আরডিএফ গ্লোবালের উদ্যোগে সিলেটের চা বাগান এলাকায় যাকাতের নগদ অর্থ বিতরণ
- Update Time : ০৮:১৮:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
- / 2
স্টাফ রিপোর্টারঃ-
রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আরডিএফ) গ্লোবালের উদ্যোগে সিলেটের চা বাগান এলাকা যাকাতের নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।
শনিবার ২৪ মে সিলেটের বুরজান, কালাগুল, চোরাগাং ও খাদিম চা বাগান এলাকায় ১২৫ জন পুরুষ ও ১০৬ জন নারী সদস্যের মাঝে এই সহায়তা প্রদান করা হয়। আরডিএফের চেয়ারম্যান তালহা চৌধুরী, কান্ট্রি ম্যানেজার আব্দুন নূর, আরডিএফ একাডেমির অধ্যক্ষ ও প্রজেক্ট অফিসার রাইয়ান আহমেদ এবং প্রজেক্ট অফিসার হানিফ আহমেদ ও মাসুম চৌধুরী উপস্থিতিতে এ অর্থ বিতরণ করা হয়।
আরডিএফ কর্তৃপক্ষ জানান, এই কর্মসূচির পেছনে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের দুটি দলের নিরলস পরিশ্রম রয়েছে। দলের সদস্যরা একে একে প্রতিটি পরিবারের দোরগোড়ায় পৌছে তাদের জীবনযাত্রার বাস্তব চিত্র নিজের চোখে দেখেছেন এবং সত্যিকারের অসহায়দের তালিকা তৈরি করেছেন।
পণ্যের বদলে নগদ অর্থ দেয়ার সিদ্ধান্তও সুচিন্তিত। কারণ প্রতিটি পরিবারের সংকট আলাদা – কেউ খাবারের কষ্টে, কেউ ওষুধের অভাবে, কেউ আবার ঋণের চাপে দিশেহারা। নগদ অর্থ তাদের নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেয় এবং তাদের মর্যাদাকে সম্মান জানায়। সিলেটের এই চা বাগান অঞ্চলের শ্রমিকদের দুর্দশা দীর্ঘদিনের।
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বেঁচে থাকা এই মানুষগুলোর দৈনিক মজুরি মাত্র ১৭৭ টাকা, অর্থাৎ ব্রিটিশ মুদ্রায় এক পাউন্ডেরও কম। এই সামান্য আয়ে একটি পরিবারের মুখে দুবেলা খাবার তুলে দেওয়াই কঠিন, অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো তো সুদূরপরাহত। তাঁদের পাশে থেকে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন আল আমিন, সুমন, সুজন, সামাদ, হেলাল, সুমান, জামিল, রাশেদ, মোস্তফা ও নুফায়েলসহ একদল স্বেচ্ছাসেবী।
আরডিএফ গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জুবের চৌধুরী জানান, শুধু অর্থ বিতরণ করাই আমাদের লক্ষ্য নয়। আমরা চাই মানুষ তার নিজের মর্যাদা নিয়ে বাঁচুক। তাই প্রতিটি পরিবারকে আমরা সরাসরি নগদ অর্থ দিয়েছি, যাতে তারা নিজেরাই ঠিক করতে পারেন কোথায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
এই যাকাত শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এটি একটি বিশ্বাসের সম্পর্ক – দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে। তিনি আরও বলেন,যাঁরা তাঁদের যাকাত আরডিএফের হাতে আমানত হিসেবে তুলে দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। তাঁদের আস্থাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আর যে স্বেচ্ছাসেবীরা কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই মাঠে নেমে এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের প্রতিটি পদক্ষেপ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে মানবতা এখনও জীবিত। আল্লাহ তাঁদের সকলকে উত্তম প্রতিদান দিন।
















