5:50 pm, Saturday, 14 February 2026

জগন্নাথপুরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ॥ গ্রামীণ সড়কে যানচলাচল বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : 06:20:43 pm, Thursday, 1 August 2019
  • 622 Time View

মো: আব্দুল হাই:
সাম্প্রতিক অতি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে জগন্নাথপুর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নের প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে পড়েন। প্রায় ২০দিন অতিবাহিত হলেও ক্রমান্বয়ে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। বন্যার পানি প্রবেশ ও আশ পাশ এলাকা জলমগ্ন থাকায় ৫৬টি শিক্ষা প্রতিষ্টানের শিক্ষা কার্যক্রম বিঘিœত হলেও বন্যার পানি কমতে শুরু করায় অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্টানে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্টানের মধ্যে বেশীর ভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া পৌর শহর সহ গ্রামীণ জনপদের অধিকাংশ সড়কপথ যানবাহন চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি কুশিয়ারার নদীর তীরবর্তী আশারকান্দি, পাইলগাঁও ও রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ৮/১০টি গ্রামের জনসাধারন এখন চরম দূর্ভোগে রয়েছেন। কুশিয়ারা নদীর প্রবল ¯্রােতে এবং নদীর তীর ঘেষে শিবগঞ্জ, কাতিয়া, ফেচী ভায়া বেগমপুর সড়কের অধিকাংশ স্থানে সড়ক ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সড়কটির স্থানে স্থানে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বড়ফেচী গ্রামের মুজিবুর রহমান মুরাদ জানান, বন্যার কারনে দীর্ঘ এক মাস ধরে উপজেলার সদরের সাথে সরাসরি যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। আশারকান্দি ইউনিয়নের শেওরা, পাটকুড়া, বড়ফেচী, কালাম্ভরপুর, শুক্লাম্ভরপুর সহ আশ পাশের ৪/৫টি গ্রামের জনসাধারন আজ শুক্রবার পর্যন্ত পানি বন্ধি অবস্থায় রয়েছেন। তবে বন্যার পানি কমতে শুরু করায় দুর্ভোগ কমছে। কাতিয়া গ্রামের যুবলীগ নেতা সেলিম খান জানান, পাইলগাঁও ইউনিয়নের কাতিয়া, স্বাধীন বাজার, পাইলগাঁও রমাপতিপুর, আলাগদী সহ আশ পাশের ৩/৪টি গ্রামের জনসাধারন চরম দূর্ভোগে রয়েছেন। সরকারিভাবে এবং ব্যাক্তিগত উদ্যোগ ছাড়াও বিভিন্ন সংগঠনের ত্রান সামগ্রী বিতরন অব্যাহত রয়েছে। তবে এবার সরকারিভাবে পর্যাপ্ত পরিমাণের ত্রান সামগ্রী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের ইতোমধ্যে বিতরন করা হয়েছে। উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগের একমাত্র শিবগঞ্জ-কাতিয়া-বেগমপুর সড়ক সংস্কারের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেন। এদিকে কলকলিয়া, চিলাউড়া-হলদিপুর এবং পৌরসভার ১০/১২টি গ্রাম ও এলাকা থেকে ক্রমান্বয়ে বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহ্ফুজুল আলম মাসুম জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ এ পর্যন্ত ২ সহস্্রাধিক পরিবারের মধ্যে ত্রান সামগ্রী বিতরনের পাশাপাশি বিভিন্ন ইউনিয়নের জিআর চাল বিতরন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ২/১দিনের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সরকারিভাবে ত্রান বিতরনের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন সংস্থা এবং ব্যক্তি উদ্যোগে ত্রান বিতরন অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সৈয়দ তালহা আলমের পক্ষে নির্বাচনে কাজ করতে দেশে আসছেন শেখ শামছুল ইসলাম

জগন্নাথপুরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ॥ গ্রামীণ সড়কে যানচলাচল বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ

Update Time : 06:20:43 pm, Thursday, 1 August 2019

মো: আব্দুল হাই:
সাম্প্রতিক অতি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে জগন্নাথপুর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নের প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে পড়েন। প্রায় ২০দিন অতিবাহিত হলেও ক্রমান্বয়ে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। বন্যার পানি প্রবেশ ও আশ পাশ এলাকা জলমগ্ন থাকায় ৫৬টি শিক্ষা প্রতিষ্টানের শিক্ষা কার্যক্রম বিঘিœত হলেও বন্যার পানি কমতে শুরু করায় অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্টানে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্টানের মধ্যে বেশীর ভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া পৌর শহর সহ গ্রামীণ জনপদের অধিকাংশ সড়কপথ যানবাহন চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি কুশিয়ারার নদীর তীরবর্তী আশারকান্দি, পাইলগাঁও ও রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ৮/১০টি গ্রামের জনসাধারন এখন চরম দূর্ভোগে রয়েছেন। কুশিয়ারা নদীর প্রবল ¯্রােতে এবং নদীর তীর ঘেষে শিবগঞ্জ, কাতিয়া, ফেচী ভায়া বেগমপুর সড়কের অধিকাংশ স্থানে সড়ক ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সড়কটির স্থানে স্থানে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বড়ফেচী গ্রামের মুজিবুর রহমান মুরাদ জানান, বন্যার কারনে দীর্ঘ এক মাস ধরে উপজেলার সদরের সাথে সরাসরি যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। আশারকান্দি ইউনিয়নের শেওরা, পাটকুড়া, বড়ফেচী, কালাম্ভরপুর, শুক্লাম্ভরপুর সহ আশ পাশের ৪/৫টি গ্রামের জনসাধারন আজ শুক্রবার পর্যন্ত পানি বন্ধি অবস্থায় রয়েছেন। তবে বন্যার পানি কমতে শুরু করায় দুর্ভোগ কমছে। কাতিয়া গ্রামের যুবলীগ নেতা সেলিম খান জানান, পাইলগাঁও ইউনিয়নের কাতিয়া, স্বাধীন বাজার, পাইলগাঁও রমাপতিপুর, আলাগদী সহ আশ পাশের ৩/৪টি গ্রামের জনসাধারন চরম দূর্ভোগে রয়েছেন। সরকারিভাবে এবং ব্যাক্তিগত উদ্যোগ ছাড়াও বিভিন্ন সংগঠনের ত্রান সামগ্রী বিতরন অব্যাহত রয়েছে। তবে এবার সরকারিভাবে পর্যাপ্ত পরিমাণের ত্রান সামগ্রী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের ইতোমধ্যে বিতরন করা হয়েছে। উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগের একমাত্র শিবগঞ্জ-কাতিয়া-বেগমপুর সড়ক সংস্কারের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেন। এদিকে কলকলিয়া, চিলাউড়া-হলদিপুর এবং পৌরসভার ১০/১২টি গ্রাম ও এলাকা থেকে ক্রমান্বয়ে বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহ্ফুজুল আলম মাসুম জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ এ পর্যন্ত ২ সহস্্রাধিক পরিবারের মধ্যে ত্রান সামগ্রী বিতরনের পাশাপাশি বিভিন্ন ইউনিয়নের জিআর চাল বিতরন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ২/১দিনের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সরকারিভাবে ত্রান বিতরনের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন সংস্থা এবং ব্যক্তি উদ্যোগে ত্রান বিতরন অব্যাহত রয়েছে।