০৮:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জ- জগন্নাথপুর- ঢাকা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ

  • Update Time : ০২:১৪:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / 22

স্টাফ রিপোর্টঃ-
সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের জগন্নাথপুর উপজেলার নলজুর নদীর ওপর স্থাপিত সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) স্টিল ব্রিজটি আবারও দেবে গেছে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে একটি মালবাহী ট্রাক পার হওয়ার সময় ব্রিজের মাঝখানের ২ টি স্টিলের পাটাতন দেবে যায়। এর ফলে বর্তমানে ওই সড়ক দিয়ে রাজধানী অভিমুখী সকল প্রকার যাত্রীবাহী বাস ও ভারী যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে। কোনোমতে সিএনজি ও মোটরসাইকেলের মতো হালকা যানবাহন অতি সর্তকতার সাথে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও সাধারণ যাত্রী ও চালকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এলাকাবাসী ক্ষোভের সাথে জানান, এই বেইলি ব্রিজটি গত কয়েক বছরে বহুবার ধসে পড়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট একটি সিমেন্টবাহী ট্রাকসহ ব্রিজটি ভেঙে নদীতে পড়ে গিয়ে চালক ও হেলপারসহ দুজনের মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটেছিল। সেই স্মৃতি এখনো তাড়া করে ফিরছে স্থানীয়দের। ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতুর ওপর দিয়ে ১০ টনের বেশি মালবোঝাই যানবাহন চলাচলে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও চালকদের মধ্যে তা মানার কোনো বালাই নেই। অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণেই যেকোনো মুহূর্তে আবারও প্রাণহানিসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় লোকজন।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেক) সভায় একটি নতুন স্থায়ী আরসিসি সেতু নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু হয়নি। অনুমোদনের দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও কাজ শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সিএনজি চালক সুজন মিয়া বলেন, “ছোট গাড়ি নিয়া কোনোমতে যাতায়াত করলেও যাত্রী নিয়া ব্রিজে উঠতে ভয় লাগে।”

ঢাকাগামী ট্রাক চালক হাবিবুর বলেন, “গত কয়েক বছর ধইরাই দেখতেছি শুধু তালি দেওয়া মেরামত চলে।
একটা বড় ট্রাক উঠলেই ব্রিজ কাঁপে। স্থায়ী পাকা ব্রিজ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই ভোগান্তি শেষ হবে না।”

এই বিষয়ে সুনামগঞ্জ সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ বলেন, “খবর পেয়ে আমরা পাটাতন মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করি বিকেলের মধ্যে যান চলাচল স্বাভাবিক হবে। তবে এই স্থানে স্থায়ী আরসিসি সেতু নির্মাণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দাপ্তরিক কাজ ও প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন হলেই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হবে।”
জটুডে/মাহবুব

Please Share This Post in Your Social Media

সুনামগঞ্জ- জগন্নাথপুর- ঢাকা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ

Update Time : ০২:১৪:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টঃ-
সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের জগন্নাথপুর উপজেলার নলজুর নদীর ওপর স্থাপিত সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) স্টিল ব্রিজটি আবারও দেবে গেছে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে একটি মালবাহী ট্রাক পার হওয়ার সময় ব্রিজের মাঝখানের ২ টি স্টিলের পাটাতন দেবে যায়। এর ফলে বর্তমানে ওই সড়ক দিয়ে রাজধানী অভিমুখী সকল প্রকার যাত্রীবাহী বাস ও ভারী যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে। কোনোমতে সিএনজি ও মোটরসাইকেলের মতো হালকা যানবাহন অতি সর্তকতার সাথে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও সাধারণ যাত্রী ও চালকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এলাকাবাসী ক্ষোভের সাথে জানান, এই বেইলি ব্রিজটি গত কয়েক বছরে বহুবার ধসে পড়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট একটি সিমেন্টবাহী ট্রাকসহ ব্রিজটি ভেঙে নদীতে পড়ে গিয়ে চালক ও হেলপারসহ দুজনের মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটেছিল। সেই স্মৃতি এখনো তাড়া করে ফিরছে স্থানীয়দের। ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতুর ওপর দিয়ে ১০ টনের বেশি মালবোঝাই যানবাহন চলাচলে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও চালকদের মধ্যে তা মানার কোনো বালাই নেই। অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণেই যেকোনো মুহূর্তে আবারও প্রাণহানিসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় লোকজন।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেক) সভায় একটি নতুন স্থায়ী আরসিসি সেতু নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু হয়নি। অনুমোদনের দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও কাজ শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সিএনজি চালক সুজন মিয়া বলেন, “ছোট গাড়ি নিয়া কোনোমতে যাতায়াত করলেও যাত্রী নিয়া ব্রিজে উঠতে ভয় লাগে।”

ঢাকাগামী ট্রাক চালক হাবিবুর বলেন, “গত কয়েক বছর ধইরাই দেখতেছি শুধু তালি দেওয়া মেরামত চলে।
একটা বড় ট্রাক উঠলেই ব্রিজ কাঁপে। স্থায়ী পাকা ব্রিজ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই ভোগান্তি শেষ হবে না।”

এই বিষয়ে সুনামগঞ্জ সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ বলেন, “খবর পেয়ে আমরা পাটাতন মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করি বিকেলের মধ্যে যান চলাচল স্বাভাবিক হবে। তবে এই স্থানে স্থায়ী আরসিসি সেতু নির্মাণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দাপ্তরিক কাজ ও প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন হলেই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হবে।”
জটুডে/মাহবুব