০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্হায়ী নাগরিকত্ব পেতে সময় লাগবে কুড়ি বছর

  • Update Time : ১১:১১:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
  • / 64

ডেস্ক রিপোর্টঃ-শরণার্থী নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য সরকার। নতুন নীতি কার্যকর হলে দেশটিতে আশ্রয় নেওয়ার পর স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদন করতে ইচ্ছুক শরণার্থীদের অপেক্ষা করতে হবে টানা ২০ বছর।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সোমবার (১৭ নভেম্বর) এই পরিকল্পনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ।

বর্তমানে যুক্তরাজ্যে শরণার্থীরা ৫ বছরের বসবাসের অনুমতিপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন এবং এরপর তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য বসবাসের আবেদন করতে পারেন।

যুক্তরাজ্য সরকার মনে করছে, অবৈধভাবে সাগরপথে দেশটিতে প্রবেশ ও আশ্রয় চাওয়ার হার কমাতে কঠোর নীতি প্রয়োজন।

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী- প্রথমে শরণার্থীদের সাময়িকভাবে বসবাসের অনুমতি দেওয়া হবে। এরপর নিয়মিতভাবে শরণার্থীর নিজ দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে। সবশেষ পরিস্থিতি নিরাপদ মনে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দেশে ফিরে যেতে বলা হবে।

নতুন নীতিতে সাময়িক বসবাসের মেয়াদ ৫ বছর থেকে কমিয়ে আড়াই বছর করা হচ্ছে। এর পর থেকেই শরণার্থীদের স্ট্যাটাস নিয়মিতভাবে মূল্যায়ন করা হবে।

সানডে টাইমসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেছেন, ‘মানুষকে সতর্ক করার জন্যই এই সংস্কারের পরিকল্পনা। এখনই উদ্যোগ না নিলে দেশে আরও বিভাজন সৃষ্টি হবে।’

যুক্তরাজ্যের নতুন নীতির ভিত্তি ডেনমার্কের কঠোর অভিবাসন আইন। ডেনমার্কে শরণার্থীদের সাধারণত দুই বছরের অস্থায়ী অনুমতি দেওয়া হয় এবং মেয়াদ শেষে পুনরায় আবেদন করতে হয়। লন্ডন একই ধরনের কঠোর কাঠামো অনুসরণ করতে চাইছে।

এদিকে নতুন নীতির সমালোচনা করেছে শরণার্থী কাউন্সিল। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী এনভার সোলোমন বলেছেন, ‘অভিবাসীদের বাধা না দিয়ে বরং তাদের ২০ বছরের অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। এটি যেকোনো মানুষের জন্যই বিশাল মানসিক চাপ তৈরি করবে।’

যুক্তরাজ্য সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী- গত মার্চ পর্যন্ত ১২ মাসে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৩৪৩ জন, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি। সর্বশেষ সাত দিনে দেশটিতে পৌঁছেছেন ১ হাজার ৬৯ শরণার্থী। চলতি বছর এখন পর্যন্ত সাগরপথে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন ৩৯ হাজারেরও বেশি মানুষ।

সরকারের নতুন পরিকল্পনা আগামী সপ্তাহেই ঘোষণা হওয়ার কথা।

বিশ্লেষকদের মতে, কঠোর এ নীতি ভবিষ্যতেও যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।

Please Share This Post in Your Social Media

স্হায়ী নাগরিকত্ব পেতে সময় লাগবে কুড়ি বছর

Update Time : ১১:১১:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

ডেস্ক রিপোর্টঃ-শরণার্থী নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য সরকার। নতুন নীতি কার্যকর হলে দেশটিতে আশ্রয় নেওয়ার পর স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদন করতে ইচ্ছুক শরণার্থীদের অপেক্ষা করতে হবে টানা ২০ বছর।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সোমবার (১৭ নভেম্বর) এই পরিকল্পনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ।

বর্তমানে যুক্তরাজ্যে শরণার্থীরা ৫ বছরের বসবাসের অনুমতিপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন এবং এরপর তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য বসবাসের আবেদন করতে পারেন।

যুক্তরাজ্য সরকার মনে করছে, অবৈধভাবে সাগরপথে দেশটিতে প্রবেশ ও আশ্রয় চাওয়ার হার কমাতে কঠোর নীতি প্রয়োজন।

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী- প্রথমে শরণার্থীদের সাময়িকভাবে বসবাসের অনুমতি দেওয়া হবে। এরপর নিয়মিতভাবে শরণার্থীর নিজ দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে। সবশেষ পরিস্থিতি নিরাপদ মনে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দেশে ফিরে যেতে বলা হবে।

নতুন নীতিতে সাময়িক বসবাসের মেয়াদ ৫ বছর থেকে কমিয়ে আড়াই বছর করা হচ্ছে। এর পর থেকেই শরণার্থীদের স্ট্যাটাস নিয়মিতভাবে মূল্যায়ন করা হবে।

সানডে টাইমসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেছেন, ‘মানুষকে সতর্ক করার জন্যই এই সংস্কারের পরিকল্পনা। এখনই উদ্যোগ না নিলে দেশে আরও বিভাজন সৃষ্টি হবে।’

যুক্তরাজ্যের নতুন নীতির ভিত্তি ডেনমার্কের কঠোর অভিবাসন আইন। ডেনমার্কে শরণার্থীদের সাধারণত দুই বছরের অস্থায়ী অনুমতি দেওয়া হয় এবং মেয়াদ শেষে পুনরায় আবেদন করতে হয়। লন্ডন একই ধরনের কঠোর কাঠামো অনুসরণ করতে চাইছে।

এদিকে নতুন নীতির সমালোচনা করেছে শরণার্থী কাউন্সিল। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী এনভার সোলোমন বলেছেন, ‘অভিবাসীদের বাধা না দিয়ে বরং তাদের ২০ বছরের অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। এটি যেকোনো মানুষের জন্যই বিশাল মানসিক চাপ তৈরি করবে।’

যুক্তরাজ্য সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী- গত মার্চ পর্যন্ত ১২ মাসে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৩৪৩ জন, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি। সর্বশেষ সাত দিনে দেশটিতে পৌঁছেছেন ১ হাজার ৬৯ শরণার্থী। চলতি বছর এখন পর্যন্ত সাগরপথে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন ৩৯ হাজারেরও বেশি মানুষ।

সরকারের নতুন পরিকল্পনা আগামী সপ্তাহেই ঘোষণা হওয়ার কথা।

বিশ্লেষকদের মতে, কঠোর এ নীতি ভবিষ্যতেও যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।