প্রবীণদের সামাজিক সুরক্ষার উন্নয়নে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত
- Update Time : ০৩:০৯:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 7
স্টাফ রিপোর্টার:
জাতীয় পর্যায়ের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক)-এর উদ্যোগে প্রবীণদের সামাজিক সুরক্ষার উন্নয়নে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় খিলগাঁও গভ: কলোনি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে আন্ত:প্রজন্ম স্বনির্ভর ক্লাব-খিলগাঁওয়ের সভাপতি এম. হাফিজুর রহমান ময়নার সভাপতিত্বে ও জাহাঙ্গীর বিপ্লবের উপস্থাপনায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সিনিয়র সহকারী সচিব ও ব্যবস্থাপক অঞ্জন দাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তেজগাঁও উন্নয়ন সার্কেল কার্যালয়ের ইনসান আলী, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সমাজসেবা কর্মকর্তা আফসানা পারভীন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর মতিঝিল ইউনিটের সহকারী থানা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা কাকলী আক্তার, খিলগাঁও গভ: কলোনি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. শাহাদাত হোসেন সরকার, খিলগাঁও স্কুল অ্যান্ড কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মাহফুজুর রহমান মাহফুজ, ডা. রেজিয়াসহ অন্যান্যরা। আরও বক্তব্য রাখেন আন্ত:প্রজন্ম স্বনির্ভর ক্লাব-খিলগাঁওয়ের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতি এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ফলে বিশ্বে গড় আয়ু বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে বাংলাদেশেও প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে দেশের ১ কোটি ৭০ লাখ প্রবীণ আমাদের সমাজের পথপ্রদর্শক। কিন্তু বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে তারা শারীরিক, মানসিক এবং অর্থনৈতিকভাবে অরক্ষিত হয়ে পড়েন। তাই একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র ও সাম্যবাদী সমাজ বিনির্মাণে প্রবীণদের সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান বয়স্ক ভাতার আওতা বৃদ্ধি করে দেশের সকল দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত প্রবীণদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ভাতার পরিমাণ সম্মানজনক পর্যায়ে উন্নীত করা প্রয়োজন। বেসরকারি খাতের জন্য একটি সার্বজনীন পেনশন স্কিম পুরোপুরি কার্যকর করা আবশ্যক।
প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে প্রবীণদের জন্য পৃথক ‘জেরিয়াট্রিক ইউনিট’ বা প্রবীণ চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র চালু, বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং প্রবীণদের জন্য বিশেষায়িত স্বাস্থ্য বীমা চালু করা সময়ের দাবি।
‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩’-এর যথাযথ ও কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে, যেন কোনো সন্তান তার বাবা-মাকে অবহেলা করতে না পারে।
এছাড়া সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে প্রবীণ নিবাস এবং ‘ডে-কেয়ার সেন্টার’ বা বিনোদন কেন্দ্র স্থাপন করা দরকার, যেখানে তারা সমবয়সীদের সাথে সময় কাটাতে এবং মানসিক প্রফুল্লতা বজায় রাখতে পারেন।
বক্তারা বলেন, প্রবীণদের সামাজিক সুরক্ষা কোনো দয়া বা অনুদান নয়, এটি তাদের অধিকার। রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারের যৌথ প্রচেষ্টায় প্রবীণদের জন্য একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।



















