০২:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগুনে পুড়ল গৌরীপুরের ঐতিহ্যবাহী ঝলমল সিনেমা হল

  • Update Time : ০২:৩৬:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 9

হারাধন সূত্রধর, ময়মনসিংহ:
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ঐতিহ্যবাহী ঝলমল সিনেমা হলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত নাট্যশালা, যা পরবর্তীতে ঝলমল সিনেমা হল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গৌরীপুর ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মো. খবিরুল আলম জানান, আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস সিলিন্ডারের গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে মুহূর্তের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি জানান, খবর পেয়ে গৌরীপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পরে ঈশ্বরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের আরও দুটি ইউনিট এবং ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয়। প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে সকালে ভবনের ভেতরে থাকা একটি ফার্নিচার কারখানায় আবারও আগুন জ্বলতে দেখা যায়। পরে গৌরীপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে সেটিও নিয়ন্ত্রণে আনেন।
অগ্নিকাণ্ডে ঝলমল সিনেমা হলের মূল ভবনের পাশাপাশি সেখানে থাকা একটি আসবাবপত্র নির্মাণ কারখানা, একটি গ্যাস সিলিন্ডারের গোডাউন এবং ভবনের সামনের ড্রাইভার শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় পুড়ে গেছে।
দীর্ঘদিন ধরে ঝলমল সিনেমা হলটি বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে ভবনটিতে একটি ফার্নিচার কারখানা ও গ্যাস সিলিন্ডারের গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।
ফার্নিচার কারখানার মালিক ভুট্টো জানান, আগুন লাগার প্রায় ৩০ মিনিট পর তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। আগুনে তাঁর এক কোটি টাকার বেশি মূল্যের কাঠ, নির্মাণাধীন আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি পুড়ে গেছে।
তানভীর এলপিজি স্টোরের মালিক তানভীর আহমেদ জানান, গত রাতে ২৫০টি গ্যাসভর্তি সিলিন্ডারের একটি চালান আসে। সিলিন্ডারগুলো গোডাউনে রাখা হয়েছিল। আগুনে সেগুলোসহ গোডাউনের সবকিছু পুড়ে গেছে। এতে তাঁর প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ড্রাইভার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. মজনু মিয়া জানান, সিনেমা হলের মূল ভবনের সামনে তাঁদের কার্যালয় ছিল। অগ্নিকাণ্ডে কার্যালয়টি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
গৌরীপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ বি এম কাউসার জামান বলেন ঝলমল সিনেমা হলটি রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি। সিনেমা হল পরিচালনার জন্য সরকার এটি লিজ দিয়েছিল। বর্তমানে কারা এবং কী অবস্থায় সম্পত্তিটি ব্যবহার করছে, পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে—এসব বিষয় পরিদর্শন করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পর আরও স্পষ্ট হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

আগুনে পুড়ল গৌরীপুরের ঐতিহ্যবাহী ঝলমল সিনেমা হল

Update Time : ০২:৩৬:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

হারাধন সূত্রধর, ময়মনসিংহ:
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ঐতিহ্যবাহী ঝলমল সিনেমা হলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত নাট্যশালা, যা পরবর্তীতে ঝলমল সিনেমা হল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গৌরীপুর ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মো. খবিরুল আলম জানান, আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস সিলিন্ডারের গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে মুহূর্তের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি জানান, খবর পেয়ে গৌরীপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পরে ঈশ্বরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের আরও দুটি ইউনিট এবং ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয়। প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে সকালে ভবনের ভেতরে থাকা একটি ফার্নিচার কারখানায় আবারও আগুন জ্বলতে দেখা যায়। পরে গৌরীপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে সেটিও নিয়ন্ত্রণে আনেন।
অগ্নিকাণ্ডে ঝলমল সিনেমা হলের মূল ভবনের পাশাপাশি সেখানে থাকা একটি আসবাবপত্র নির্মাণ কারখানা, একটি গ্যাস সিলিন্ডারের গোডাউন এবং ভবনের সামনের ড্রাইভার শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় পুড়ে গেছে।
দীর্ঘদিন ধরে ঝলমল সিনেমা হলটি বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে ভবনটিতে একটি ফার্নিচার কারখানা ও গ্যাস সিলিন্ডারের গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।
ফার্নিচার কারখানার মালিক ভুট্টো জানান, আগুন লাগার প্রায় ৩০ মিনিট পর তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। আগুনে তাঁর এক কোটি টাকার বেশি মূল্যের কাঠ, নির্মাণাধীন আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি পুড়ে গেছে।
তানভীর এলপিজি স্টোরের মালিক তানভীর আহমেদ জানান, গত রাতে ২৫০টি গ্যাসভর্তি সিলিন্ডারের একটি চালান আসে। সিলিন্ডারগুলো গোডাউনে রাখা হয়েছিল। আগুনে সেগুলোসহ গোডাউনের সবকিছু পুড়ে গেছে। এতে তাঁর প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ড্রাইভার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. মজনু মিয়া জানান, সিনেমা হলের মূল ভবনের সামনে তাঁদের কার্যালয় ছিল। অগ্নিকাণ্ডে কার্যালয়টি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
গৌরীপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ বি এম কাউসার জামান বলেন ঝলমল সিনেমা হলটি রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি। সিনেমা হল পরিচালনার জন্য সরকার এটি লিজ দিয়েছিল। বর্তমানে কারা এবং কী অবস্থায় সম্পত্তিটি ব্যবহার করছে, পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে—এসব বিষয় পরিদর্শন করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পর আরও স্পষ্ট হবে।