মহামারি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে শাস্তি :: মুসলমানদের জন্য রহমত

বিশ্বের প্রায় সবকটি দেশে করোনা ভাইরাস নামের সহামারী ছড়িয়ে পড়েছে।কিভাবে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে? কেন করোনা ভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করল? এসকল মহামারীর বিভিন্ন সাইন্টিফিক কারণ থাকতে পারে যা চিকিৎসা বিজ্ঞানের কল্যাণে আমরা ইতিমধ্যে কিছু জানতে পেরেছি। হাদীসে এসকল মহামারির যে কারণ বলা হয়েছে, তা হচ্ছে, অশ্লীলতার ভয়াবহ সয়লাব।

প্রকাশ্যে অশ্লীল কাজে লিপ্ত হওয়া কোনো সম্প্রদায়ে মহামারি ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হিসাবে বলা হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন কোন কওমের মধ্যে অশ্লীলতা বেহায়াপনা প্রকাশ্যে ছড়িয়ে পড়বে তখন তাদের মধ্যে এমন এমন রোগব্যাধি ছড়িযয়ে পড়বে যা ইতিপূর্বে দেখা যায়নি। (ইবনে মাজাহ) । এ সকল মহামারীর সময় মুসলমান হিসেবে আমাদের কি করা উচিত? এ বিষয়ে ইসলামের শিক্ষা অনেক স্পষ্ট। এসকল অবস্থায় আমাদের সর্বপ্রথম করণীয় হচ্ছে, আল্লাহর তাকদীরের উপর খুশী থাকা।

সাওয়াবের আশা নিয়ে ধৈর্য ধারণ করা। কারণ তা মুসলমানদের জন্য রহমত স্বরূপ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম সর্বপ্রথম আমাদেরকে এসব অবস্থায় সান্তনা দিয়েছেন। হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন, মহামারি আল্লাহ তাআলার একটি শাস্তি। তবে তা মুসলমানদের জন্য আল্লাহর রহমত। (বোখারী শরীফ) যারা আল্লাহ তাআলার উপর বিশ্বাস রাখে তাদের পায়ে যদি কোনো কাটাও ফুটে, আল্লাহর কাছে এরও বিনিময় পাওয়া যাবে। সুতরাং এ অবস্থায় যারা ধৈর্য্য ধারণ করে তাদের জন্য এটি মহামারি নয়। এদের জন্য আল্লাহর রহমত।

এর মাধ্যমে তাদের গুনাহ মাফ হয়। এসকল মহামারির সময় যারা সাওয়াবের নিয়তে ধৈর্য ধারণ করে, এবং আক্রান্ত এলাকা থেকে পালিয়ে যায় না হাদীস শরীফে এসেছে তারা শহীদের মর্যাদা লাভ করবে। এ ব্যাপারে সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন কোন এলাকায় মহামারি ছড়িয়ে পড়ে তখন যদি তোমরা সেখানে থাকো তাহলে সেখান থেকে বের হবে না। আর যদি তোমরা বাইরে থাকো তাহলে তোমরা সেই আক্রান্ত এলাকায় যাবে না।

প্রশ্ন হতে পারে, ইসলাম কেন যারা সেখানে অবস্থান করছেন তাদের সেখান থেকে পলায়ন এর অনুমতি দেয় না? এ প্রশ্নের জবাবে আলেমগণ লিখেছেন, ইসলাম সব বিষয়ই মধ্যপন্থা শিক্ষা দেয়। মহামারির ক্ষেত্রে মধ্যপন্থাই ইসলাম শিক্ষা দিয়েছে। কারণ যদি আক্রান্ত এলাকার লোকজন পলায়ন করে তাহলে যে সকল লোক আক্রান্ত হয়েছেন তাদের সেবা-শুশ্রূষা কে করবেন? তাছাড়া দেখা যাবে ধনীরা পালিয়ে যেতে পেরেছে দরিদ্ররা পলাতে পারেনি।

চিকিৎসা বিজ্ঞান থেকে জানা যায়, আক্রান্ত এলাকার লোকজনের অনেকে এমন থাকে যারা মনে করেন তাদের মধ্যে সেই রোগ নেই। অথচ সেই রোগের জীবাণু তাদের মধ্যে রয়েছে। তারা যদি সেখান থেকে বের হয়ে অন্য কোথাও যান তাহলে সেই রোগ আরো অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সাল্লাম বলেছেন, আমার উম্মত কেবলই যুদ্ধ ও মহামারীতে ধ্বংস হবে। যে এলাকায় মহামারি ছড়িয়ে পড়বে সেখানে অবস্থান করে যদি কেউ মৃত্যুবরণ করে তাহলে সে শহীদ বলে আখ্যায়িত হবে। আর উপদ্রæত এলাকা থেকে যে পালিয়ে আসবে তাকে জিহাদ থেকে পলায়নকারীর মতোই গণ্য করা হবে। যুদ্ধের ময়দান থেকে নিজেদের সঙ্গীসাথীদের সহযোগিতা না করে পলায়ন করাকে হাদীসে কবীরা গোনাহ আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

তেমনি কুরআন মাজিদে জিহাদ থেকে পলায়নকারীকে আল্লাহর ক্রোধে নিপতিত হওয়ার ধমকি শোনানো হয়েছে। আর আক্রান্ত এলাকা থেকে পলায়ন করা জেহাদ থেকে পলায়ন করার মতই। যে সকল মুসলমান এসকল আক্রান্ত এলাকায় রয়েছেন তাদের উচিত সেখানে অবস্থান করা। সেখান থেকে না আসা । আর আশপাশের দেশগুলোর উচিত, আপাতত সে সব এলাকায় না যাওয়া। সেসব এলাকার সফর মুলতবি করা।

এবং ওই সব এলাকা থেকে যারা এসেছেন বা আসবেন তাদেরকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেশে ঢুকানো। আল্লাহ না করুন, এরপরও যদি আশপাশের দেশগুলোতেও তা ছড়িয়ে পড়ে তাহলে ধৈর্যধারণ করা, সওয়াবের আশা করা। তাকদীর যা আছে তাই হবে। যদি আমরা ধৈর্য ধরি তাহলেও তাই ঘটবে। আমরা সওয়াব পেয়ে যাব। আর যদি হায় হুতাশ করি, তাহলেও তাকদীরে যা আছে তাই হবে কিন্তু আমরা সওয়াব থেকে মাহরুম হব।
লেখক: ডক্টর সৈয়দ রেজওয়ান আহমদ, অধ্যক্ষ: সৈয়দপুর সৈয়দীয়া শামছিয়া ফাজিল মাদরাসা ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *