জগন্নাথপুরে চাচাতো ভাইয়ের হাতে বাকপ্রতিবন্ধি পঞ্চাশর্ধো ভাই নিহত

স্টাফ রিপোর্টার::
জগন্নাথপুরে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে চাচাতো ভাইয়ের হাতে বাকপ্রতিবন্ধি পঞ্চাশর্ধো ভাই নিহত হয়েছেন। রবিবার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নিহত বাকপ্রতিবন্ধি পঞ্চাশর্ধো সাদিকুর রহমান খান জগন্নাথপুর উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের আটঘর গ্রামের বাসিন্দা।

জানা যায়, শনিবার আটঘর গ্রামের হামরু মিয়ার ছেলে ফখরুল ইসলামের সাথে নিহত সাদিকুল ইসলাম খান এর গাছের আম পাড়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ঘটনার সময় এক পর্যায়ে ফখরুল ইসলাম সাদিকুল ইসলামের মাথায় আঘাত করে। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে আজ রবিবার সকালে চিকিতসাধীন অবস্থায় সাদিকুল ইসলাম খান এর মুত্যু হয়।

দেশে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৩১৪, নতুন শনাক্ত ৯৩০


ডেস্ক নিউজ:-

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মহামারি করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে আরও ১৬ জন প্রাণ হারিয়েছে। এ সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৯৩০ জন। এ নিয়ে করোনাভাইরাসে মৃত্যু ৩১৪ ও আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৯৯৫ জনে।

শনিবার (১৬ মে) দুপুরে রাজধানীর মহাখালিস্থ স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে দেশে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানান অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

বুলেটিনে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস শনাক্তে আরও ৬ হাজার ৫০১টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় আগের কিছু মিলিয়ে ছয় হাজার ৭৮২টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো ১ লাখ ৬৭ হাজার ২৯৪টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় আরও ৯৩০ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ২০ হাজার ৯৯৫ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ১৬ জন। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩১৪ জনে।

পাশাপাশি গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও ২৩৫ জন। সবমিলিয়ে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪ হাজার ১১৭ জন।

গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহান শহরে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। দেশে প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হন ৮ মার্চ এবং এ রোগে আক্রান্ত প্রথম রোগীর মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ।

জগন্নাথপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিনের ইন্তেকাল

স্টাফ রিপোর্টার::

জগন্নাথপুর উপজেলার পাটলী ইউনিয়নের সাতহাল গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন ইন্তেকার করেছেন । ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন।

 আজ মঙ্গলবার সকার সাড়ে ৭টায় রাজধানি ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন ।

বীর মুক্তিযোদ্দা আব্দুল মতিন দীর্ঘদিন গাড়ী চালকের পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। পারিবারিক সূত্র জানায় , আজ মরহুমের মরদেহ ঢাকা থেকে জগন্নাথপুরে নিয়ে আসা হবে।

এবং উপজেলা হাসপাতালে জগন্নাথপুর উপজেলা উন্নয়ন সংস্থা ইউকে কর্তৃক স্থাপিত মরচুয়ারী (লাশ হিমাগারে) রাখা হবে।

শেখ হাসিনা আগামী প্রজম্মের জন্য সুন্দর এই বাংলাদেশ প্রতিষ্টায় কাজ করছেন….. জগন্নাথপুরে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম. এ মান্নান

মোঃ আব্দুল হাইঃ

পরিকল্পনা মন্ত্রী এম. এ মন্নান বলেছেন প্রধান মন্ত্রী  জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার উন্নয়নের সরকার, কোন্দল বিভাদ, চুকলখোর, রাতের অন্ধকারে ষড়যন্ত্রের সরকার নয়। তিনি বলেন কোন ধর্মের বিবাদ বাংলাদেশে নেই মানুষের প্রতি ন্যায় বিচার প্রতিষ্টিত হয়েছে।

বহু গুনের অধিকারী  প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে  আমি কাজ করতে উৎসাহ ও প্রেরনা পাই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন আমি মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। বিশেষ করে সুবিধা বঞ্চিত অন্যায় অবিচারের শিকার যারা নিজের মনের কথা বলতে পারেনা বাংলাদেশের ইতিহাসের  নানান  ধরনের  অবিচার তাদের উপর দিয়ে গেছে সে সকল লোক এবং যারা পরিশ্রম করে খায় সরাসরি কাজ করে, সব সময় পেট ভরে খেতে পারে না  চিকিৎসা , সম্মান , মর্যাদা পায়না সে সব গরীব দুঃখী মানুষ তাদের জন্য প্রাথমিক ভাবে কাজ করতে চাই ।

প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই অসহায় দরিদ্র মানুষের কল্যানে নিজেকে নিয়োজিত রেখেকাজ করে যাচ্ছি। তিনি জগন্নাথপুর বাসীর উদ্দেশ্যে বলেন আপনারা আমাকে সন্দেহ করবেননা  এদেশে আমার কোন তাবেদারী নেই। আমার ছেলে মেয়ে ও এদেশে থাকবেনা ইতোমধ্যে তারা  প্রবাসে বসবাস করছে ।

আমার  আর কয় দিন হায়াত আছে। আমার জানা মতে কোন পক্ষপাত মূলক কাজ  করিনি ভবিষ্যতেও করবোনা।আমি আপনাদের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি ফলে আপনাদের সাথে বেইমানী করার সুযোগ আমার নেই। কিছু লোক কথা বলে বিভ্রান্তি ছড়ায় এ সব  থেকে বিরত থাকতে হবে।

পরিকল্পনা মন্ত্রী আজ শুক্রবার জগন্নাথপুর উপজেলার শাহার পাড়া শাহ কামাল উচ্চ বিদ্যালয়ে গ্রেটার শাহার পাড়া যুব সংঘের আয়োজনে এবং বৃহত্তর শাহারপাড়া এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাকে দেয়া সংবর্ধনা  ও গ্রেটার শাহার পাড়া যুব সংঘের মেধা বৃত্তি বিতরন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা গুলো বলেছেন।

মন্ত্রী সিলেট বিভাগের সব কয়টি মহা সড়ক প্রসস্থ করন সহ  ডাবল রেললাইন এবং ছাতক সুনামগঞ্জে রেললাইনের কাজ এই বছরই শুরু করা হবে উল্লেখ করে তিনি  জগন্নাথপুর উপজেলার সড়ক যোগাযোগ এবংবিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মানের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। মন্ত্রী অনুষ্টান আয়োজকদের প্রতি অভিনন্দন জানিয়ে বলেন বয়সের কারনে আমাদের সময় শেষ  আগামী প্রজম্মের জন্য হবে এই সুন্দর বাংলাদেশ। গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত ও সবারজন্য শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।

পদ্মাসেতু পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র,বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মতো বড় বড় প্রকল্প সরকার সফলতার সাথে বাস্তবায়ন করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সারাদেশে উন্নয়নের এক মহা কর্মযজ্ঞ চলছে। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি শিক্ষিত বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠনে আমরা কাজ করছি। হাওরের জনপথ সুনামগঞ্জে মেডিকেল কলেজের কাজ শুরু হয়েছে। এখন একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

গ্রেটার শাহারপাড়া যুব সংঘের সহ-সভাপতি যুক্তরাজ্য প্রবাসী আখতার কামালীর সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক লেখক ও সাংবাদিক সৈয়দপুর আদর্শ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ যুক্তরাজ্য প্রবাসী মুহাম্মদ শাহেদ রাহমানের পরিচালনায়  বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জগগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আকমল হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুল আলম মাসুম, উপজেলা আওয়ামী লীগের  সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু ,

শাহারপাড়া শাহ কামাল  উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ আতাউর রহমান কামালী, স্বাগত বক্তব্য রাখেন জগন্নাথপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন লালন , বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তাহের রুহান ।

অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেব,জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী , উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ সভাপতি  পাটলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক,সহ-সভাপতি  আব্দুল কাইয়ুম মশাহিদ, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক জালাল হোসেন কদ্দুস কামালী, শাহারপাড়া শাহকামাল  উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোদাব্বির হোসেন কামালী, সমাজ সেবী আবদুল মুকিত কামালী প্রমূখ।শুরুতে কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন হাফিজ নাজমুস সাকিব। পরে ৫ম শ্রেনী ও এস.এস.সি পরীক্ষায়  উত্তীর্ন শতাধিক মেধাবী  শিক্ষার্থীর মধ্যে বৃত্তির সনদ, নগদ অর্থ ও ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়।

জগন্নাথপুরে চাঞ্চল্যকর শিশু সোইয়াবুর রহমান হত্যা মামলায় নারী সহ দুই আসামীর মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন আদালত

মো: আব্দুল হাইঃ পরকীয়া সর্ম্পকের বলি ১১বছরের শিশু সোইয়াবুর রহমান কে হত্যার দায়ে প্রেমিক যুগলকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত।মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন এ রায় ঘোষনা দিয়েছেন । মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামীরা হলেন জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নের চিতুলিয়া গ্রামের আলকাছ আলীর ছেলে পরকীয়া প্রেমিক বারিক মিয়া (৩৭) পরকীয়া প্রেমিকা নিহত শিশু সোইয়াবুর রহমানের মা সিতারা বেগম (৩৯) । মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামী বারিক মিয়া সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে দন্ড ভোগ করছেন।অপর মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামী নিহত শিশু সোইয়াবুর রহমানের মা সিতারা বেগম হত্যাকান্ডের পর থেকে পলাতক রয়েছেন। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায় ‘নিহত শিশু সোয়াইবুর রহমানের পিতা মোঃ রফিকুল ইসলাম প্রবাসে থাকার সুবাদে তার মা সিতারা বেগম তাদের বাড়ির কেয়ারটেকার একই এলাকার বাসিন্দা বারিক মিয়ার সাথে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন। সিতারা বেগমের স্বামী সৌদিআরব প্রবাসী মোঃ রফিক মিয়া প্রবাসে যাওয়ার আগে বারিক মিয়াকে তার পরিবারের দেখাশোনার দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে যান।রফিক মিয়া বিদেশে চলে যাওয়ার পর থেকে কেয়ারটেকার বারিক মিয়ার সাথে সিতারা বেগমের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রায় সময় বারিক মিয়া সিতারা বেগমের ঘরে রাত্রিযাপন করতেন। এ ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়।বারিক মিয়া ও সিতারা বেগমের অনৈতিক কর্মকান্ড নিহত শিশু সোয়াইবুর রহমান নিজ চোখে দেখে ফেলে।শিশু সোয়াইবুর রহমান ঘটনাটি তার প্রবাসী পিতা রফিকুল ইসলামকে জানানোর চেষ্টা করছিল। এতে বারিক ও সিতারার পরকীয়া অন্ধ প্রেমের বাধা হয়ে দাঁড়ায় শিশু সোয়াইবুর। সিতারা বেগম ছেলের এমন আচরনে ক্ষুব্দ হয়ে উঠেন।এবং সিতারা বেগম তার প্রেমিক বারিক মিয়াকে বিষয়টি অবহিত করলে তারা দুজন সোয়াইবুরকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ২০১২ সালের ১৪ অক্টোবর বিকেলে চিতুলিয়া গ্রামের শিশু সাবুল মিয়ার মাধ্যমে সোয়াইবুরকে ফুসলিয়ে স্থানীয় চিতুলিয়া হাফিজিয়া মাদরাসায় নিয়ে যায়। সন্ধ্যার পর প্রেমিক যুগল বারিক মিয়া ও সিতারা বেগম মাদরাসায় যায় এবং শিশু সোয়াইবুরকে মাদরাসার টয়লেটের কাছে নিয়ে যায় এবং তার মুখ ও গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে তার লাশ গুম করতে টয়লেটের ট্যাংকিতে ফেলে রেখে যায় ।এ ঘটনায় নিহত সোইয়াবুর রহমানের চাচাতো ভাই মোঃ হান্নান মিয়া বাদি হয়ে ২০১২ সালের ১৫ অক্টোবর পরকীয়া প্রেমিক যুগল বারিক মিয়া ও সিতারা বেগম সহ শিশু সেবুল মিয়াকে আসামী করে জগন্নাথপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ বারিক মিয়াকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও সিতারা বেগম ও শিশু সেবুল মিয়া এখনো পলাতক রয়েছেন।দীর্ঘদিন আদালতে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলাটির বিচার কার্য পর্যালোচনা ও সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে শিশু সোয়াইবুর রহমান হত্যাকান্ডের ঘটনাটি প্রমাণিত হওয়ায় সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত দায়রা জজ মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন এই আলোচিত হত্যাকান্ডে রায় প্রদান করেছেন । বাদি পক্ষে অ্যাডভোকেট জিয়াউল ইসলাম ও আসামী পক্ষে অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন ও অ্যাডভোকেট আব্দুল ওদুদ মামলাটি পরিচালনা করেন।

পরকীয়া সর্ম্পকের বলি ১১বছরের শিশু সোইয়াবুর রহমান কে হত্যার দায়ে প্রেমিক যুগলকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত।মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন এ রায় ঘোষনা দিয়েছেন । মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামীরা হলেন জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নের চিতুলিয়া গ্রামের আলকাছ আলীর ছেলে পরকীয়া প্রেমিক বারিক মিয়া (৩৭) পরকীয়া প্রেমিকা নিহত শিশু সোইয়াবুর রহমানের মা সিতারা বেগম (৩৯) । মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামী বারিক মিয়া সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে দন্ড ভোগ করছেন।অপর মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামী নিহত শিশু সোইয়াবুর রহমানের মা সিতারা বেগম হত্যাকান্ডের পর থেকে পলাতক রয়েছেন। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায় ‘নিহত শিশু সোয়াইবুর রহমানের পিতা মোঃ রফিকুল ইসলাম প্রবাসে থাকার সুবাদে তার মা সিতারা বেগম তাদের বাড়ির কেয়ারটেকার একই এলাকার বাসিন্দা বারিক মিয়ার সাথে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন। সিতারা বেগমের স্বামী সৌদিআরব প্রবাসী মোঃ রফিক মিয়া প্রবাসে যাওয়ার আগে বারিক মিয়াকে তার পরিবারের দেখাশোনার দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে যান।রফিক মিয়া বিদেশে চলে যাওয়ার পর থেকে কেয়ারটেকার বারিক মিয়ার সাথে সিতারা বেগমের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রায় সময় বারিক মিয়া সিতারা বেগমের ঘরে রাত্রিযাপন করতেন। এ ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়।বারিক মিয়া ও সিতারা বেগমের অনৈতিক কর্মকান্ড নিহত শিশু সোয়াইবুর রহমান নিজ চোখে দেখে ফেলে।শিশু সোয়াইবুর রহমান ঘটনাটি তার প্রবাসী পিতা রফিকুল ইসলামকে জানানোর চেষ্টা করছিল। এতে বারিক ও সিতারার পরকীয়া অন্ধ প্রেমের বাধা হয়ে দাঁড়ায় শিশু সোয়াইবুর। সিতারা বেগম ছেলের এমন আচরনে ক্ষুব্দ হয়ে উঠেন।এবং সিতারা বেগম তার প্রেমিক বারিক মিয়াকে বিষয়টি অবহিত করলে তারা দুজন সোয়াইবুরকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ২০১২ সালের ১৪ অক্টোবর বিকেলে চিতুলিয়া গ্রামের শিশু সাবুল মিয়ার মাধ্যমে সোয়াইবুরকে ফুসলিয়ে স্থানীয় চিতুলিয়া হাফিজিয়া মাদরাসায় নিয়ে যায়। সন্ধ্যার পর প্রেমিক যুগল বারিক মিয়া ও সিতারা বেগম মাদরাসায় যায় এবং শিশু সোয়াইবুরকে মাদরাসার টয়লেটের কাছে নিয়ে যায় এবং তার মুখ ও গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে তার লাশ গুম করতে টয়লেটের ট্যাংকিতে ফেলে রেখে যায় ।এ ঘটনায় নিহত সোইয়াবুর রহমানের চাচাতো ভাই মোঃ হান্নান মিয়া বাদি হয়ে ২০১২ সালের ১৫ অক্টোবর পরকীয়া প্রেমিক যুগল বারিক মিয়া ও সিতারা বেগম সহ শিশু সেবুল মিয়াকে আসামী করে জগন্নাথপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ বারিক মিয়াকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও সিতারা বেগম ও শিশু সেবুল মিয়া এখনো পলাতক রয়েছেন।দীর্ঘদিন আদালতে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলাটির বিচার কার্য পর্যালোচনা ও সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে শিশু সোয়াইবুর রহমান হত্যাকান্ডের ঘটনাটি প্রমাণিত হওয়ায় সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত দায়রা জজ মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন এই আলোচিত হত্যাকান্ডে রায় প্রদান করেছেন । বাদি পক্ষে অ্যাডভোকেট জিয়াউল ইসলাম ও আসামী পক্ষে অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন ও অ্যাডভোকেট আব্দুল ওদুদ মামলাটি পরিচালনা করেন।

জগন্নাথপুরে বিয়ের দাওয়াত খেয়ে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফেরার পথে নিহত ১ আহত ২

নিজস্ব প্রতিনিধি::

জগন্নাথপুরে শুক্রবার রাত ১০ টায়  বিয়ে বাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে জগন্নাথপুর বাজারের ৩ ব্যবসায়ী বন্ধু মোটরসাইকেল যোগে রাতে বাড়ি ফেরার পথে ১জন নিহত ও ২জন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে তাদেরকে মূমর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করা হলে ও  তাদের ব্যবহ্নত মোটরসাইকেলটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ।

আহত জগন্নাথপুর বাজারের ব্যবসায়ী ইয়াবর মিয়া (৫৮),সালাম মিয়া (৩০)ও গোপেশ দাসকে (৪০) জগন্নাথপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইয়াবর মিয়া ও গোপেশ দাসকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেন ।

আহত ইয়াবর মিয়ার পরিবারের লোকজন জানান ইয়াবর মিয়ার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত থাকায় শুক্রবার গভীর রাতে হাসপাতালে  চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইয়াবর মিয়ার মৃত্যু হয়েছে ।

আজ শনিবার ওসমানী মেডিকেল কলেজে ময়না তদন্ত শেষে ঐ  দিন আছরের নামাজের পর জগন্নাথপুর পৌর শহরের হবিবপুর দক্ষিন পাড়া এলাকায় জানাযার নামাজ শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে ।

এদিকে আহত মোটর সাইকেল চালক গোপেশ দাসকে সিলেট শহরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ।ঘটনার পর এস আই লুৎফুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ।

ঘটনাটি দূর্ঘটনা নাকি দূর্বৃত্তের হামলা এ নিয়ে জল্পনা কল্পনা চলছে । পুলিশ জানায় প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি দূর্ঘটনা হিসেবে প্রতিয়মান হলেও নিহতের ময়না তদন্ত রিপোর্টের পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে ।

তবে রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে । এস আই লুৎফুর রহমান আরো জানান আহত সালাম মিয়াকে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

জগন্নাথপুরে বোরো ধান আবাদে কৃষকরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন

মো. আব্দুল হাই ,(জগন্নাথপুর সুনামগঞ্জ):

হাওর বেষ্টিত জগন্নাথপুর উপজেলার বৃহত্তর নলুয়া, মইয়া, ফিংলার হাওর সহ ছোট বড় প্রায় ১৫-২০টি হাওরে বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষক। কনকণে ঠান্ডা উপেক্ষা করে কৃষকরা চারা সংগ্রহ হালচাষ মই, সেচ ও রোপন কাজে দিনভর মাঠে রয়েছেন।

কৃষকরা উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশী ধানের চেয়ে হাইব্রিড ও উচ্চ ফলনশীল ধানকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। গত বোরো ও আমন মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় এবং ধান ঘোলায় তুলতে পেরে চলতি বছর বেশ ফুরফুরে মেজাজ নিয়ে মাঠে কাজ করছেন কৃষকরা।

জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়,  একটি পৌরসভা  ও ৮টি ইউনিয়ন ও নিয়ে গঠিত এ উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ২০ হাজার ১শ’৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে নলিয়া, মইয়া সহ বিভিন্ন হাওরে  প্রায় ১০ হাজার হেক্টর বোরো ধানের আবাদ সম্পন্ন হয়েছে।

রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বাগময়ান গ্রামের কৃষক জিয়াউর রহমান জানান, বৃহত্তর নলুয়ার হাওরে কৃষকরা এখনো চারা রোপণে ব্যস্ত রয়েছেন। পানি সংকট থাকায় জমি চাষাবাদের ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকরা বিদেশী ধান আবাদ করছেন বেশী, প্রকৃতির অনুকুলে থাকলে বিগত বছরের মতো চলতি বছরের হাওরের ফসল ভালো হবে বলে জানান তিনি।

উপজেলার বিভিন্ন হাওরে পানি ও সেচ সমস্যার কথা জানিয়ে তারা বলেন, বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহন করেছে। অন্যান্য সময়ের মতো এবারও এখানকার পানি সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসলে এবার বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে দাবী করেন কৃষকেরা।

 উপজেলা বিভিন্ন হাওরে পানি ও সেচ সমস্যার কথা উল্লেখ করে কৃষকরা জানান কৃষি বান্ধব সরকার কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। অন্য বছরের মত হাওর গুলোর পানি সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়া হলে বোরো আবাদের লক্ষ মাত্রা ছারিয়ে যাবে বলে কৃষকরা জানান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শওকত ওসমান মজুমদার জানান, জগন্নাথপুর উপজেলার কৃষকরা গত বছর বোরো ফসলের ফলন ও দাম মুল্য পেয়েছেন। চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকরা অনেকটা আগে থেকেই বোরো চাষাবাদে মাঠে নেমেছেন। ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৭০ শতাংশ জমিতে ধানের চারা লাগানো শেষ হয়েছে।

এ বছর বোরো আবাদে নতুন জাত সম্প্রসারনের জন্য ৩৫০জন কৃষককে প্রণোদনা সুবিধার আওতায় বিনামূল্যে বীজ ও সার প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও বিভাগীয় প্রদর্শনীর আওতায় ২০জন কৃষককে বিনামূল্যে বীজ সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

কৃষি পরামর্শ সেবা সার্বক্ষনিক রয়েছে। ধান কর্তনের শেষ মুহুর্ত পর্ষন্ত কৃষকদের সাথে থেকে পরামর্শ সেবা চলমান থাকবে। এদিকে কৃষকরা যাতে নিরাপদে ধান কেটে ঘোলায় তুলতে পারে প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড সহ উপজেলা প্রশাসনের উপজেলা নির্বাহী অফিসার ,

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও সবকটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য, সদস্যা ও সকল পর্যায়ের জন প্রতিনিধি ও গনমাধ্যম কর্মীদের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রকৃতি অনূকুলে থাকলে চলতি বছর বোরো ফসলের লক্ষ্য মাত্রা চারিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জগন্নাথপুরে প্রয়াত জাতীয় নেতা আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ আজাদের ৯৭তম জন্ম বার্ষিকী উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক::

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য বরেন্য রাজনীতিবিদ মরহুম আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ আজাদের ৯৭ তম জন্ম বার্ষিকী পালন করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের বর্ষিয়ান নেতা সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সিদ্দিক আহমদ।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক রেজাউল করিম রিজুর সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক হাজী আব্দুল জব্বারের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য সৈয়দ ছাব্বির মিয়া ছাব্বির,

উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক লুৎফুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক জয়দ্বীপ সূত্রধর বীরেন্দ্র, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুজিবুর রহমান মুজিব, সহ প্রচার সম্পাদক ফিরোজ আলী, আওয়ামী লীগ নেতা জিল্লুর রশিদ লিল, বজলুর রশিদ চৌধুরী, আফু মিয়া, নুরুল হক, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. আব্দুল আহাদ,

পৌর আওয়ামী লীগ নেতা, পৌর কাউন্সিলর আবাব মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুর রহমান লেচু, পৌর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাংবাদিক আব্দুল হাই, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক হরুপ মিয়া, কলকলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফখরুল হোসেন,

উপজেলা যুবলীগের সভাপতি কামাল উদ্দিন, উপজেলা স্বেচ্ছা সেবকলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক এনামুল হক এনাম, সাংগঠনিক সম্পাদক পৌর কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন মুন্না, উপজেলা স্বেচ্ছা স্বেবকলীগের সাধারন সম্পাদক এম মোতাহীর আলী,

উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কেলিপনিয়া শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক লিটন আহমদ তালুকদার, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাফরোজ ইসলাম, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল মুকিত, কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মিছবাহ আহমদ , পৌর যুবলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক গোবিন্দ দেব, পৌর স্বেচ্ছাসেবকলীগের প্রচার সম্পাদক আক্তার হোসেন, প্রমুখ। পরে জন্ম বার্ষিকীর কেক কেটে জন্মদিন পালন করা হয়।

তনু হত্যার ২৭ মাসেও ঘাতকরা অধরা

জগন্নাথপুর টুডে ডেস্ক:
বহুল আলোচিত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের ২৭ মাস গত হয়েছে বুধবার। তনুর পরিবারে এ বছরও ছিল না ঈদের আনন্দ। এতদিনেও তনুর ঘাতকরা রয়ে গেছে অধরা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবিতে অনড় তনুর পরিবার, তার সহপাঠী ও গণজাগরণ মঞ্চ কুমিল্লার নেতৃবৃন্দ।

তনুর দুটি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ‘মৃত্যুর সুস্পষ্ট কারণ’ উল্লেখ না থাকা এবং সন্দেহভাজনদের ডিএনএ ম্যাচিং করতে না পারায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভের অন্ত নেই। তবে ঘাতক শনাক্তকরণে কয়েকজন ব্যক্তির ডিএনএ প্রতিবেদনই এখন ভরসা বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ প্রতিবেদন সহসাই মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির হাতে পৌঁছবে, তখন এ মামলার তদন্তের একটা কিনারা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

গণজাগরণ মঞ্চ কুমিল্লার সংগঠক খায়রুল আনাম রায়হান বলেন, তনু হত্যার রহস্য বের করতে ২৭ মাস অতিবাহিত হওয়ার কথা নয়। তিনি অবিলম্বে তনুর খুনিদের শনাক্তের দাবি জানান। নারী নেত্রী রাশেদা আখতার বলেন, তনুর ঘাতকদের বিচার হবে না, এটা তো মেনে নেয়া যায় না।

বৃহস্পতিবার(২১জুন) সাংবাদিকদের নিকট ক্ষোভ প্রকাশ করে তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, দীর্ঘ ২৭ মাসেও মেয়ের ঘাতকদের শনাক্ত কিংবা গ্রেফতার করতে পারেনি সিআইডি। মেয়ের হত্যাকারীরা শনাক্ত হবে কি না এ নিয়ে আমরা সন্দিহান।

তিনি আরো বলেন, তনু হত্যার পর অনেকেই বাসায় এসে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়েছিলেন, কিন্তু এখন আর কেউ আমাদের খোঁজ-খবরও নেয় না। সিআইডির জালাল সাহেবও (মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা) খবর নেন না, মামলার কি খবর তাও তিনি জানাচ্ছেন না।

এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডি কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জালালউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘মামলাটি অধিক গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে, এখানে কোনো গাফিলতি নেই। তদন্তে এমন কিছু বিষয় উঠে এসেছে যেখানে ইচ্ছে করলেই তাড়াহুড়ো করে কিছু করা যাবে না। মামলার তদন্তের স্বার্থে অনেককে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দুটি ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মৃত্যুর সুস্পষ্ট কারণ উল্লেখ না থাকায় ভিন্ন কৌশল নিতে হচ্ছে। সন্দেহভাজন কয়েকজনের ডিএনএ প্রতিবেদন হয়তো সহসাই হাতে পেতে পারি, তখন মামলার তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে আরো নতুন কিছু জানানো যাবে বলে আশা করি।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের একটি বাসায় টিউশনি করতে যায় তনু। নির্ধারিত সময়ে সে বাসায় না ফেরায় তার স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করে রাতে বাসার অদূরে সেনানিবাসের ভেতরের কালা পাহাড় নামের একটি জঙ্গলে তনুর মরদেহের সন্ধান পায়।

সুত্র- ইত্তেফাক/বিডিএন

ইমরান এইচ সরকারকে র‌্যাব আটক করেছে

জগন্নাথপুর টুডে ডেস্ক:

গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকারকে আটক করেছে র‌্যাব-১০। বুধবার (৬ জুন) বিকালে তাকে রাজধানীর শাহবাগ থেকে আটক করা হয়। এ সময় ইমরান একটি কর্মসূচিতে ছিলেন।

র‌্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে ডা. ইমরান এইচ সরকারকে আমরা আটক করেছি। তবে বিষয়টি যাচাইবাছাই চলছে।

জ.টুডে-৬ জুন ২০১৮/বিডিএন