০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হস্তশিল্পে নারী উদ্যোক্তা তপতী দেবনাথ

  • Update Time : ০২:০০:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
  • / 9

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সংসার ও সন্তানের দায়িত্ব সামলেও নিজের স্বপ্নকে জিইয়ে রেখে আজ একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার চুলকাটি ঘনশ্যামপুর গ্রামের তপতী দেবনাথ। হাতের কাজকে পুঁজি করে তিনি শুধু নিজেই স্বাবলম্বী হননি, গড়ে তুলেছেন আরও অনেক নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ।

ছোট্ট সেলাই থেকে বড় স্বপ্ন
১৯৮৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার চুলকাটি ঘনশ্যামপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তপতী। বাবা মনিভূষণ দেবনাথ ও মা মিনতি রানী দেবনাথের মেয়ে তপতী স্থানীয় চুলকাটি ঘনশ্যামপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসি এবং সুন্দরবন মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন।

২০০৭ সালে বিয়ের পর চাকরির সুযোগ না থাকায় ঘরে বসেই কিছু করার চিন্তা করেন তিনি। সন্তান একটু বড় হলে ছোট পরিসরে সেলাইয়ের কাজ শুরু করেন। করোনা মহামারির সময় এক শুভাকাঙ্ক্ষীর অনুপ্রেরণা ও অর্ডার পেয়ে হস্তশিল্পকে পেশা হিসেবে বেছে নেন।

নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করার প্রয়াস
তপতী দেবনাথ শুধু নিজের ব্যবসা নিয়ে ভাবেননি। গ্রামের যে নারীরা কাজ করতে চান কিন্তু সুযোগ পান না, তাদের জন্য বিনামূল্যে ফ্যাশন ডিজাইন ও হাতের কাজের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন তিনি। তার বিশ্বাস নারীরা নিজের হাতে কাজ শিখে দক্ষ হলে তবেই প্রকৃত স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব।

বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে তৈরি হচ্ছে শাড়ি, পাঞ্জাবি, ব্লাউজ পিস, টু-পিস, থ্রি-পিস, ওয়ান-পিস, সালোয়ার, প্লাজো, শিশুদের পোশাক, ফতুয়া, বেবি ও বড় নকশিকাঁথা, ব্লক প্রিন্ট, হ্যান্ড প্রিন্ট ও স্ক্রিন প্রিন্টের পণ্য। পাশাপাশি কুশিকাঁটার কাজেও রয়েছে তার দক্ষতা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে `বর্ণ তপু বুটিক্স` নামের পেজের মাধ্যমে তিনি দেশ-বিদেশের ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছে দিচ্ছেন।

আগামীর পরিকল্পনা
তপতীর স্বপ্ন একটি নিজস্ব কারখানা প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে তার তৈরি পণ্য উৎপাদিত হবে এবং শতাধিক নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি তিনি অসহায়, এতিম ও অবহেলিত বৃদ্ধ মা-বাবার জন্য একটি আশ্রয়স্থল এবং নতুন প্রজন্মের জন্য একটি গানের স্কুল গড়ে তুলতে চান।

তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি অর্থের চেয়েও মানুষের প্রয়োজন আন্তরিক উৎসাহ ও সঠিক দিকনির্দেশনা। সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষ যদি অবহেলিত নারীদের পাশে দাঁড়ান, তবে আমাদের সমাজে আরও অনেক নারী স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারবে।”

বাবা-মাকে হারালেও তাদের আশীর্বাদ আর সকলের দোয়া নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন এই সংগ্রামী নারী। তার ছোট ছোট স্বপ্নগুলো একদিন বাস্তবে রূপ নেবে এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

Please Share This Post in Your Social Media

হস্তশিল্পে নারী উদ্যোক্তা তপতী দেবনাথ

Update Time : ০২:০০:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সংসার ও সন্তানের দায়িত্ব সামলেও নিজের স্বপ্নকে জিইয়ে রেখে আজ একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার চুলকাটি ঘনশ্যামপুর গ্রামের তপতী দেবনাথ। হাতের কাজকে পুঁজি করে তিনি শুধু নিজেই স্বাবলম্বী হননি, গড়ে তুলেছেন আরও অনেক নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ।

ছোট্ট সেলাই থেকে বড় স্বপ্ন
১৯৮৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার চুলকাটি ঘনশ্যামপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তপতী। বাবা মনিভূষণ দেবনাথ ও মা মিনতি রানী দেবনাথের মেয়ে তপতী স্থানীয় চুলকাটি ঘনশ্যামপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসি এবং সুন্দরবন মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন।

২০০৭ সালে বিয়ের পর চাকরির সুযোগ না থাকায় ঘরে বসেই কিছু করার চিন্তা করেন তিনি। সন্তান একটু বড় হলে ছোট পরিসরে সেলাইয়ের কাজ শুরু করেন। করোনা মহামারির সময় এক শুভাকাঙ্ক্ষীর অনুপ্রেরণা ও অর্ডার পেয়ে হস্তশিল্পকে পেশা হিসেবে বেছে নেন।

নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করার প্রয়াস
তপতী দেবনাথ শুধু নিজের ব্যবসা নিয়ে ভাবেননি। গ্রামের যে নারীরা কাজ করতে চান কিন্তু সুযোগ পান না, তাদের জন্য বিনামূল্যে ফ্যাশন ডিজাইন ও হাতের কাজের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন তিনি। তার বিশ্বাস নারীরা নিজের হাতে কাজ শিখে দক্ষ হলে তবেই প্রকৃত স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব।

বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে তৈরি হচ্ছে শাড়ি, পাঞ্জাবি, ব্লাউজ পিস, টু-পিস, থ্রি-পিস, ওয়ান-পিস, সালোয়ার, প্লাজো, শিশুদের পোশাক, ফতুয়া, বেবি ও বড় নকশিকাঁথা, ব্লক প্রিন্ট, হ্যান্ড প্রিন্ট ও স্ক্রিন প্রিন্টের পণ্য। পাশাপাশি কুশিকাঁটার কাজেও রয়েছে তার দক্ষতা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে `বর্ণ তপু বুটিক্স` নামের পেজের মাধ্যমে তিনি দেশ-বিদেশের ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছে দিচ্ছেন।

আগামীর পরিকল্পনা
তপতীর স্বপ্ন একটি নিজস্ব কারখানা প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে তার তৈরি পণ্য উৎপাদিত হবে এবং শতাধিক নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি তিনি অসহায়, এতিম ও অবহেলিত বৃদ্ধ মা-বাবার জন্য একটি আশ্রয়স্থল এবং নতুন প্রজন্মের জন্য একটি গানের স্কুল গড়ে তুলতে চান।

তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি অর্থের চেয়েও মানুষের প্রয়োজন আন্তরিক উৎসাহ ও সঠিক দিকনির্দেশনা। সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষ যদি অবহেলিত নারীদের পাশে দাঁড়ান, তবে আমাদের সমাজে আরও অনেক নারী স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারবে।”

বাবা-মাকে হারালেও তাদের আশীর্বাদ আর সকলের দোয়া নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন এই সংগ্রামী নারী। তার ছোট ছোট স্বপ্নগুলো একদিন বাস্তবে রূপ নেবে এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।