিশ জুন দুই হাজার ছাব্বিশ
যাত্রা শুরু দেশে।

প্রথম পথে নেত্রকোনা,
সুনামগঞ্জের ঘাট,
কিশোরগঞ্জে পেরিয়ে গেল
কত পথের বাঁক।
নরসিংদী আর ময়মনসিংহ,
শেরপুর, জামালপুর,
সাইকেলেরই চাকার সাথে
বাড়ল পথের সুর।

গাইবান্ধা আর কুড়িগ্রাম,
লালমনিরহাট পেরিয়ে,
নীলফামারী, পঞ্চগড়েতে
নতুন ছবি নিয়ে।
ঠাকুরগাঁও আর দিনাজপুর,
রংপুরেরই পথ,
বাংলাদেশের বুকের মাঝে
জাগল নতুন রথ।

বগুড়া পেরিয়ে সিরাজগঞ্জ,
পাবনা হলো সাথী,
নাটোর, নওগাঁ, জয়পুরহাটে
বাড়ল পথের গতি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী
দেখল তারই চোখ,
কুষ্টিয়া আর মেহেরপুরে
মুছে পথের শোক।

চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ,
মাগুরার সবুজ মাঠ,
যশোর পেরিয়ে সাতক্ষীরা
চলল অবিরাম যাত্রাপথ।
শেষে এলো খুলনা নগর,
ছাব্বিশ আগস্ট দিন,
একত্রিশটি জেলা পেরিয়ে
স্বপ্ন হলো রঙিন।

খুলনার বুকে পা রাখতেই
পেল নতুন টান,
শিল্পের ঘরে স্বপ্নবাজের
হলো সম্মান।
খুলনা আর্ট একাডেমিতে
এলো সোনার ক্ষণ,
ফুলের শুভেচ্ছায় বরণ করল
শিল্পী-শিক্ষকজন।

প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক
চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস,
ফুলের শুভেচ্ছা জানিয়ে দিলেন
ভালোবাসার আশ্বাস।
শিল্পের ঘরে পথিক এলো,
গল্প এলো সাথে,
বাংলাদেশের আরেক ছবি
জেগে উঠল হাতে।

ছিলেন সেদিন শিলা বিশ্বাস,
সহকারী পরিচালক,
সুব্রত কুমার মণ্ডলও ছিলেন
চারুকলার শিক্ষক।
চিরঞ্জিত আর শুভ সরকার,
প্রান্তর গোলদার সাথে,
সৌহার্দ্য বিশ্বাস, সম্প্রীতি
ছিলেন সেই সাথে।

অয়ন চক্রবর্তী, আর্দ্রতা দে,
তোয়া আর রিদা,
আরও অনেকে পাশে এসে
করল ভালোবাসা।
ফুলের গন্ধে মিলল যেন
পথের ক্লান্তি সব,
শিল্পের সাথে ভ্রমণকথায়
জেগে উঠল রব।

মুন্নার হাতে তুলে দেওয়া
ডায়েরি আর কলম,
পথের কথা লিখে রাখার
হোক না নতুন জন্ম।
দেশের পথে যে দৃশ্য দেখে
হৃদয় হবে ভরা,
সেইসব কথা অক্ষর হয়ে
থাকুক পাতায় ধরা।

কৃষকের ঘর সাধারণ ঘর,
সাধারণ তার জীবন,
তবু বুকের স্বপ্ন আকাশছোঁয়া
অসাধারণ মন।
দুই হাজার চব্বিশ সালে
এইচএসসি পাস,
তিন ভাইয়ের সে সবার ছোট,
স্বপ্ন তারই আশ্বাস।

বাবা মো. ছারুয়ার জাহান,
কৃষিকাজে দিন,
মা মোছা. আশিক নূর
ভালোবাসার ঋণ।
পরিবারের আশীর্বাদকে
সঙ্গী করে পথে,
মুন্না আজও এগিয়ে চলে
স্বপ্নেরই রথে।

ভ্রমণ নয়, দেশকে চেনা,
দেশকে অনুভব করা,
প্রতিটি জেলা নতুন অধ্যায়,
নতুন গল্প ধরা।
কোথাও নদী, কোথাও মাঠ,
কোথাও মানুষের হাসি,
কোথাও ইতিহাসের স্মৃতি,
কোথাও সংস্কৃতির বাঁশি।

সৃষ্টিজগতের সৌন্দর্যে
স্রষ্টার নিদর্শন খোঁজে,
পথের মাঝে সেই অনুভব
তার হৃদয়কে ভোজে।
দেশের তরুণ ভালো থাকুক,
এই তার প্রত্যাশা,
মাদক ছেড়ে সুস্থ জীবনে
জাগুক নতুন আশা।

অনৈতিকতার অন্ধকারে
না হারাক কোনো প্রাণ,
দেশকে জানুক, মানুষ চিনুক
এই তার আহ্বান।
প্রকৃতিকে ভালোবাসুক,
সংস্কৃতিকে মানুক,
নিজের দেশের মাটির সাথে
হৃদয় দিয়ে থাকুক।

চৌষট্টি জেলা শেষ হলে তার
আরও বড়ই সাধ,
একদিন সে পাড়ি দেবে
বিশ্বপথের বাঁধ।
বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে
দেখবে বিশ্বভুবন,
দেশের মাটির ভালোবাসা
থাকবে তারই মন।

খুলনা আর্ট একাডেমিতে
দীর্ঘ হলো আলাপ,
অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যতের
খুলল কত দ্বার।
স্বপ্ন, লক্ষ্য, পথের কথা
হলো বিনিময়,
তরুণ হৃদয় জয় করুক
দেশ এই তার পরিচয়।

চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস
বললেন সেদিন কথা
বিত্তবান ঘরেই শুধু কি
বড় স্বপ্নের ব্যথা?
কৃষকের ঘর থেকেও তো
জন্ম নিতে পারে
দেশের জন্য বড় স্বপ্ন,
আকাশ ছোঁয়ার তরে।

মুন্না যেন তারই প্রমাণ,
সাহসী এক নাম,
স্বপ্ন যদি সত্যি হয়
জয় হবে অবিরাম।
একটি তরুণ হৃদয়ের
সুন্দর স্বপ্ন যখন,
অন্য তরুণের বুকেও জাগে
আলোর নতুন ক্ষণ।

মুন্নার খুলনা আসার পেছনে
আছে পরিচয়ের সেতু,
চিত্রশিল্পী মোবারক হোসেন মাহি
হলেন সেই সূত্র।
চন্দ্রবিন্দু প্রকাশনের
বাংলাবাজারের টান,
সেই পরিচয়ে মিলন বিশ্বাস
জানলেন মুন্নার প্রাণ।

খুলনা আসার ইচ্ছেটুকু
জানার পরে শেষে,
আর্ট একাডেমির আমন্ত্রণ গেল
ভালোবাসার দেশে।
ফুলেল শুভেচ্ছা, ডায়েরি-কলম
স্মৃতির অমূল্য দান,
পথের খাতায় লিখবে মুন্না
বাংলাদেশের গান।

একত্রিশটি জেলা পেরিয়ে
এখন বাকি পথ,
চাকার ঘূর্ণন বলছে যেন
“থামিস না আর রথ!”
প্রতিটি জেলা নতুন দুয়ার,
নতুন কোনো গল্প,
বাংলাদেশের বুকের মাঝে
অগণিত তার অল্প।

চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস
করেন এক আবেদন,
রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও যেন
পায় সে সম্মান।
ময়মনসিংহে যখন যাবে
তার সাইকেলের চাকা,
জেলা প্রশাসন শুভেচ্ছা দিক
উৎসাহ হোক আঁকা।

সাধারণ ঘরের এই তরুণের
অসাধারণ যে স্বপ্ন,
রাষ্ট্র যদি দেয় সম্মান,
বাড়বে তারই শক্তি।
একজন মুন্নার পথের গল্প
হাজার প্রাণে জাগুক,
তরুণদের সুন্দর স্বপ্ন
আলোর পথে লাগুক।

চাকার সাথে ঘুরছে যেন
বাংলাদেশের গান,
মাটির গন্ধ, নদীর ঢেউ আর
মানুষেরই প্রাণ।
কখনো রোদ, কখনো বৃষ্টি,
কখনো পথের ক্লেশ,
তবু তার চোখে জ্বলছে শুধু
প্রিয় মাতৃদেশ।

একটি চাকা ঘুরছে পথে,
ঘুরছে স্বপ্ন সাথে,
বাংলাদেশের গল্প লেখা
হচ্ছে তারই হাতে।
পথের ধুলো ফুল হয়ে আজ
দিচ্ছে তাকে ডাকে,
চৌষট্টি জেলার স্বপ্ন যেন
বাস্তবতার ফাঁকে।

নিরাপদ হোক মুন্নার পথ,
নির্বিঘ্ন হোক যাত্রা,
প্রতিকূলতা হার মেনে যাক,
জয়ী হোক সে মাত্রা।
দেশের মানুষ শুভকামনা
রাখুক তারই তরে,
স্বপ্ন যেন পূর্ণ হয়
বাংলার মাটির ঘরে।

নেত্রকোনা থেকে খুলনা আজ
একত্রিশের গান,
বাকি জেলা ডাকছে তাকে
“এসো, জানো প্রাণ!”
চৌষট্টির পূর্ণ বৃত্তে
একদিন উঠুক আলো,
মুন্নার স্বপ্ন সফল হোক
বাংলাদেশ থাকুক ভালো।

দেশকে জানুক আমাদের তরুণ,
দেশকে ভালোবাসুক,
প্রকৃতির এই অপরূপ রূপ
হৃদয় দিয়ে আঁকুক।
মানুষ চিনুক, মাটি চিনুক,
চিনুক ইতিহাস,
সংস্কৃতির রঙে রঙিন হোক
আগামীর বাংলাদেশ।

পথ চলুক, চাকা ঘুরুক,
স্বপ্ন থাকুক জাগ্রত,
মুন্নার মতো তরুণদের
হৃদয় হোক আলোকিত।
একটি সাইকেল, একটি স্বপ্ন,
একটি দেশের টান
এই তো হতে পারে একদিন
বাংলাদেশের গান।

শুভ হোক তোমার পথচলা,
সফল হোক অভিযান,
চৌষট্টি জেলা জয় করে
পূরণ হোক প্রাণের গান।
তারপর যদি বিশ্ব ডাকে
খুলে দেয় সব দ্বার,
বাংলার মাটি সঙ্গে নিয়ে
যেও আরও বহুদূর পার।

মুন্না তুমি এগিয়ে চলো,
পথ হোক আলোকিত,
তোমার স্বপ্ন ছড়িয়ে পড়ুক
দেশজুড়ে অনুপ্রাণিত।
চাকার ঘূর্ণনে লিখে যাও
বাংলার নতুন গান,
তোমার পথে জেগে উঠুক
লক্ষ তরুণ প্রাণ।

শুভ হোক পথচলা,
সফল হোক স্বপ্ন।
দেশকে জানুক তরুণ,
দেশকে ভালোবাসুক তরুণ।

সাইকেলযাত্রী আশরাফুল ইসলাম মুন্নাকে উৎসর্গ করলাম।