রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন

ডেস্ক রিপোর্ট:
রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। সোমবার (৩০ জুলাই) রাত ৮টায় প্রার্থীদের পোলিং এজেন্ট সূত্রে বেসরকারি ফলাফল পাওয়া যায়।

রাসিকের ১৩৮টি কেন্দ্রের সবকটির ফলাফলে লিটন পেয়েছেন ১ লাখ ৬৩ হাজার ৩শ ৯৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৪শ ৯২ ভোট।

এর আগে, সকাল ৮টায় নগরীর উপ-শহর স্যাটেলাইট টাউন স্কুল কেন্দ্রে নিজের ভোট দিয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হওয়ার পাশাপাশি নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা জয়ের ব্যাপারে শতভাগের কাছাকাছি আশাবাদী।

যেকোন ফলাফল মেনে নেয়ার মানসিকতাও আমাদের রয়েছে। আশা করছি, ৭০ থেকে ৭৫ হাজার ভোট বেশি পেয়ে আমরা বিজয়ী হব। প্রতিকূল আবহাওয়া মূষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভোটারদের বিশেষ করে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যনিয়।

এদিকে রাসিকের ২২নং ওয়ার্ডের ২টি ভোট কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ করা হয়। এসব কেন্দ্রে ভোটাররা প্রথমবার এ পদ্ধতিতে ভোট দেয়ায় কিছুটা সমস্যায় পড়েন বলে অভিযোগ করেন। তবে, কেন্দ্রে থাকা কর্মকর্তারা এক্ষেত্রে তাদের সহায়তা করেন বলেও জানান ভোটাররা।

জগন্নাথপুর টুডে/বিপ্লব

ছেলের লাঠির আঘাতে বাবা নিহত

টুডে ডেস্ক:

মাদকসেবী এক ছেলের লাঠির আঘাতে বাবা নিহত হয়েছেন। সোমবার দুপুরে ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, পাথরডুবী ইউনিয়নের পাথরডুবী গ্রামের নুরুল ইসলাম মাস্টার (৬০) স্থানীয় একটি কিন্ডার গার্টেন স্কুলে শিক্ষকতার কাজ করতেন।

তার ছোট ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৩২) মাদক সেবন করতেন এবং নিয়মিত টাকা না দেয়ায় প্রায় সময়ই ঝগড়া হতো। ঘটনার দিনেও টাকা না দেওয়ায় বাবা-ছেলের মধ্যে ঝগড়া সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে ছেলের লাঠির আঘাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

জগন্নাথপুর টুডে/বিপ্লব

সৌদি আরবে আরো ৩ বাংলাদেশী হজযাত্রীর মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ:

তারা হলেন দিনাজপুর সদরের মো.আখতারুজ্জামান (৬২), বরিশাল বাকেরগঞ্জ ভরপাশা গ্রামের এম এ বারাক হাওলাদার (৬৩) ও কিশোরগঞ্জ হোসাইনপুরের সাহেদল গ্রামের মো. মতিউর রহমান (৫৯)। এ তিনজনকে নিয়ে চলতি বছর পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে মোট আটজন হজযাত্রী মারা গেলেন। এদের সবাই মক্কায় মারা যান।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে মক্কা থেকে প্রকাশিত হজ বুলেটিন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

শুক্রবার (২৭ জুলাই) মো. মতিউর রহমান মারা যান। তার পিলগ্রিম আইডি ১৪৫৩১৪১ ও পাসপোর্ট নম্বর বিকিউ ০৩৮৯৬৫৪। তিনি সেরাপ অ্যাভিয়েশন সার্ভিসেসের (হজ লাইন্সেস নম্বর ১৪৫৩) মাধ্যমে ২৬ জুলাই সৌদি এয়ারলাইন্স যোগে সৌদি যান।

শনিবার (২৮ জুলাই) এম এ বারাক হাওলাদার মারা যান। তার পিলগ্রিম নম্বর ০২৮৬০৩৮ ও পাসপোর্ট নম্বর বিএম ০৪৪৪৮২৭। তিনি বিলাস ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের (হজ লাইন্সেস নম্বর ০২৮৬) মাধ্যমে ২৪ জুলাই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যোগে সৌদি আরব যান।

শনিবার মো. আখতারুজ্জামান নামে আরও একজন মারা যান। তার পিলগ্রিম আইডি নম্বর ০৩৪৭১৭৭ ও ও পাসপোর্ট নম্বর বিকিউ ০৯৩২৩৭৮। তিনি আকাবা ইন্টারন্যাশনালের (হজ লাইসেন্স নম্বর ০৩৪৭) মাধ্যমে ২৪ জুলাই সৌদি এয়ারলাইন্সে সৌদি পৌঁছান।

জগন্নাথপুর টুডে/বিপ্লব

তিন সিটি করপোরেশনে জয়ের আশা আওয়ামী লীগের – নানামুখী শঙ্কায় বিএনপি

ডেস্ক রিপোর্ট:
বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচারণা শেষ। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বেঁধে দেয়া সময়সীমা অনুযায়ী শনিবার মধ্যরাতে প্রচারণা শেষ হয়েছে। রাত পোহালেই আগামীকাল সোমবার এই তিন সিটিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মেয়র, সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনে প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সারাদেশের চোখ মূলত মেয়র পদে লড়াইয়ের দিকে।

প্রথমবারের মতো মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হতে যাচ্ছে এই তিন সিটিতে। প্রচারণার শেষ মুহূর্তে মেয়র পদে মূল প্রতিদ্বন্দ্বীদের বক্তব্য-মন্তব্য, পাঠানো প্রতিবেদনসমূহ এবং উল্লেখযোগ্য অন্যান্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরাখবর পর্যালোচনা করলে যে স্বারার্থ দাঁড়ায় তা হলো- তিন সিটিতেই জয়ের ব্যাপারে প্রবল আশাবাদী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আর নানামুখী শঙ্কায় বিএনপি।

তিন সিটিতে মেয়র পদে বিভিন্ন দলের প্রার্থী থাকলেও মূল ভোটযুদ্ধ হতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের ‘নৌকা’ প্রতীকের সঙ্গে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থীদের। বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট ছাড়াও খুলনা ও গাজীপুর- এই পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আগেরবার বিপুল ভোটে জয় পেয়েছিল বিএনপি। ইতোমধ্যে খুলনা ও গাজীপুরে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের শক্ত-বিশ্বাস, খুলনা ও গাজীপুরের মতো সোমবারের ভোটেও তিন সিটিতে মেয়র পদে ‘নৌকা’র প্রার্থীরা জয়ী হবেন।

এদিকে, তিন সিটিতেই প্রচার ও প্রচারণার কৌশলে এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীকে শুরুতেই সমর্থন জানিয়েছে এরশাদের জাতীয় পার্টি (জাপা)। বরিশালেও শেষদিকে এসে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে দলটি। তবে জাপার ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে মেয়র পদে এখনও মাঠে আছেন তাপস।

কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত না মানায় শুক্রবার তাপসকে দল থেকে বহিস্কার করেনে জাপা চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ। আর ভোটের মাত্র দু’দিন আগে, গতকাল সিলেটেও আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে জাপা। অন্যদিকে, তিন সিটিতেই দল ও জোটের অভ্যন্তরীণ নানা কোন্দল-দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে বিএনপির মেয়র প্রার্থীদের।

নানা চেষ্টা করেও সিলেটে জোটসঙ্গী জামায়াতের মেয়র প্রার্থীকে ভোট থেকে বিরত রাখতে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি। রাজশাহী ও বরিশালেও বিএনপির মেয়র প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামতে বেশ কয়েকদিন সময় নিয়েছে স্থানীয় জামায়াত। ভোটের হিসাব-নিকাষে এই বিষয়গুলোও ধর্তব্য বলে মনে করা হচ্ছে।

 

বিশ্বকাপ খেলা দেখতে বাধা দেয়ায় স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

জ.টুডে ডেক্স:-
বিশ্বকাপ ফুটবলের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ইংল্যান্ড বনাম ক্রোয়েশিয়ার খেলা দেখতে যেতে বাধা দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে ‘হত্যা’ করেছেন স্বামী ইব্রাহিম শেখ। বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই) রাতে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।

জানা গেছে, বিশ্বকাপ খেলা দেখতে বাইরে বের হতে চান ইব্রাহিম শেখ। এ সময় তার স্ত্রী লিপি বেগম (২৫) তাকে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করে বসেন ইব্রাহিম। এ ঘটনায় নিহত লিপির স্বামী ইব্রাহিমকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

কাশিয়ানী থানার ওসি মো. আজিজুর রহমান জানিয়েছেন লিপি হত্যা কান্ডের বিষয়ে গ্রেফতারকৃত ইব্রাহিমকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে লিপি বেগমকে পেটে ছুরি চালিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

জ.টুডে ১৪ জুলাই ১৮/ এইচ কে

ঝড়ে পড়া রোধে মিডডে মিল

মিডডে মিল কথাটা অতি পুরনো। এর সূত্রপাত হয় সম্ভবত ১৯২৫ সালে ব্রিটিশরা ইন্ডিয়াতে মাদ্রাজ করপোরেশনের মাধ্যমে। তাদের দেখাদেখি ফ্রান্স চালু করে ১৯৩০ সালে। ১৯৬২-৬৩ সালে তামিলনাড়– রাজ্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি বৃদ্ধির জন্য মিডডে মিল চালু করে। সমগ্র ভারতে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ১৯৯৫ সাল থেকে মিডডে মিল চালুর প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

বাংলাদেশে জাতিসংঘের বিশ্বখাদ্য কর্মসূচীর সহায়তায় স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পুষ্টিহীনতা দূর করার জন্য পুষ্টিকর বিস্কুট সরবরাহ করা হয়। পরবর্তীতে বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজস্ব অগ্রহ ও উদ্যোগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মিডডে মিল কার্যক্রম চালুর বিষয়ে সকলকে আহবান করেন।

তার আহবানে সাড়া দিয়ে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে বিভিন্নভাবে চালু হয় মিডডে মিল। মিডডে মিল বলতে যে মিল মিডডে অর্থাৎ দুপুরে খাওয়া হয়। বাংলাদেশে প্রত্যেক পরিবার দুপুরের খাবারকে খুব গুরুত্ব দেয় যদিও দেশে দেশে এর ব্যতিক্রম আছে। ফলে অভ্যাসগতভাবে দুপুর হলেই ক্ষুধা লাগে। আবার ক্ষুধা না লাগলেও এসময় খেতে হবে তাই সবাই খায়। কিন্তু ছাত্রদের ক্ষেত্রে এ খাবারটা জোটেনা।

ফলে তাদের দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকতে হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা এটা মানিয়ে নিতে পারলেও প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য অনেকক্ষন না খেয়ে থাকা নিঃসন্দেহে কষ্টকর। মিডডে মিল কার্যক্রমে প্রথমে সাড়া দেয় ধনাঢ্য ব্যক্তিগণ ও প্রবাসীরা এবং পৃষ্ঠপোষকতা করে সরকারী কর্মকর্তা/কর্মচারী ও এসএমসির সদস্যরা।

তারা এ কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে নিজেদের কর্ম এলাকা কিংবা জন্মস্থানে এক দুইটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিডডে মিল চালু করে। প্রথমে সাদা ভাত, মাছ, মাংস বা ডিম দিয়ে শুরু করলেও পরে এটি খিচুরীতে রূপ নেয়। কারণ খিচুরী একটি পুষ্টিকর খাদ্য আবার এতে খরচও কম। তাই খিচুরীকে বেছে নেয়া হয়। চ্যারিটেবল সংগঠনও একাজে আগ্রহ দেখায় এবং তাদের পরিচালিত বিদ্যালয়ে মিডডে মিল চালু করে। কিন্তু কেহই এ কার্যক্রমকে আগাগোড়া চলমান রাখতে পারেনি।

ফলে এটি নতুন মাত্রা লাভ করেছে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাবে। বর্তমানে বিভিন্ন ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালিত সংগঠন, উপজেলা পরিষদ, বিভিন্ন এনজ্ওি ও চ্যারিটেবল সংগঠন মিডডে মিল চালু রাখতে টিফিন বক্স কিনে দিচ্ছে। কিন্তু কিভাবে এ মিডডে মিল চালু থাকবে সে ফর্মুলা তারা বাতলে দেয়নি।

ফলে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শিক্ষা বিভাগ ও এসএমসির সহায়তায় বিভিন্ন বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ ও মা সমাবেশ করে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সচেতন করে মিডডে মিলের বিষয়ে অভিভাবকদের বুঝাতে সক্ষম হয়েছে যে, আপনার সন্তানটি দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে যে সকল অসুবিধা হয় তা দূর করতে না পারলে তার শরীর মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিবে এতে করে পড়ায় মনোযোগ থাকবেনা। আপনার সন্তানের জন্য সকাল বেলার খাবার থেকে সামান্য খাবার তুলে রেখে টিফিন বক্সে করে দিলে সে দুপুরে অন্তত কিছু খেতে পারবে।

যদি সকালের খাবার বাড়তি না থাকে তবে কিছু মুড়ি, খই, বিস্কুট, দেশী ফল, একটু জাউ রান্না করে, খিচুরী রান্না করে অর্থাৎ সামর্থ্য মোতাবেক ঘরের খাবারের কিছু অংশ টিফিন বক্সে দিয়ে দেয়া। পাশাপাশি একটি ছোট বোতলে নিজ ঘরের বিশুদ্ধ পানি ব্যাগে দিয়ে তার সন্তানকে স্কুলে পাঠানো। এই কাজে সবার আগে সাড়া দিয়েছে মায়েরা।

কারণ মায়েরা নিজে না খেয়েও তার সন্তানের জন্য খাবার তুলে রেখে টিফিন বক্সে দিয়ে দেয়। এখন বাবারাও এতে উৎসাহ দেখাচ্ছে এবং মায়েদের কাজটিকে সমর্থন করে সাহায্য করছে। স্কুল ম্যানেজিং কমিটি কোন কোন এলাকায় ধনাঢ্য ও প্রবাসীদের বিদ্যালয়ের প্রতি আকৃষ্ট করে সপ্তাহে কিংবা মাসে একবার ভাল খাবারের ব্যবস্থা করছে।

ফলে ঐ এলাকার জনসাধারণের মধ্যে সন্তানের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্যের ক্ষেত্রে সচেতনতা বাড়ছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাও তাদের বাড়ী থেকে খাবার নিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের সাথে খাচ্ছে। দেখলে মনে হবে একটি পরিবার মধ্যাহ্ন ভোজ করছে। কোথাও কোথাও দেখা যাচ্ছে যে, শিক্ষার্থী মিডডে মিল হিসেবে কোন একদিন কিছু আনতে না পারলে অন্য শিক্ষার্থীরা কিংবা শিক্ষকরা তাদের খাবার থেকে শেয়ার করে খাচ্ছে।

অপূর্ব এক পরিবেশ সুন্দর ও নির্মল শিক্ষালয়। মিডডে মিল চালু হওয়ার ফলে শিক্ষার্থীদের সুস্থ্য দেহে সুস্থ্য মন কথাটির বাস্তবায়ন হচ্ছে। শরীরে শক্তি না থাকলে মনের জোর আসেনা। তাই সময়মত খাবার পেলে শরীর মনে সজীবতা ও উৎফুল্ল ভাব ফিরে আসে। ছাত্র-ছাত্রীরা ঝিমিয়ে পড়েনা। আগাগোড়া পড়াশুনায় মনোযোগ দিতে পারে। পুষ্টিহীন শিশুরাও পুষ্টির অভাব দূর করার সুযোগ পায়।

বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বেড়ে যায়। পাশের হার বাড়ে এবং ঝড়ে পড়া কমে যায়। শিক্ষার্থীরা খেলাধূলায় আগ্রহ দেখায়। পাঠগ্রহণ ও পাঠদানে উৎসাহ থাকে। শিক্ষকেরা বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রমে সব শিশুকে নিয়োজিত করতে পারে। ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে সুন্দর এক সমন্বয় থাকে। প্রতিটি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে তৎপর হয়।

শিখন ও শেখানো কাজটি প্রাণবন্ত হয়। কঠিন বিষয়ের পাঠে তাদের বিমূখতা বা অলসতা আসেনা। বারবার ছুটির জন্য শিক্ষার্থীরা শিক্ষককে তাগাদা দেয়না। যোগ্যতা ভিত্তিক পাঠদান সম্ভব হয়। পরিশেষে সকল বিদ্যালয়ে এরূপ ব্যবস্থা কার্যকর হলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার বাড়বে এবং ঝড়ে পড়া রোধ হবে।

                  মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ
(লেখক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, নারায়ানগঞ্জ)

জ.টুডে-৬ জুলাই ১৮/বিডিএন

পাহাড়ধসে পরিবারের একমাত্র বেঁচে যাওয়া শিশু আখিমনি

জগন্নাথপুর টুডে ডেস্ক:

উপজেলা সরই ইউনিয়নে পাহাড় ধসে ৩ জন নিহত হওয়া পরিবারে একমাত্র বেঁচে থাকা শিশু আখিমনি (৫)। সে এখনও বুঝে উঠতে পারেনি তার মা-বাবা বেঁচে নেই। পাহাড় ধসের সময় পাশের রুমে অবস্থান করায় আখিমনি মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যায়। বুধবার দুপুরে দাদা মাইনউদ্দিনের কোলে চড়ে উপজেলা নিবার্হী অফিসারের কার্যালয়ে এসে জেলা প্রশাসনের দেয়া ২৫ হাজার টাকা গ্রহণ করেছে আখি।

বাবা মো. হানিফ (৩০), মা রাজিয়া বেগম (২৫) ও ছোট বোন হালিমা বেগমকে (৩) নিয়ে হাসিখুশিতে মেতে থাকতো ৫ বছরের শিশু আখিমনি। মঙ্গলবার (৩ জুলাই) দুপুরে মুষলধারে বৃষ্টি হলে পাহাড় ধসে আখিমনির পরিবারে ৩ জনই নিহত হয়। দাদা মাইনউদ্দিনই আখিমনির একমাত্র ভরসা। লামা উপজেলা নিবার্হী অফিসার নূর-এ-জান্নাত রুমি জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে নিহত পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য মো. মোস্তাফা জামাল জানিয়েছেন, বান্দরবান জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে নিহত পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

পুত্র, পুত্রবধূ ও নাতনি হারিয়ে নির্বাক মাইনউদ্দিন জানালেন, আখিমনির ভবিষ্যৎ আল্লাহ জানেন। আমি যতদিন বেঁচে আছি তাকে চেষ্টা করবো পরম মমতায় লালন পালন করতে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিশু আখির হাতে শুকনো খাবার ও নতুন জামা কাপড় তুলে দিয়েছেন এবং তাকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

সুত্র-ইত্তে:/বিডিএন

বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা

জগন্নাথপুর টুডে ডেস্ক:
রংপুরের বদরগঞ্জে মহুবার মিয়া (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। আজ মঙ্গলবার (৩জুলােই) বিকেলে উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের পাঠানপাড়া গ্রামের পোস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, মৃত মহুবারের নাতির সঙ্গে একই এলাকার সাদেকুল ইসলামের মেয়েসহ অন্যান্য বাচ্চারা খেলা করছিলো। এক পর্যায়ে ঝগড়া বাধলে উভয় পরিবার সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

এ সময় সাদেকুলের লোকজনের লাঠির আঘাতে ঘটনাস্থলেই বৃদ্ধ মহুবারের মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল হতে সাদেকুলের স্ত্রী মায়া বেগমকে আটক করে। মৃত মহুবার পাঠানপাড়া গ্রামের আব্দুল্লাহ্ মিয়ার ছেলে।

বদরগঞ্জ থানার ওসি আনিছুর রহমান মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করে জানান, লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

সুত্র-ইত্তে:/বিডিএন

আর্জেন্টিনার শ্বাসরুদ্ধকর খেলা দেখতে গিয়ে বাংলাদেশী আর্জেন্টিনার ২ সমর্থকের মৃত্যু

জগন্নাথপুর টুডে ডেস্ক:
আর্জেন্টিনা ও নাইজেরিয়ার খেলা ছিল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টায়। ম্যাচটি ছিল আর্জেন্টিনার এবার বিশ্বকাপ আসরে থাকা না থাকার লাড়াই।

তাই বাংলাদেশের আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল। দ্বিতীয়ার্ধের ৮৬ মিনিটে আর্জেন্টিনা যখন জয়সূচক দ্বিতীয় গোলটি করে তখন ওই দলেন দুই সর্মথক হার্টঅ্যাটাকে মারা যান।

তারা হলেন- রাজশাহী মহানগরীর বেলদারপাড়া এলাকার সেলিম এবং ময়মনসিংহের গফরগাঁও পৌর শহরের চর শিলাসী এলাকার সুলতান মিয়া।

রাজশাহী: মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা। রাজশাহী মহানগরীর বেলদারপাড়া এলাকায় বড় পর্দায় আর্জেন্টিনা দলের প্রিয় খেলোয়াড় লিওনেল মেসির খেলা দেখতে এসেছিলেন মহলদারপাড়া এলাকার সেলিম (৪৬)।

খেলার শুরু থেকেই শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় ছিলেন তিনিসহ অনেক মেসির সমর্থক। কারণ নাইজেরিয়ার সঙ্গে খেলায় হেরে গেলে এবারের বিশ্বকাপ আসর থেকে বিদায় নিতে হবে প্রিয় দলটিকে। একই সঙ্গে বিদায় নিতে হবে পছন্দের খেলোয়াড় মেসিকেও। তাই খুব মনোযোগ সহকারে খেলা দেখছিলেন সেলিম।

খেলা শুরুর ১৪ মিনিটের মধ্যে নাইজেরিয়ার গোল পোস্টে বল প্রবেশ করান মেসি। এ সময় বাঁধ ভাঙ্গা আনন্দে ফেটে পড়েন সেলিমসহ অন্য সমর্থকরা। দ্বিতীয়ার্ধে নাইজেরিয়াও একটি গোল দেয় আর্জেন্টিনাকে।

এ সময় নিশ্চুপ হয়ে যান সেলিম। পরে আর্জেন্টিনা জয়সূচক গোল দেয়। সেই গোল উদযাপন করতে গিয়ে হাত তালি দিতে শুরু করেন তিনি। হাত তালি দিতে দিতেই সেলিম হার্টঅ্যাটাক করেন।

পরে লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে নেয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে মহানগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি আমান উল্লাহ বলেন, খেলা দেখতে গিয়ে একজনের মৃত্যুর খবর শুনেছি। তবে কেউ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেনি।

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ): আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলে উল্লাস করায় সময় গফরগাঁও পৌর শহরের চর শিলাসী এলাকার সুলতান মিয়া (৬০) নামের এক আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক হার্টঅ্যাটাকে মারা গেছেন।

জানা গেছে, সুলতান মিয়াসহ অনেকে উপজেলা প্রেসক্লাবে বসে টেলিভিশনে আর্জেন্টিনা বনাম নাইজেরিয়ার শ্বাসরুদ্ধকর খেলা দেখছিলেন। দ্বিতীয়ার্ধের ৮৬ মিনিটে আর্জেন্টিনা যখন জয়সূচক দ্বিতীয় গোলটি করে তখন তিনি উপস্থিত আরো অনেক আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক মতো গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে উল্লাস করছিলেন।

এ সময় তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। উপস্থিত লোকজন তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সুলতান পেশায় ভ্যান চালক ছিলেন। তার স্ত্রী, এক ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে।

সুত্র-ইত্তেফাক/বিডিএন

তনু হত্যার ২৭ মাসেও ঘাতকরা অধরা

জগন্নাথপুর টুডে ডেস্ক:
বহুল আলোচিত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের ২৭ মাস গত হয়েছে বুধবার। তনুর পরিবারে এ বছরও ছিল না ঈদের আনন্দ। এতদিনেও তনুর ঘাতকরা রয়ে গেছে অধরা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবিতে অনড় তনুর পরিবার, তার সহপাঠী ও গণজাগরণ মঞ্চ কুমিল্লার নেতৃবৃন্দ।

তনুর দুটি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ‘মৃত্যুর সুস্পষ্ট কারণ’ উল্লেখ না থাকা এবং সন্দেহভাজনদের ডিএনএ ম্যাচিং করতে না পারায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভের অন্ত নেই। তবে ঘাতক শনাক্তকরণে কয়েকজন ব্যক্তির ডিএনএ প্রতিবেদনই এখন ভরসা বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ প্রতিবেদন সহসাই মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির হাতে পৌঁছবে, তখন এ মামলার তদন্তের একটা কিনারা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

গণজাগরণ মঞ্চ কুমিল্লার সংগঠক খায়রুল আনাম রায়হান বলেন, তনু হত্যার রহস্য বের করতে ২৭ মাস অতিবাহিত হওয়ার কথা নয়। তিনি অবিলম্বে তনুর খুনিদের শনাক্তের দাবি জানান। নারী নেত্রী রাশেদা আখতার বলেন, তনুর ঘাতকদের বিচার হবে না, এটা তো মেনে নেয়া যায় না।

বৃহস্পতিবার(২১জুন) সাংবাদিকদের নিকট ক্ষোভ প্রকাশ করে তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, দীর্ঘ ২৭ মাসেও মেয়ের ঘাতকদের শনাক্ত কিংবা গ্রেফতার করতে পারেনি সিআইডি। মেয়ের হত্যাকারীরা শনাক্ত হবে কি না এ নিয়ে আমরা সন্দিহান।

তিনি আরো বলেন, তনু হত্যার পর অনেকেই বাসায় এসে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়েছিলেন, কিন্তু এখন আর কেউ আমাদের খোঁজ-খবরও নেয় না। সিআইডির জালাল সাহেবও (মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা) খবর নেন না, মামলার কি খবর তাও তিনি জানাচ্ছেন না।

এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডি কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জালালউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘মামলাটি অধিক গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে, এখানে কোনো গাফিলতি নেই। তদন্তে এমন কিছু বিষয় উঠে এসেছে যেখানে ইচ্ছে করলেই তাড়াহুড়ো করে কিছু করা যাবে না। মামলার তদন্তের স্বার্থে অনেককে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দুটি ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মৃত্যুর সুস্পষ্ট কারণ উল্লেখ না থাকায় ভিন্ন কৌশল নিতে হচ্ছে। সন্দেহভাজন কয়েকজনের ডিএনএ প্রতিবেদন হয়তো সহসাই হাতে পেতে পারি, তখন মামলার তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে আরো নতুন কিছু জানানো যাবে বলে আশা করি।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের একটি বাসায় টিউশনি করতে যায় তনু। নির্ধারিত সময়ে সে বাসায় না ফেরায় তার স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করে রাতে বাসার অদূরে সেনানিবাসের ভেতরের কালা পাহাড় নামের একটি জঙ্গলে তনুর মরদেহের সন্ধান পায়।

সুত্র- ইত্তেফাক/বিডিএন