০২:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত সৌহার্দ্য বাবুর সুস্থতায় সবার ভালোবাসা, আশীর্বাদ ও আন্তরিক সহযোগিতার প্রতি কৃতজ্ঞতা – সৌহার্দ্যর পিতা-মাতা

  • Update Time : ১১:০৯:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / 3
সংবাদ ফটোকার্ড তৈরি ও ডাউনলোড করুন →

ডেস্ক রিপোর্ট:
জীবনের কঠিন সময়ে মানুষের প্রকৃত ভালোবাসা, আন্তরিকতা ও সহমর্মিতার পরিচয় পাওয়া যায়। বিপদের মুহূর্তে পরিচিত-অপরিচিত মানুষের নিঃস্বার্থ সহযোগিতা নতুন করে সাহস জোগায়, বেঁচে থাকার প্রেরণা দেয়। সম্প্রতি আমার ছেলে সৌহার্দ্য, যাকে আমরা আদর করে বাবু বলে ডাকি, তার অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে এমন অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেয়েছি। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই এই লেখা।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পরিবারের সবাইকে নিয়ে মাগুরায় বেড়াতে গিয়েছিলাম। সঙ্গে ছিলেন আমাদের বৃদ্ধ মা। কিন্তু আনন্দের এই সফরের মধ্যেই মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরই মধ্যে আমার ছেলে সৌহার্দ্য বাবুর ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ায় আমাদের পরিবারে নেমে আসে গভীর দুশ্চিন্তা। সন্তানের অসুস্থতা একজন বাবার কাছে কতটা কষ্টের, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।

গত ২৩ অক্টোবর অসুস্থ বাবুকে নিয়ে মাগুরা সদর হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা হই এবং গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে ভর্তি করি। সেখানে চিকিৎসা শুরু হওয়ার পর বাবুর শারীরিক অবস্থায় কিছুটা উন্নতি লক্ষ করে আমাদের মনে আশার সঞ্চার হয়েছে। ২৪ অক্টোবরের রিপোর্টের মাধ্যমে তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়ার প্রত্যাশা করছি।

মাগুরা সদর হাসপাতালে থাকাকালীন যশোর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সম্মানিত আছাদুজ্জামান স্যারের আন্তরিক সহযোগিতা আমরা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি। মাগুরা সদর হাসপাতালের সম্মানিত চিকিৎসক ডা. পল্লব সাহার সহযোগিতায় আমরা হাসপাতালের একটি কেবিন পেয়েছিলাম। তার দিকনির্দেশনায় বাবুর চিকিৎসা চলছিল। তার সহযোগী চিকিৎসকদের আন্তরিকতা, ল্যাবএইডের পলি সিস্টারের সহযোগিতা এবং মাগুরা সদর হাসপাতালের সামনে থাকা সুজন ভাইয়ের পাশে দাঁড়ানো আমাদের এই দুর্যোগময় সময়ে অনেক সাহস জুগিয়েছে।

মাগুরা থেকে খুলনায় আসার পথে গাজী মেডিকেল কলেজের সম্মানিত প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ডা. গাজী মিজানুর রহমান স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তার সঙ্গে আমার পূর্ব থেকেই সুসম্পর্ক রয়েছে। স্যার বিদেশে অবস্থান করলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার ম্যানেজারকে বাবুর চিকিৎসার সার্বিক বিষয় দেখভালের দায়িত্ব দেন।

গাজী মেডিকেল কলেজের ডা. সৈকতের প্রতিও জানাই বিশেষ কৃতজ্ঞতা। তিনি আমার পরিবারের একজন সদস্যের মতো। তার আন্তরিকতা ও ভালোবাসায় বাবুর চিকিৎসার সুন্দর ব্যবস্থা পেয়েছি।

আমার ছেলে সৌহার্দ্যের বন্ধু অভি ও তার মা আমাদের বিপদের খবর শুনে হাসপাতালে ছুটে এসেছেন। অভি বাবুর সঙ্গে সময় কাটানোয় বাবুর মুখে আবার হাসি ফুটতে দেখেছি।

খুলনায় পৌঁছানোর পর আমাদের দেখতে গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে আসেন বর্ণমালা হ্যান্ড রাইটিং একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এবং খুলনা আর্ট একাডেমির হ্যান্ডরাইটিং প্রশিক্ষক বাবু ধনঞ্জয় রায়।

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর থেকে সম্মানিত কবি ও শিক্ষক এস এম জাহিদুল ইসলাম (জেড আই মোস্তফা), সাবেক বিভাগীয় প্রধান, মনোবিজ্ঞান বিভাগ, ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজ আমাদের এই দুঃসময়ে পাশে দাঁড়িয়ে সার্বিক সহযোগিতা করছেন।

এছাড়াও ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচিত হওয়া অসংখ্য মানুষ বাবুর অসুস্থতার খবর শুনে যোগাযোগ করেছেন। কেউ ফোন করে, কেউ বার্তা পাঠিয়ে বাবুর খোঁজ নিয়েছেন। যাদের সঙ্গে হয়তো কখনো সরাসরি দেখা হয়নি, তারাও আজ আপনজনের মতো পাশে দাঁড়িয়েছেন।

বাবুর অসুস্থতার পর থেকে অসংখ্য মানুষের ফোন ও বার্তা পেয়েছি। কিন্তু মাগুরা থেকে খুলনায় আসার পথে সন্তানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে দুশ্চিন্তা, হাসপাতালের ব্যস্ততা এবং মানসিক চাপের কারণে সবার সঙ্গে কথা বলা বা বার্তার উত্তর দেওয়া সম্ভব হয়নি। অনিচ্ছাকৃতভাবে কারও ফোন ধরতে না পারলে বা উত্তর দিতে দেরি হলে দয়া করে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

যারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, চিকিৎসার বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন, নিয়মিত খোঁজখবর নিয়েছেন এবং বাবুর সুস্থতা কামনা করেছেন, তাদের প্রত্যেকের প্রতি রইল হৃদয়ের গভীর থেকে কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা।

সবশেষে সবার কাছে একান্ত প্রত্যাশা, আপনাদের শুভকামনা, আশীর্বাদ ও প্রার্থনায় আমার ছেলে সৌহার্দ্য যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে।

Please Share This Post in Your Social Media

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত সৌহার্দ্য বাবুর সুস্থতায় সবার ভালোবাসা, আশীর্বাদ ও আন্তরিক সহযোগিতার প্রতি কৃতজ্ঞতা – সৌহার্দ্যর পিতা-মাতা

Update Time : ১১:০৯:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
সংবাদ ফটোকার্ড তৈরি ও ডাউনলোড করুন →

ডেস্ক রিপোর্ট:
জীবনের কঠিন সময়ে মানুষের প্রকৃত ভালোবাসা, আন্তরিকতা ও সহমর্মিতার পরিচয় পাওয়া যায়। বিপদের মুহূর্তে পরিচিত-অপরিচিত মানুষের নিঃস্বার্থ সহযোগিতা নতুন করে সাহস জোগায়, বেঁচে থাকার প্রেরণা দেয়। সম্প্রতি আমার ছেলে সৌহার্দ্য, যাকে আমরা আদর করে বাবু বলে ডাকি, তার অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে এমন অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেয়েছি। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই এই লেখা।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পরিবারের সবাইকে নিয়ে মাগুরায় বেড়াতে গিয়েছিলাম। সঙ্গে ছিলেন আমাদের বৃদ্ধ মা। কিন্তু আনন্দের এই সফরের মধ্যেই মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরই মধ্যে আমার ছেলে সৌহার্দ্য বাবুর ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ায় আমাদের পরিবারে নেমে আসে গভীর দুশ্চিন্তা। সন্তানের অসুস্থতা একজন বাবার কাছে কতটা কষ্টের, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।

গত ২৩ অক্টোবর অসুস্থ বাবুকে নিয়ে মাগুরা সদর হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা হই এবং গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে ভর্তি করি। সেখানে চিকিৎসা শুরু হওয়ার পর বাবুর শারীরিক অবস্থায় কিছুটা উন্নতি লক্ষ করে আমাদের মনে আশার সঞ্চার হয়েছে। ২৪ অক্টোবরের রিপোর্টের মাধ্যমে তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়ার প্রত্যাশা করছি।

মাগুরা সদর হাসপাতালে থাকাকালীন যশোর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সম্মানিত আছাদুজ্জামান স্যারের আন্তরিক সহযোগিতা আমরা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি। মাগুরা সদর হাসপাতালের সম্মানিত চিকিৎসক ডা. পল্লব সাহার সহযোগিতায় আমরা হাসপাতালের একটি কেবিন পেয়েছিলাম। তার দিকনির্দেশনায় বাবুর চিকিৎসা চলছিল। তার সহযোগী চিকিৎসকদের আন্তরিকতা, ল্যাবএইডের পলি সিস্টারের সহযোগিতা এবং মাগুরা সদর হাসপাতালের সামনে থাকা সুজন ভাইয়ের পাশে দাঁড়ানো আমাদের এই দুর্যোগময় সময়ে অনেক সাহস জুগিয়েছে।

মাগুরা থেকে খুলনায় আসার পথে গাজী মেডিকেল কলেজের সম্মানিত প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ডা. গাজী মিজানুর রহমান স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তার সঙ্গে আমার পূর্ব থেকেই সুসম্পর্ক রয়েছে। স্যার বিদেশে অবস্থান করলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার ম্যানেজারকে বাবুর চিকিৎসার সার্বিক বিষয় দেখভালের দায়িত্ব দেন।

গাজী মেডিকেল কলেজের ডা. সৈকতের প্রতিও জানাই বিশেষ কৃতজ্ঞতা। তিনি আমার পরিবারের একজন সদস্যের মতো। তার আন্তরিকতা ও ভালোবাসায় বাবুর চিকিৎসার সুন্দর ব্যবস্থা পেয়েছি।

আমার ছেলে সৌহার্দ্যের বন্ধু অভি ও তার মা আমাদের বিপদের খবর শুনে হাসপাতালে ছুটে এসেছেন। অভি বাবুর সঙ্গে সময় কাটানোয় বাবুর মুখে আবার হাসি ফুটতে দেখেছি।

খুলনায় পৌঁছানোর পর আমাদের দেখতে গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে আসেন বর্ণমালা হ্যান্ড রাইটিং একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এবং খুলনা আর্ট একাডেমির হ্যান্ডরাইটিং প্রশিক্ষক বাবু ধনঞ্জয় রায়।

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর থেকে সম্মানিত কবি ও শিক্ষক এস এম জাহিদুল ইসলাম (জেড আই মোস্তফা), সাবেক বিভাগীয় প্রধান, মনোবিজ্ঞান বিভাগ, ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজ আমাদের এই দুঃসময়ে পাশে দাঁড়িয়ে সার্বিক সহযোগিতা করছেন।

এছাড়াও ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচিত হওয়া অসংখ্য মানুষ বাবুর অসুস্থতার খবর শুনে যোগাযোগ করেছেন। কেউ ফোন করে, কেউ বার্তা পাঠিয়ে বাবুর খোঁজ নিয়েছেন। যাদের সঙ্গে হয়তো কখনো সরাসরি দেখা হয়নি, তারাও আজ আপনজনের মতো পাশে দাঁড়িয়েছেন।

বাবুর অসুস্থতার পর থেকে অসংখ্য মানুষের ফোন ও বার্তা পেয়েছি। কিন্তু মাগুরা থেকে খুলনায় আসার পথে সন্তানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে দুশ্চিন্তা, হাসপাতালের ব্যস্ততা এবং মানসিক চাপের কারণে সবার সঙ্গে কথা বলা বা বার্তার উত্তর দেওয়া সম্ভব হয়নি। অনিচ্ছাকৃতভাবে কারও ফোন ধরতে না পারলে বা উত্তর দিতে দেরি হলে দয়া করে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

যারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, চিকিৎসার বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন, নিয়মিত খোঁজখবর নিয়েছেন এবং বাবুর সুস্থতা কামনা করেছেন, তাদের প্রত্যেকের প্রতি রইল হৃদয়ের গভীর থেকে কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা।

সবশেষে সবার কাছে একান্ত প্রত্যাশা, আপনাদের শুভকামনা, আশীর্বাদ ও প্রার্থনায় আমার ছেলে সৌহার্দ্য যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে।