ইউনিয়ন পর্যন্ত নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

টুডে ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সরকার জেলা ও উপজেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।’ বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁও থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিন মেগা প্রকল্প উদ্বোধনের সময় তিনি এ কথা বলেন। প্রকল্প তিনটি হল- মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের জশলদিয়ায় পদ্মা ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (ফেজ-১) ঢাকার সাভারের তেতুলঝরায় ওয়েল ফিল্ড কনস্ট্রাকশন প্রজেক্ট (ফেজ-১) এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের গান্ধাপুর ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে জেলা ও উপজেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ের মানুষের কাছে নিরাপদ খাবার পানি পৌঁছে দেওয়া। আমরা বর্তমানে কেবল ঢাকা নয়, বিভাগীয় শহরগুলোতেও নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহ করছি।’ প্লান্টের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে পানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, ”সবার জন্য নিরাপদ পানি’ সরকারের এই শ্লোগানকে ধারণ করে ঢাকা ওয়াসা রাজধানীর বস্তিগুলোতে আইনসম্মত ও নিরাপদ পানি সংযোগের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছে। পর্যায়ক্রমে সব বস্তি পানি সরবরাহের আওতায় আনা হবে। ২০২১ সালের মধ্যে সব বিভাগীয় শহরে ভূ-উপরিস্থ পানির উৎসের মাধ্যমে নিরাপদ পানি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।’

প্রধানমন্ত্রী ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা না কমালে আমাদেরকে গুরুতর পরিণতির মোকাবেলা করতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থার জন্য শিল্পাঞ্চল ও আবাসিক এলাকায় জলাধার নির্মাণ এবং বর্জ্য ও দূষিত পানি নিষ্কাশনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী সেচ কাজে বৃষ্টি ও ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে ৪ হাজার ৭শ’ জলাধার নির্মাণ করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সব নদীর নাব্যতা বজায় রাখা ও তা জলাধার হিসেবে ব্যবহার করতে নদী খননের কাজ চলছে। তিনি বলেন, ‘পরিস্রাবণের মাধ্যমে ৭ হাজার পুকুর লবণাক্ততামুক্ত হয়েছে। এছাড়া লবণাক্ত অঞ্চলে ৩২ হাজার ৬শ’ গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘মানুষের নগরমুখী প্রবণতা বন্ধ করতে গ্রামের জনগণের কাছে নাগরিক সকল সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দিতে তার সরকার কাজ করছে।’ এ সময় সবার জন্য বিশুদ্ধ খাবার পানি নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পানি সরবরাহ, স্যুয়ারেজ এবং ড্রেনেজ সিস্টেম নিয়ে আমাদের সরকার তিনটি মাস্টার প্লান তৈরি করেছে পাশাপাশি ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যুয়ারেজ অ্যাক্ট, ন্যাশনাল ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন অ্যাক্ট ২০১৪ পাস এবং ১৯৯৯ সালে জাতীয় পানি নীতি এবং ন্যাশনাল পলিসি ফর আর্সেনিক মিটিগেশন এন্ড ইমপ্লিমেন্টেশন প্লান গ্রহণ করা হয়।’

এমডিজি’র সফল বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘের ঘোষিত এসডিজি-২০৩০ এর ১৭টি লক্ষ্যের মধ্যে ৬ নম্বর হচ্ছে ‘সবার জন্য স্যানিটেশনের টেকসই ব্যবস্থাপনা ও পর্যাপ্ত সুযোগ নিশ্চিত করা। আমরা সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এসডিজি সমন্বিত করেছি এবং এটি বাস্তবায়ন হচ্ছে।’

নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে কিছুই না করার তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৯৬ সালে আমি যখন দায়িত্ব গ্রহণ করি, আমরা ঢাকা মহানগরীকে ‘পানি সংকটের’ মধ্যে পাই এবং এই সংকট কাটাতে আমরা সায়দাবাদ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট নির্মাণ করি। পুনরায় ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পরে একই পরিস্থিতি পাই এবং আমরা তখন সায়দাবাদ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট ২ ও ৩ নির্মাণ করি। সরকার ২০৪১ সাল নাগাদ দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশে পরিণত করতে কাজ করে যাচ্ছি।’

প্রথম ২টি প্রকল্পের যথাক্রমে ৪৫ কোটি ও ১৫ কোটি লিটার পানি সরবরাহ এবং শেষের প্রকল্পটির ৫০ কোটি লিটার পানি শোধনের সক্ষমতা রয়েছে। এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, স্থানীয় সরবরাহ বিভাগের সচিব হেলাল উদ্দীন আহমেদ, বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত লি-জিমিং, দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত হু কাং-ইল, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ ও ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। এতে রাজধানীর ক্রম বর্ধমান পানি চাহিদা মেটাতে এই তিন প্রকল্প এবং বিগত ১০ বছরে ঢাকা ওয়াসার গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্প ভিডিও উপস্থাপনার মাধ্যমে দেখানো হয়।

বাসস

কে ছাত্রলীগ সেটা আমি বিবেচনা করি না: প্রধানমন্ত্রী

টুডে ডেস্ক:
বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমার পার্টিতে এমন হবে তা কখনো মেনে নেব না। ঘটনার পর আমি সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রলীগকে ডেকেছি। অপরাধীদের দল থেকে বহিষ্কার করতে বলেছি। তাদের বিচার হবে। তারা গ্রেফতার হচ্ছে।’বুধবার গণভবনে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘অপরাধী অপরাধীই। কোন দলের সেটা দেখার সুযোগ নেই। বুয়েটের ঘটনার পরই আমি নির্দেশ দিয়েছি আলামত জব্দের। কে ছাত্রলীগ সেটা আমি বিবেচনা করি না, গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছি।’ ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করে দিতে হবে এমন মানসিকতা মিলিটারি ডিক্টেটরদের। আমি তো ছাত্ররাজনীতি করে এ পর্যন্ত এসেছি। নেতৃত্ব তৈরি হয় ছাত্ররাজনীতি থেকে। ’প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বুয়েট কর্তৃপক্ষ মনে করলে সেখানে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করে দিতে পারে। তবে ঢালাওভাবে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের যে দাবি এর পেছনের কি কারণ সেটা ভেবে দেখতে হবে। ’তিনি বলেন, ‘সামান্য টাকায় সিট ভাড়া করে থাকবে। আর সেখানে বসে এমন মাস্তানি করবে। তা হতে পারে না। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলব প্রত্যেক হল সার্চ করে দেখতে। কোথায় কি হচ্ছে, সেটা খুঁজে বের করতে। যে দলরই হোক না কেন। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

বৃষ্টি থাকতে পারে আরও ৩দিন

টুডে ডেস্ক:
আগামী দুই-তিনদিন সারা দেশে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে। আবহাওয়াবিদ ড. মো. আব্দুল মান্নান রবিবার জানান, আগামী দুই-তিনদিন সারা দেশে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। এরপর আবহাওয়া পরিস্থিতি সামান্য উন্নতি হলেও এক সপ্তাহ জুড়ে সারাদেশে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। তবে আগামী ২/৩দিনে দেশের কোথাও বড় ধরনের কোন দুর্যোগের সম্ভাবনা নেই। তিনি জানান, আজও দেশের বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি হতে পারে, সেই সাথে আকাশে মেঘলা ও গুমুটভাব থাকবে। বেলা ৩টা পর্যন্ত ঢাকা শহরে থেমে থেমে বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরণের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে মাঝারী ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, মৌসুমী বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের উড়িষ্যা, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা দুর্বল অবস্থায় বিরাজমান রয়েছে।

সম্রাটের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে র্যাবের দুই মামলা

টুডে ডেস্ক:

ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া যুবলীগ থেকে সদ্য বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা হয়েছে। আজ সোমবার রমনা থানায় অস্ত্র ও মাদকের অপরাধে এ দুটি মামলার বাদী হয়েছে র‌্যাব।

এর আগে রবিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে সম্রাটকে কেরাণীগঞ্জের কারাগারে নেওয়া হয়।

রবিবার ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার অন্যতম সহযোগী আরমানকেও গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে নিয়ে দুপুর দেড়টার দিকে তার কাকরাইলের কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, পিস্তল ও বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণীর চামড়া পাওয়া যায়। এ চামড়া রাখার দায়ে তাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত।

ভারত সফর শেষে ঢাকায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

টুডে ডেস্ক:

৪দিনের ভারত সফর শেষে ঢাকায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে প্রধানমন্ত্রীর বিমানটি।

এর আগে ভারতের স্থানীয় সময় রাত ৮টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে দিল্লির পালাম বিমান ঘাঁটি থেকে সফরসঙ্গীদের নিয়ে দেশে রওনা হন শেখ হাসিনা।

এই সফরে সাতটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এছাড়া তিনটি যৌথ প্রকল্পও উদ্বোধন হয়েছে। এর আগে শনিবার দুপুরে নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে বৈঠক হয়। ওই বৈঠকেই সাতটি চুক্তি হয়। চুক্তি ও সমঝোতাপত্র বিনিময়ের পর শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি যৌথভাবে তিনটি প্রকল্প উদ্বোধন করেন।

এছাড়া ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও দুর্নীতি প্রতিরোধে বিশেষ অবদান রাখায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘ঠাকুর শান্তি পুরস্কারে’ ভূষিত করা হয়। হোটেল তাজমহলে এক অনুষ্ঠানে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি প্রফেসর ইশা মোহাম্মদ প্রধানমন্ত্রীর হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন।

গত বৃহস্পতিবার সকালে নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী। নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে এই সফর করেন তিনি। সফরের প্রথম দুই দিনে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম আয়োজিত ‘ইন্ডিয়া ইকোনমিক সামিট’-এ যোগ দেন।

বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চতুর্থ ড্রিমলাইনার ‘রাজহংস’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

টুডে ডেস্ক:
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হওয়া চতুর্থ ড্রিমলাইনার ‘রাজহংস’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি টার্মিনালে ফিতা কেটে নতুন এ বিমানটি উদ্বোধন করেন তিনি। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, বিমান পরিচালনা পর্ষদ চেয়ারম্যান বিমান বাহিনীর সাবেক এয়ার মার্শাল ইনামুল বারী, সচিব মহিবুল হক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সদ্য নিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোকাব্বির হোসেন। বিমানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্যাপ্টেন ফারহাত হাসান জামিল ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জলকামান স্যাল্যুট জানিয়ে বিমানবন্দর থেকে ড্রিমলাইনারটি গ্রহণ করেন। এর আগে গত বছরের আগস্ট ও ডিসেম্বর মাসে প্রথম ও দ্বিতীয় বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ‘আকাশ বীনা’ ও ‘হংসবলাকা’ ঢাকায় এসে পৌঁছায়। গত জুলাই মাসে তৃতীয় বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ‘গাঙচিল’ ঢাকায় অবতরণ করে। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ড্রিমলাইনারগুলোর নাম রাখেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২০০৮ সালে মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং কোম্পানির ১০টি নতুন বিমান ক্রয়ের জন্য ২ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী বোয়িং ইতোমধ্যেই চারটি ৭৭৭-৩০০ইআর ও দুটি ৭৩৭-৮০০ এবং চারটি ড্রিমলাইনার বিমানকে হস্তান্তর করেছে। ২৭১ আসনের ‘রাজহংস’ বোয়িং ৭৮৭-৮ কে অন্যান্য বিমানের তুলনায় ২০শতাংশ জ্বালানী সাশ্রয়ী বিমান হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। বিমানটি ঘণ্টায় ৬৫০ মাইল বেগে একটানা ১৬ ঘণ্টা উড়তে পারবে। বিমানটি ৪৩ হাজার ফুট উচ্চতায় ওয়াইফাই পরিষেবা দেবে। এর ফলে যাত্রীরা আকাশ থেকে ইন্টারনেটের সাহায্যে বিশ্বের যে কোন স্থানে তাদের বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।

একনেক সভায় রেলওয়ের আধুনিকায়ন সহ ১০ প্রকল্প অনুমোদন

টুডে ডেক্স:-
বাংলাদেশ রেলওয়ের ২১টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ নবরূপায়নসহ ১০ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ হাজার ৯৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা। মঙ্গলবার রাজধানীর শেরে বাংলানগর এনইসি সম্মেলনকক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। সভাশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান প্রকল্প সম্পর্কে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। খবর বাসসের তিনি জানান, একনেকে অনুমোদিত ১০ প্রকল্পে মোট ব্যয় হবে ৬ হাজার ৯৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে খরচ করা হবে ৬ হাজার ৬৮৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হবে ২৪১ কোটি ৫২ লাখ এবং প্রকল্প সাহায্য হিসেবে বৈদেশিক সহায়তা পাওয়া যাবে ৩৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, রেলের ২১ ইঞ্জিন আধুনিকরণ প্রকল্পের আওতায় রেলের ২১টি এমজি লোকোমোটিভ পুনর্বাসনের মাধ্যমে নবরূপায়ন করা হবে। এতে লোকোমোটিভ গুলোর কর্মক্ষমতা যেমন বৃদ্ধি পাবে তেমনি চলাচলে গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে। এর মাধ্যমে যাত্রী সেবা নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ রেলওয়ের ২১টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ নবরূপায়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪২ কোটি ১৪ লাখ টাকা। জানুয়ারি ২০১৯ হতে জুন ২০২২ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে সমন্বিতভাবে সরকারি অফিস স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া ছোট, মাঝারি ও বড় এই তিন ভাবে ভাগ করে জেলা সদরের সরকারি অফিসগুলো যেন একই ডিজাইনের হয় সেই নির্দেশনাও প্রদান করেছেন তিনি। একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পসমূহ হলো-বামনডাংগা (গাইবান্ধা)-শঠিবাড়ী-আফতাবগঞ্জ জেলা মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প, যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন জোনের প্রধান সংযোগ রাস্তাাগুলি প্রশস্তকরণসহ নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা। অফিসার্স ক্লাব,ঢাকা এর ক্যাম্পাসে বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় হবে ২২৮ কোটি টাকা। মানিকগঞ্জ বহুতল বিশিষ্ট সমন্বিত সরকারি অফিস ভবন নির্মাণ প্রল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৯৫ কোটি টাকা। ঢাকাস্থ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৯৮ কোটি টাকা। দুস্থ শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র পুনঃনির্মাণ, কোনাবাড়ি, গাজীপুর প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮১ কোটি টাকা। সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭৯ কোটি টাকা। বৃহত্তর ফরিদপুর সেচ এলাকা উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় হবে ২০০ কোটি টাকা। ওয়েষ্ট জোন এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও আপগ্রেডেশন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৮৭ কোটি টাকা।

মন্ত্রী হচ্ছেন যারা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর টানা তৃতীয়বারের মতো মন্ত্রিসভা গঠন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে বিজয়ী সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন। সোমবার শপথ নেবে নতুন মন্ত্রিসভা।

মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য অনেক সংসদ সদস্য টেলিফোনে ডাক পেয়েছেন। ৪৬ সদস্যের মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছে বেশ কয়েকজন নতুন মুখ। বাদ পড়েছেন হেভিওয়েট প্রার্থীরা। এবার শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় ২৪ জন মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রী থাকছেন ৩ জন।

পূর্ণ মন্ত্রীদের নামের তালিকা:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ।

১. মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়: আ ক মোজাম্মেল হক

২. সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়: ওবায়দুল কাদের

৩. কৃষি মন্ত্রণালয় : মো. আব্দুর রাজ্জাক

৪. স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: আসাদুজ্জামান খান কামাল

৫. তথ্য মন্ত্রণালয়: মোহাম্মদ হাসান মাহমুদ

৬. আইন বিচার ও সংসদ বিষয় মন্ত্রণালয়: আনিসুল হক

৭. অর্থ মন্ত্রণালয় : আহম মুস্তফা কামাল

৮. স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় : মো. তাজুল ইসলাম

৯. শিক্ষা মন্ত্রণালয়: ড. দিপু মনি

১০ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: এ. কে আব্দুল মোমেন

১১. পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়: এম এ মান্নান

১২. শিল্প মন্ত্রণালয়: নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন

১৩. বস্ত্র ও পাঠ মন্ত্রণালয়: গোলাম দস্তগির গাজী

১৪. স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়: জাহিদ মালিক

১৫. খাদ্য মন্ত্রণালয়: সাধন চন্দ্র মজুমদার

১৬. বাণিজ্য মন্ত্রণালয়: টিপু মুনসি

১৭. সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়: নুরুজ্জামান আহমেদ

১৮. গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়: শ ম রেজাউল করিম

১৯. পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়: মো. শাহাবুদ্দীন

২০. পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়: বীর বাহাদুর উশেশিং

২১. ভূমি মন্ত্রণালয়: সাইফুজ্জামান চৌধুরী

২২. রেলপথ মন্ত্রণালয়: মো. নুরুল ইসলাম সুজন

২৩. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়: ইয়াফেস উসমান
২৪. ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়: মোস্তফা জব্বার

প্রতিমন্ত্রীদের নামের তালিকা:

কামাল আহমেদ মজুমদার (শিল্প মন্ত্রণালয়), ইমরান আহমেদ (প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়), জাহিদ আহসান রাসেল (যুব ও ক্রীড়া), নসরুল হামিদ (বিদ্যুৎ ও জ্বালানি), আশরাফ আলী খান খসরু (মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ), মন্নুজান সুফিয়ান (শ্রম মন্ত্রণালয়), খালিদ মাহমুদ চৌধুরী (নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ), জাকির হোসেন (প্রাথমিক ও গণশিক্ষা), শাহরিয়ার আলম (পররাষ্ট্র), জুনায়েদ আহমেদ পলক (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি), ফরহাদ হোসেন (জনপ্রশাসন), স্বপন ভট্টাচার্য (স্থানীয় সরকার), জাহিদ ফারুক (পানিসম্পদ), মো. মুরাদ হাসান (স্বাস্থ্য), শরীফ আহমেদ (সমাজকল্যাণ), কে এম খালিদ (সংস্কৃতি), এনামুর রহমান (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ), মাহবুব আলী (বিমান), শেখ মো. আবদুল্লাহ—টেকনোক্র্যাট (ধর্ম)।

উপমন্ত্রীদের নামের তালিকা:

হাবিবুন নাহার (পরিবেশ), এ কে এম এনামুল হক শামীম (পানিসম্পদ), মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল (শিক্ষা)।

সুত্র-ইত্তেফাক

তারেক রহমানের এপিএস গ্রেফতার

ডেস্ক রিপোর্ট:

একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে রাজধানীর মতিঝিলে ৮ কোটি টাকা উদ্ধার মামলার আসামি মিয়া নুরুদ্দীন অপু গ্রেফতার হয়েছেন। শুক্রবার রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১।

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, মিয়া নুরুদ্দীন অপু ওই হাসপাতালের ৫০৩ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন।

শরীয়তপুর-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে লড়ে হেরে যান মিয়া নুরুদ্দীন অপু। এছাড়া তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এপিএস।

এর আগে গত ২৫ ডিসেম্বর মতিঝিলের সিটি সেন্টারের ২৭ তলায় ইউনাইটেড কর্পোরেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ৮ কোটি ১৫ লাখ টাকাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন- ব্যবসায়ী আলী হায়দার, তিনি আমদানি-রফতানি ও ঠিকাদারি কোম্পানি ইউনাইটেড করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। অন্যরা হলেন- গুলশানের আমেনা এন্টারপ্রাইজের জয়নাল ও ইউনাইটেড কর্পোরেশনের অফিস ব্যবস্থাপক আলমগীর হোসেন। এদের মধ্যে জয়নাল একসময় হাওয়া ভবনের সাবেক কর্মচারী ছিলেন।

মতিঝিলে সিটি সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলন করে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ জানিয়েছিলেন, নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টায় ছিলেন আটকরা। যেখানে যেখানে টাকা গেছে সেখানেই নির্বাচনী সহিংসতা ঘটেছে।

নির্বাচনের আগে দুই মাসে প্রায় দেড় শ কোটি টাকা বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়েছে বলে জানান র‌্যাব মহাপরিচালক। তিনি বলেন, সবশেষ মিয়া নুরুদ্দীন অপুকে সাড়ে তিন কোটি টাকা পাঠানো হয়। টাকা পাঠানোর তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে র‌্যাব। এছাড়া চট্টগ্রামসহ আরও কয়েকটি জেলায় টাকা পাঠানো হয়েছে।

টাকার উৎস সম্পর্কে বেনজীর বলেন, টাকা এসেছে দুবাই থেকে হুন্ডি ও ব্যাংকের মাধ্যমে। এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায় থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।

সুত্র- ইত্তেফাক

শপথ নিলেন নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা

ডেস্ক নিউজ:

একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেছেন। সংসদ ভবনের পূর্ব ব্লকের ১ম লেভেলের (নিচতলায়) শপথ কক্ষে আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার পর তাদের শপথ পাঠ করান জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এর আগে তিনি নিজেও শপথ বাক্য পাঠ করেন।

৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ২৯৮ জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করে তাদের নাম-ঠিকানাসহ মঙ্গলবার গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলাফলের গেজেটে তারিখ রয়েছে ১ জানুয়ারি ২০১৯। ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, এই গেজেট গতকাল সকালে সংসদ সচিবালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়। ইসির পাঠানো গেজেট হাতে পাওয়ার পর এমপিদের শপথ পড়ানোর সময় নির্ধারণ করে সংসদ সচিবালয়।

অন্য সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করানোর আগে আবারও এমপি নির্বাচিত হওয়া স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী নিজে নিজে একাদশ সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন। তিনি রংপুর-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

স্পিকারের কার্যালয় ও সংসদ সচিবালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রেওয়াজ অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দল আওয়ামী লীগের সদস্যরা প্রথমে শপথ নেন। এরপর ক্রমানুসারে অন্যদের শপথ নেয়ার কথা। শপথগ্রহণ শেষে নতুন সংসদ সদস্যরা সংসদ সচিবের কার্যালয়ের স্বাক্ষর খাতায় সই করেন এবং একসঙ্গে তাদের ছবি তোলা হয়।

দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে গত রবিবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। গোলযোগের কারণে ব্রাহ্মণবড়িয়া-২ (আশুগঞ্জ-সরাইল) আসনটির ফলাফল স্থগিত থাকায় ২৯৮টি আসনের ফল ঘোষণা করে ইসি। আর ভোটগ্রহণের আগে গাইবান্ধা-৩ আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ড. টিআইএম ফজলে রাব্বি চৌধুরী মৃত্যুবরণ করায় ওই আসনে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। এই আসনে ইসি নতুন করে তফসিল ঘোষণা করে ভোটগ্রহণ করবে।

গেজেট হওয়া ২৯৮টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগসহ মহাজোট পেয়েছে ২৮৮টি আসন। মহাজোটের মধ্যে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দল এবং এইচএম এরশাদের জাতীয় পার্টি (জাপা) ও অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্পধারা রয়েছে। জাপা ২২টি ও বিকল্পধারা ২টি আসন পেয়েছে। নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। আর এবারের নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পেয়েছে ৭টি আসন; এরমধ্যে বিএনপি দলীয় প্রার্থীরা জিতেছেন ৫টি আসনে, আর ঐক্যফ্রন্টের শরিক গণফোরামের ২ জন প্রার্থী জয়ী হন। এছাড়া ৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী রবিবারের ভোটে বিজয়ী হন।