মানবিক শিক্ষক আত্মত্যাগের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: মেহেরিন চৌধুরীর জন্মদিন আজ
- Update Time : ০৪:০৯:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
- / 11
ডক্টর মোঃ বদরুল আলম সোহাগ
কিছু মানুষ পৃথিবীতে আসেন শুধু নিজের জন্য নয়—অসংখ্য মানুষের জীবন আলোকিত করতে, ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে, দায়িত্ব ও মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠতে। তেমনই একজন ছিলেন ঢাকার উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষিকা, আমার স্কুল বন্ধু ব্যাচের গর্ব—মেহেরিন চৌধুরী। তাঁর জীবন যেমন ছিল মমতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতায় পরিপূর্ণ, তেমনি তাঁর বিদায়ও রচনা করেছে আত্মত্যাগের এক বিরল ইতিহাস।
গত ২১ জুলাই ২০২৫, এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনার ভয়াবহ মুহূর্তে তিনি নিজের জীবনের নিরাপত্তার কথা না ভেবে শিক্ষার্থীদের রক্ষায় ঝাঁপিয়ে পড়েন। বলা হয়, তিনি অন্তত ২০ জন শিশু শিক্ষার্থীকে বাঁচানোর জন্য অসীম সাহস ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দেন, এবং শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। একজন শিক্ষক কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেন না—তিনি শেখান মানবতা, সাহস, দায়িত্ব ও ভালোবাসার প্রকৃত অর্থ। মেহেরিন চৌধুরী তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সেই মহান দায়িত্ব পালন করে গেছেন।
তিনি ছিলেন একজন স্নেহময়ী মানুষ—বন্ধুদের কাছে আন্তরিক, সহকর্মীদের কাছে শ্রদ্ধেয়, শিক্ষার্থীদের কাছে নির্ভরতার নাম। তাঁর বিনয়, কোমল আচরণ, দায়িত্বশীলতা ও মানবিক গুণাবলি তাঁকে সবার হৃদয়ে আলাদা স্থান করে দিয়েছিল। শিক্ষকতা তাঁর কাছে শুধু পেশা ছিল না, ছিল এক মহৎ অঙ্গীকার—ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি।
জাতিও তাঁর অবদান ভুলে যায়নি। বাংলাদেশ সরকার তাঁর অসামান্য সাহসিকতা, মানবিকতা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর তাঁকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করেছে। এটি কেবল একটি রাষ্ট্রীয় সম্মান নয়, বরং মানবতার প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা ও অসীম ত্যাগের প্রতি জাতির গভীর শ্রদ্ধার প্রতীক।
আজ তাঁর জন্মদিনে আমরা তাঁকে শুধু স্মরণ করি না—আমরা তাঁর জীবনাদর্শ থেকে প্রেরণা নিই। একজন শিক্ষক কীভাবে নিজের জীবন দিয়েও শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে পারেন, কীভাবে মানবতা ও দায়িত্ববোধকে সর্বোচ্চ স্থানে রাখা যায়—মেহেরিন চৌধুরী তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন যুগের পর যুগ।
প্রিয় বন্ধু মেহেরিন চৌধুরী, তুমি আমাদের হৃদয়ে চিরজাগরুক। তোমার আত্মত্যাগ আমাদের অনুপ্রেরণা, তোমার স্মৃতি আমাদের আবেগ। মহান আল্লাহ তোমার এই আত্মত্যাগ কবুল করুন, তোমাকে জান্নাতুল ফেরদাউসের মেহমান হিসেবে কবুল করুন। আমিন।
ডক্টর মোঃ বদরুল আলম সোহাগ
আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী, কবি ও সাহিত্যিক









