০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রেস্টফিডিং কর্নার চেয়ে জকসুর আবেদন, আশ্বাসের পরও বাস্তবায়ন করেনি প্রশাসন

  • Update Time : ০৯:৩৯:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 21

দেবপ্রিয় অধিকারী, জবি থেকে:

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মাতৃত্বকালীন শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেস্টফিডিং কর্নার স্থাপনের আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে সন্তান নিয়ে ক্যাম্পাসে আসা শিক্ষার্থীদের শিশুদের দুধ পান করানোর জন্য নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও ব্যক্তিগত পরিবেশের সংকট রয়েছে।

গত ২৪ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর ব্রেস্টফিডিং কর্নার স্থাপনের জন্য লিখিত আবেদন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য ফাতেমা আক্তার অওরিন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে নির্ধারিত কোনো ব্রেস্টফিডিং কর্নার নেই। এতে সন্তানসহ ক্যাম্পাসে আসা শিক্ষার্থীদের শিশুদের দুধ পান করানোর সময় নিরাপদ, নিরিবিলি ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশের অভাবে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে তাদের ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমে স্বাভাবিক অংশগ্রহণ ব্যাহত হচ্ছে।
আবেদনে মাতৃত্বকালীন শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য ক্যাম্পাসের উপযুক্ত স্থানে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ, বিশ্রামের ব্যবস্থা এবং শিশুবান্ধব সুবিধাসহ একটি ব্রেস্টফিডিং কর্নার স্থাপনের দাবি জানানো হয়।

ফাতেমা আক্তার অওরিন বলেন, “মাতৃত্বকালীন শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেস্টফিডিং কর্নার একটি মৌলিক ও মানবিক প্রয়োজন। এ বিষয়ে আবেদন করার পর পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও প্রশাসন কেবল আশ্বাসই দিয়েছে। এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আমরা আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”

জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “এটি আমাদের দীর্ঘদিনের একটি দাবি ছিল। মাতৃত্বকালীন শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে জকসুর পক্ষ থেকে ব্রেস্টফিডিং কর্নার স্থাপনের জন্য আবেদন করা হয়। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্যও এটি অনুমোদন করেছেন। তবে দুঃখজনক বিষয় হলো, অনুমোদনের পরও এখন পর্যন্ত এটি বাস্তবায়ন হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ব্রেস্টফিডিং কর্নার থাকা খুবই জরুরি। এটি চালু হলে সন্তান নিয়ে ক্যাম্পাসে আসা আমাদের বোনেরা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শিশুদের দুধ পান করাতে পারবেন। একই সঙ্গে তারা একাডেমিক কার্যক্রমেও স্বাভাবিকভাবে অংশ নিতে পারবেন। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত এ দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানাই।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের বক্তব্য জানতে সরাসরি ও মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

ব্রেস্টফিডিং কর্নার চেয়ে জকসুর আবেদন, আশ্বাসের পরও বাস্তবায়ন করেনি প্রশাসন

Update Time : ০৯:৩৯:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেবপ্রিয় অধিকারী, জবি থেকে:

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মাতৃত্বকালীন শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেস্টফিডিং কর্নার স্থাপনের আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে সন্তান নিয়ে ক্যাম্পাসে আসা শিক্ষার্থীদের শিশুদের দুধ পান করানোর জন্য নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও ব্যক্তিগত পরিবেশের সংকট রয়েছে।

গত ২৪ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর ব্রেস্টফিডিং কর্নার স্থাপনের জন্য লিখিত আবেদন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য ফাতেমা আক্তার অওরিন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে নির্ধারিত কোনো ব্রেস্টফিডিং কর্নার নেই। এতে সন্তানসহ ক্যাম্পাসে আসা শিক্ষার্থীদের শিশুদের দুধ পান করানোর সময় নিরাপদ, নিরিবিলি ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশের অভাবে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে তাদের ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমে স্বাভাবিক অংশগ্রহণ ব্যাহত হচ্ছে।
আবেদনে মাতৃত্বকালীন শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য ক্যাম্পাসের উপযুক্ত স্থানে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ, বিশ্রামের ব্যবস্থা এবং শিশুবান্ধব সুবিধাসহ একটি ব্রেস্টফিডিং কর্নার স্থাপনের দাবি জানানো হয়।

ফাতেমা আক্তার অওরিন বলেন, “মাতৃত্বকালীন শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেস্টফিডিং কর্নার একটি মৌলিক ও মানবিক প্রয়োজন। এ বিষয়ে আবেদন করার পর পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও প্রশাসন কেবল আশ্বাসই দিয়েছে। এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আমরা আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”

জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “এটি আমাদের দীর্ঘদিনের একটি দাবি ছিল। মাতৃত্বকালীন শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে জকসুর পক্ষ থেকে ব্রেস্টফিডিং কর্নার স্থাপনের জন্য আবেদন করা হয়। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্যও এটি অনুমোদন করেছেন। তবে দুঃখজনক বিষয় হলো, অনুমোদনের পরও এখন পর্যন্ত এটি বাস্তবায়ন হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ব্রেস্টফিডিং কর্নার থাকা খুবই জরুরি। এটি চালু হলে সন্তান নিয়ে ক্যাম্পাসে আসা আমাদের বোনেরা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শিশুদের দুধ পান করাতে পারবেন। একই সঙ্গে তারা একাডেমিক কার্যক্রমেও স্বাভাবিকভাবে অংশ নিতে পারবেন। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত এ দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানাই।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের বক্তব্য জানতে সরাসরি ও মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।