এলজিইডি কর্তৃপক্ষের বছর জুড়েই সংস্কারের আশ্বাস ॥ জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ সড়কের বেহাল দশায় জন দূর্ভোগ চরমে

মো: আব্দুল হাই ॥
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডির জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ সড়কের উপজেলা সদর থেকে কেউনবাড়ি বাজার পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশায় যানবাহন চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এলজিইডি কর্তৃপক্ষের বছর জুড়ে সংস্কারের আশ্বাস দিলেও কোন উদ্যোগ না থাকায় সড়কের নাজুক দশায় জন দূর্ভোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষেভে ফুঁসছেন উপজেলাবাসী। জগন্নাথপুর উপজেলাবাসী বিভাগীয় শহর সিলেটের সাথে যোগাযোগের একমাত্র সড়ক পথটি বছরের পর বছর যানবাহন চলাচলে অনুপযোগী থাকায় দূর্ভোগের শিকার জনসাধারন এখন পুরোটাই অসহায়। মাঝে মধ্যে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ সড়কটিতে জোড়া তালির সংস্কার কাজ করলেও ২/৩ মাসের মধ্যেই সড়কটি আগের মতই হয়ে পড়ে। দূর্ভোগের ভয়ানক চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করছেন ভুক্তভোগী জনসাধারন। জগন্নাথপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র শফিকুল হক শফিক জানান, সড়কটির উপজেলা সদর থেকে শুরু করে পুরো সড়কটি এখন যানবাহন চলাচলে অনুপযোগী। পাশাপাশি কালভার্ট ও সেতুর এ্যাপ্রোচ ক্ষতিগ্রস্থ রয়েছে। পৌর শহরের ফাইভ স্টার কনসট্রাকশন ব্যবসায়ী আজাদ আলী জানান, সড়কটির বেহাল দশায় নিজের প্রাইভেট গাড়িটি ৬মাস ধরে গ্যারেজ বন্ধী করে রেখেছি। এভাবে অধিকাংশ প্রাইভেট গাড়ির মালিকরা তাদের ব্যবহৃত প্রাইভেট গাড়িগুলো গ্যারেজবন্ধী করে রেখেছেন। প্রবাসীরা প্রতিদিনই মুঠোফোনে খোজ নিচ্ছেন সড়কটির সংস্কার কাজ কবে শুরু হবে হবে। এই এলাকার প্রবাসীরা তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কিছুদিন নিজের বাড়িতে বসবাসের আশায় প্রবাস থেকে নিজ এলাকায় আসলেও সড়ক যোগাযোগের করুন দশার ফলে প্রবাসীরা সিলেট শহরে ভাড়া বাসায় থেকে পুনরায় প্রবাসে ফিরে যাচ্ছেন। শহরের ছিক্কা এলাকার বাসিন্দা সমাজকর্মী এনামুল হক এনাম জানান, সড়কটির খানা খন্দক আর গর্তের চিত্র এখন ভয়ংকর। উপজেলা সদর থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত যাতায়াতে যতটুকু ভোগান্তি পোহাতে হয় ঠিক তেমনি সিলেট শহরে যেতে গিয়ে একই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন জনসাধারন। সম্প্রতি হাসপাতালে আসা গর্ভবর্তী এক মহিলা একটি কমিউনিটি সেন্টারে সামনে সড়কের গর্তে গাড়ি আটকে যাওয়ায় সেখানেই সন্তান প্রসব করেছেন। এভাবে অসংখ্য ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। ছোট বড় যানবাহনগুলো বিকল হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। মীরপুর বাজারের ব্যবসায়ী রুবেল মিয়া জানান, পুরো সড়ক জুড়েই এখন অসংখ্য স্থানে ছোট খালের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে মীরপুর বাজারের পূর্ব পাশে বিশাল গর্তে বৃষ্টির পানি জমে গিয়ে খালের সৃষ্টি হয়েছে। এখানে প্রতিদিন বিভিন্ন প্রকার যানবাহন দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। শুধু এ স্থান নয় বিশ্বনাথ উপজেলার মিয়ার বাজার নামকস্থানে সড়কের প্রায় ৫০ফুট দৈর্ঘ্যরে খাল এখন মরন ফাঁদে সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বনাথের চান্দভরাং স্কুল এন্ড কলেজের প্রভাষক হাছফা বেগম জগন্নাথপুর টুডে ডটকমকে জানান, আমার বাড়িটি মীরপুর ইউনিয়নের শেষ সীমান্তে হওয়ায় প্রতিনিয়ত যানবাহন দিয়ে প্রায় ১০কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিয়ে আমার কর্মস্থলে যেতে হয়। সড়কটির পিচ উঠে গিয়ে ভয়ংকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ১৫ মিনিটের যাতায়াতের সময়টিতে ব্যায় হচ্ছে প্রায় ১ ঘন্টা। চাকুরী জীবনের শুরু থেকেই দেখে আসছি সড়কটির একই অবস্থা। যাতায়াতে অনুপযোগী সড়কটির কারনে সকাল এবং বিকেলে কর্মস্থলে যাওয়া এবং আসায় প্রতিনিয়ত অসুস্থ হয়ে পড়েছি। প্রবাসী অধ্যুষিত উপজেলাবাসীর স্বপ্ন পুরনে জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ সড়কটি সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেন। সড়কটির এমন করুন কাহিনী এ প্রতিবেদককে প্রতিদিনই শত শত ভুক্তভোগী জনসাধারন মুঠোফোনে জানাচ্ছেন। এদিকে বিগত অর্থ বছরে জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ সড়কের কেউন বাড়ি বাজার পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার সড়কের পুন:সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন হয়। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের পুন:সংস্কার কাজের সঠিকভাবে তদারকি না হওয়ায় এবং সংস্কার কাজের ঠিকাদার কর্তৃক অনিয়মের কারনে বছর যেতে না যেতেই আবারো সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানা খন্দক ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এমন অভিযোগ ভুক্তভোগী জনসাধারনের। চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই উপজেলা সদর থেকে হাসপাতাল মোড় পর্যন্ত সড়কটির বটেরতল, হামজা কমিউনিটি সেন্টারের সামন, ইসহাকপুর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের সামন, মীরপুর মেঘাখালী ব্রীজের দু-পাশে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি কেউনবাড়ি বাজার পর্যন্ত পুরো সড়কটিতেই অসংখ্য খানা খন্দকের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এসব গর্তগুলোতে মালবাহি ট্রাক, যাত্রীবাহি বাস সহ সকল প্রকার যানবাহন আটকে গিয়ে বিকল হয়ে পড়ছে। এছাড়াও সিএনজি অটোরিক্্রা, টমটম, রিক্্রা, মটর সাইকেল সহ ছোট বড় সকল প্রকার যানবাহন এসব গর্তে পড়ে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। সড়কের ঐ স্থানগুলোতে বৃষ্টির পানি জমে থাকার কারনে যাতায়াতকৃত অধিকাংশ যানবাহনগুলো অসাবধান বশত: গর্তে পড়ে গিয়ে যানবাহনের ক্ষতির পাশাপাশি যাত্রীদেরও জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। সড়ক যোগাযোগের এমন নাজুক পরিস্থিতিতে জন সাধারনের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সড়কটির পুন:সংস্কারের জন্য প্রাক্কলন প্রস্তুুত করে অনুমোদনের জন্য প্রধান প্রকৌশল অধিদপ্তরে পাঠিয়েছেন। তবে সড়কটিতে আপাতত যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে খানা খন্দক ও গর্তগুলো ভরাটের জন্য ১০ লক্ষ টাকার প্রাক্কলন প্রস্তুুত হয়েছে। শীঘ্রই দরপত্র বিজ্ঞপ্তি আহবানের মাধ্যমে কাজ শুরু হওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন এলজিইডি কর্তৃপক্ষ। এদিকে সড়কটি সংস্কারের কিছু দিন যেতে না যেতেই চলাচলে অনুপযোগী হওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিভাগ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সড়কের পুন:সংস্কার কাজের পদক্ষেপ নিতে বিলম্ব হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থার দূর্ভোগ থেকে রেহাই পেতে উপজেলাবাসী সড়কটি এলজিইডি বিভাগের পরিবর্তে সড়ক ও জনপথ বিভাগে স্থানান্তরের জন্য পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের কাছে দাবী তুলেন। জনসাধারনের দাবীর প্রেক্ষিতে পরিকল্পনামন্ত্রী জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগে স্থানান্তরের আশ্বাস দিয়েছেন। জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহ্ফুজুর আলম মাসুম জগন্নাথপুর টুডে ডটকমকে জানান, এলজিইডির বাস্তবায়নকৃত জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ সড়কের কেউনবাড়ি পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার সড়ক এলজিইডি থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগে স্থানান্তর করার জন্য কাজ চলছে। তবে সড়ক ও জনপথে স্থানান্তরের কাজটি দ্রুত বাস্তবায়ন হবে বলে তিনি জানান। এলজিইডির জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম সারোয়ার সড়কের সংস্কার কাজের বিষয়ে জগন্নাথপুর টুডে ডটকমকে জানান, জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ সড়কের কেউন বাড়ি বাজার পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার অংশে পুন:সংস্কার কাজের জন্য প্রাক্কলন প্রস্তুুত করে ইতোমধ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবরে পাঠানো হয়েছে। তবে সাময়িকভাবে সড়কটির খানাখন্দক ও গর্ত ভরাটের জন্য ১০লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। শীঘ্রই দরপত্র আহবানের মাধ্যমে ঠিকাদার নিযুক্ত করে কাজ শুরু করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *