স্টাফ রিপোর্টার:
র্যাপিড এ্যকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব-৯ সিপিসি-২ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের এ এস পি এম কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে আভিযানিক দল রোববার (১১ আগষ্ট) রাত সাড়ে ১১ টায় ৯০ হাজার ভারতীয় সিগারেট ও ৫ লাখ ১১ হাজার শলাকা নাসির বিড়িসহ শেখ রিপনকে (৩৫) গ্রেফতার করেছেন্। ধৃত শেখ রিপন সিলেট জেলার বালাগঞ্জ উপজেলার ডেগাপুর মুসলিমাবাদ গ্রামের শেখ সিরাজুল ইসলামের ছেলে। র্যাব-৯ সিলেটের ভারপ্রাপ্ত মিডিয়া অফিসার এএসপি ওবাইন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর থানা এলকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে রাজনগর থানা এলকার নলুয়ার মুখ কালার বাজার সিটি সেন্টার মার্কেটের রিপন এর গোডাউন থেকে ভারতীয় সিগারেট ও নাসির বিড়ি সহ শেখ রিপন কে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধারকৃত মালামাল সহ গ্রেফতারকৃত শেখ রিপন কে রাজনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
Category: সিলেট বিভাগ
র্যাব-এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ জগন্নাথপুরের মুন্না গ্রেফতার
স্টাফ রিপোর্টার
র্যাপিড এ্যকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব-৯ সদর কোম্পানী (সিলেট ক্যাম্প) এর এ এস পি ওবাইন এর নেতৃত্বে আভিযানিক দল রোববার (১১ আগষ্ট) রাত সাড়ে ৮ টায় ৫৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ মাদক ব্যবসায়ী মুন্নাকে (২৫) গ্রেফতার করেছেন্। ধৃত মুন্না জগন্নাথপুর উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের জুনু মিয়ার ছেলে। র্যাব-৯ সিলেটের ভারপ্রাপ্ত মিডিয়া অফিসার এএসপি ওবাইন সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান সিলেট মেট্রোপলিটন এর মোগলা বাজার থানা এলকার আলমপুরস্থ শিক্ষা বোর্ডের সামনে পাকা রাস্তা থেকে মুন্নাকে গ্রেফতার করা হয়। মুন্না মোগলা বাজার থানার কুচাই হামিদ মিয়ার বাসায় ভাড়া থাকত। উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতরকৃত মুন্নাকে মোগলা বাজার খানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব’র অভিযানে ইয়াবাসহ ২নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
স্টাফ রিপোর্টার:
র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব-৯, সদর কোম্পানী, সিলেট ক্যাম্পের অভিযানে বিপুল পরিমান ইয়াবা সহ ২ নারী মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছেন রবিবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ১২ টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব-৯, সদর কোম্পানী, সিলেট ক্যাম্পের মেজর মোঃ শওকাতুল মোনায়েম ও এ এস পি ওবাইন এর নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল সিলেট এসএমপির দক্ষিণ সুরমার রেলওয়ে স্টেশনের টিকেট কাউন্টারের সামনে থেকে ৩ হাজার ৮শ ৫ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী নাজমিন বেগম উরফে তামান্না (২১) ও শহিনুর আক্তারকে (২৮) গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত নাজমিন বেগম উরফে তামান্না সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার উত্তরকুল চৌধুরী পাড়া গ্রামের রিয়ান আহমেদের স্ত্রী ও শহিনুর আক্তার একই উপজেলার গনিপুর গ্রামের আলমগীরের স্ত্রী। র্যাব জানান, গ্রেফতারকৃত নারী মাদক ব্যবসায়ীরা অ্যাংলেটের মাধ্যমে বিশেষ পদ্ধতিতে অবৈধ ইয়াবা বহন করছিল। উদ্বারকৃত ইয়াবা সহ গ্রেফতারকৃতদের দক্ষিণ সুরমা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব’র অভিযানে গাঁজা সহ ২মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
স্টাফ রিপোর্টার:
র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব-৯, সিপিসি-৩, সুনামগঞ্জ ক্যাম্পের অভিযানে ২ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছেন। এসময় তাদের কাছ থেকে ২ কেজি গাঁজা ও নগদ ২হাজার ৪শ ৮০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২০ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব-৯, সিপিসি-৩, সুনামগঞ্জ ক্যাম্পের অধিনায়ক লে: কমান্ডার ফয়সল আহমদ এর নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ বাজারের জয়নাল মিয়ার লেপ তোষকের দোকানের সামনে পাঁকা রাস্তার ওপর থেকে মাদক ব্যবসায়ী শুক্কুর মিয়া (২০) ও আল আমিনকে (২৭) গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ২ কেজি গাঁজা ও নগদ ২হাজার ৪শ ৮০টাকা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত শুক্কুর মিয়া বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পুরাতন মুক্তিখলা গ্রামের জয়নুল মিয়ার ছেলে ও আল আমিন একই গ্রামের জজ মিয়ার ছেলে । র্যাব জানান, উদ্ধারকৃত গাঁজা ও গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিশ্বম্ভরপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
দক্ষিন সুনামগঞ্জ থানার মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ চৌধুরী জেলার শ্রেষ্ট অফিসার ইনচার্জ
মো: আব্দুল হাই:
সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিন সুনামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ জেলার শ্রেষ্ট অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি সর্বোচ্চ গ্রেফতারী পরোয়ানা, সাধারন নিস্পত্তি, সাজা নিস্পত্তি, সাধারন ও সাজার পরোয়ানা হ্রাস এবং চলমান মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে আসামী সহ মাদকদ্রব্য উদ্ধার, আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রনে নৈপুন্য এবং সুযোগ্য নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনার স্বীকৃতি স্বরূপ সুনামগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ট অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত হয়ে সম্মাননা স্মারক ও সনদ পত্র গ্রহন করেছেন। বৃহস্পতিবার (৭জুলাই) সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইনে মাসিক অপরাধ ও কল্যাণ সভায় পুলিশ সুপার বরকতুল্লাহ খান জেলার শ্রেষ্ট অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ চৌধুরীর হাতে সম্মাননা স্মারক ও সনদপত্র তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোঃ মিজানুর রহমান পিপিএম, সুনামগঞ্জ সদর সার্কেল মোঃ মাহবুবুর রহমান, ধর্মপাশা সার্কেল সুজন চন্দ্র সরকার, জগন্নাথপুর সার্কেল মোঃ মাহমুদুল হাসান চৌধুরী সহ সুনামগঞ্জ পুলিশের কর্মকর্তা বৃন্দ ।
প্রসঙ্গত: দক্ষিন সুনামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ চৌধুরী জগন্নাথপুর থানায় কর্মরত থাকাকালীন চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল মাসিক অপরাধ ও কল্যাণ সভায় জেলার ৭ম বারের শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত হয়ে সম্মাননা স্মারক ও সনদপত্র গ্রহন করেছেন। এদিকে আইন শৃংখলা রক্ষা ও কর্ম ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ন বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১৮সালে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষ্যে অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুনূর রশিদ চৌধুরী সর্বোচ্চ আইজপি ব্যাজ ও গত বছরের ২৩ অক্টোবর আইন শৃংখলা রক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য নেলসন ম্যান্ডেলা পিস এ্যাওয়ার্ড ও সনদ পেয়েছেন । অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ চৌধুরী দক্ষিন সুনামগঞ্জ থানায় যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন অপরাধী গ্রেফতার, মাদক উদ্ধারে সফলতা অর্জন এবং থানার প্রতিটি এলাকায় আইন শৃংঙখলা পরিস্থিতি উন্নতি কল্পে কমিউনিটি পুলিশিং ও বিট পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করনসহ সৎ ও দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে প্রসংশিত হচ্ছেন। ক্রীড়া সংগঠক ও একজন কৃতি খেলোয়ার হিসেবে সুনাম অর্জনকারী মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ চৌধুরী ইতোমধ্যে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সহকর্মী এবং জনসাধারনের মনিকোঠায় স্থান করে নিয়েছেন। জেলার শ্রেষ্ট অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত হয়ে পুরস্কৃত হওয়ায় পুলিশ সুপার মো: বরকতুল্লাহ খান, জেলা পুলিশের কর্মকর্তাবৃন্দ ও দক্ষিন সুনামগঞ্জ থানার অফিসার ফোর্স এবং দক্ষিন সুনামগঞ্জ উপজেলার সর্বস্তরের জনসাধারণের প্রতি অভিনন্দন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ভবিষ্যৎ কর্মময় জীবনের সাফল্য অর্জনে দোয়া কামনা করেছেন ।
র্যাব-৯ এর অভিযানে ১ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার
স্টাফ রির্পোটার:
হবিগঞ্জে র্যাব-৯ এর অভিযানে ১ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামীকে গ্রেফতার করেছে । র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব-৯ সিলেট এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: মনিরুজ্জামান স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান বুধবার ১০ এপ্রিল সন্ধ্যারাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব-৯, সিপিসি-২ (শ্রীমঙ্গল ক্যাম্প) এর এএসপি এ.কে.এম কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল থানার পুঁটিজুড়ী বাজার এলাকা থেকে চুরির মামলায় ১ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী মোঃ জসীম উদ্দিনকে (২৮) গ্রেফতার করেন। ধৃত জসীম উদ্দিন হবিগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার চানপুর গ্রামের মৃত তাহির আলীর ছেলে । গ্রেফতারকৃত আসামীকে হবিগঞ্জ জেলার সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সদর উপজেলার ১২৯টি প্রাইমারি স্কুলের মাঝে বিভিন্ন জাতের ২হাজার গাছের চাড়া বিতরণ
নিজস্ব প্রতিনিধি::
সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সদর উপজেলার ১২৯টি প্রাইমারি স্কুলের মাঝে বিভিন্ন জাতের ২ হাজার গাছের চাড়া বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার বিকালে চাড়া বিতরণের আগে সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে ১২৯টি প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রদান অতিথির বক্তব্য রাখেন, সদর উপজেলা নিবার্হী অফিসার ইয়ামিন নাহার রুমা।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার এনামুল রহিম বাবর,উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার সুলেমান মিয়া,কর্ণিকার মুক্ত স্কউটস গ্রুপ’র সাধারণ সম্পাদক মো.বুরহান উদ্দিন,উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মো.এনামুল হক মোল্লা প্রমুখ।
আলোচনা সভা শেষে সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে ১২৯টি প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের হাতে বিভিন্ন জাতের গাছের চাড়া তুলে দেন সদর উপজেলা নিবার্হী অফিসার ইয়ামিন নাহার রুমা।
জগন্নাথপুরে তারিফ হত্যা মামলায় ৪জনের যাবৎজীবন দন্ডাদেশ
জগন্নাথপুরের চাঞ্চল্যকর তারিফ হত্যা মামলায় ৪জনকে যাবৎজীবন দন্ডাদেশ দিয়েছে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এই রায় দিয়েছেন।
আদালত সুত্র জানায়, জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের সাদিপুর গ্রামে বিয়ে সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর রাত অনুমান দেড়টায় তারিফ উল্লার বাড়ীতে কলকলিয়া ইউনিয়নের খাশিলা গ্রামের নোয়াব আলী, কাছা মিয়া, বাছা মিয়া ও খালিক মিয়া সহ দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে সাদিপুর গ্রামে হামলা চালিয়ে ঘটনাস্থলে তারিফ উল্লাহকে খুন করে। এ ঘটনায় ৫জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হলে দীর্ঘ দিন পর সাক্ষ্য প্রমানের ভিত্তিতে আসামী কাহার মিয়ার বিরুদ্ধে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সত্যতা না থাকায় খালাস প্রদান করা হয় । এবং আসামী নোয়াব আলী, কাছা মিয়া, বাছা মিয়া ও খালিক মিয়াকে যাবৎজীবন দন্ডাদেশ প্রদান করা হয়।
এ ব্যাপারে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি ড.খায়রুল কবির রুমেন দন্ডাদেশের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নৌকা প্রতীক বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলবে : শেখ হাসিনা
জগন্নাথপুর টুডে ডেস্ক::
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে, তখনই দেশের উন্নয়ন হয়, জনগণের কল্যাণ হয়। আওয়ামী লীগ শুরু থেকেই জনগণের অধিকারের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশে উন্নয়নের জোয়ার বইছে। উন্নয়নের জোয়ার সিলেটে এসেছে। আমরা সিলেট বিভাগে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করেছি। প্রতিটি এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি। আমরা ১৬শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নিয়ে শুরু করেছিলাম। এখন ২০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করতে পেরেছি। আজ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে, ভাগ্য পরিবর্তন হচ্ছে। সিলেটে শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিচ্ছি। এখানে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ হবে। প্রবাসী যারা আছেন, তারাও বিনিয়োগ করতে পারবেন। সকলের বিনিয়োগের সুযোগ করে দিচ্ছি, যেখানে কর্মসংস্থান হবে।
তিনি বলেছেন, ‘আগে চায়ের নিলাম শুধুমাত্র চট্টগ্রামে হতো। আমরা সেই নিলাম সিলেটে যাতে হয়, তার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। চা শ্রমিকরা সবসময় নৌকায় ভোট দেয়। তাদেরকে ধন্যবাদ। তাদের উন্নয়নে আমরা ব্যাপক কাজ করেছি। চা শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য স্কুলের ব্যবস্থা করেছি, চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। আমরা সারা দেশে কমিউনিটি ক্লিনিক করে দিয়েছি। মা বোনেরা এখন বাড়ির পাশে চিকিৎসা নিতে পারে।
আজ শনিবার বিকাল ৪টা ৩ মিনিট থেকে আধা ঘন্টারও বেশি দীর্ঘ বক্তব্যে সিলেটে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নগরীর চৌহাট্টাস্থ আলিয়া মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ‘সিলেটের উন্নয়নের জন্য স্কুল, রাস্তাঘাট করে দিয়েছি। গত জানুয়ারিতে এসে অনেক প্রকল্প উদ্বোধন করে যাই। সিলেটে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করে দিয়েছি। সিলেটের সকল জেলায় যাতে বিশ্ববিদ্যালয় হয়, সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় করতে উদ্যোগ নিচ্ছি।
সিলেট-ঢাকা চারলেন সড়ক দ্রুত শুরু হবে। সিলেট বিভাগের সকল প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করে দিচ্ছি। সিলেটে প্রথম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আওয়ামী লীগ সরকার করে দিয়েছিল। এখন লন্ডন থেকে সরাসরি বিমান দেশে আসে। জলাবদ্ধতা যাতে না হয়, তার ব্যবস্থা করেছি। সুপেয় পানির ব্যবস্থা করে দিয়েছি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম করে দিয়েছি। দৃষ্টিনন্দন স্টেডিয়াম এখন অনেকেই দেখতে আসে।
তিনি বলেন, ‘জানুয়ারিতে সিলেট থেকে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছিলাম। আবারও আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। বিজয়ের মাসে আপনাদের সামনে এসেছি। আগামী নির্বাচনে আমরা যে প্রার্থী দিয়েছি, তাদের জন্য নৌকা প্রতীকে ভোট চাইতে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০১ সালে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এস এম কিবরিয়াকে হত্যা করা হলো। সারাদেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল। বাংলাদেশকে দুর্নীতিবাজ দেশ হিসেবে, জঙ্গিবাদি দেশ হিসেবে, সন্ত্রাসী দেশ হিসেবে পরিচয় করিয়েছে। দেশের মানুষের মান ইজ্জত সব শেষ করে দিয়েছে। তাদের অরাজকতার কারণে দেশে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিল।
২০১৪ সালে নির্বাচন ঠেকানোর নামে জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছিল বিএনপি -জামায়াত। তারা মানুষ পুড়ানো, অস্ত্রবাজি, দুর্নীতি করা ছাড়া আর কিছু জানে না। এতিমের টাকা আত্মসাৎ করেছিল। খালেদা জিয়ার প্রিয় ব্যক্তিরাই তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তার বিরুদ্ধে আমি বা আওয়ামী লীগ মামলা দেয়নি। সেই মামলা দশ বছর ধরে চলে শাস্তি দেয়া হয়েছে। একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে আইভি রহমানসহ ২৪ নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়। আওয়ামী লীগের অনেক নেতা স্পিøন্টার নিয়ে জীবন কাটাতে হচ্ছে। দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় সাজাপ্রাপ্ত তারেক রহমান বিদেশে বসে কলকাঠি নাড়ছে।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়, দারিদ্রের হার কমে। আমাদের প্রবৃদ্ধি ৭.৮৬ ভাগে উন্নীত করেছি। আমরা সকলের জন্য বিনা পয়সায় বই দিচ্ছি। দুই কোটি চার লাখ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিচ্ছি। মায়ের মোবাইল ফোনে উপবৃত্তির টাকা দিচ্ছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ১৯৯৬ সালে মোবাইল ফোন বেসরকারি খাতে উন্মুক্ত করে দেই। সারাদেশে ইন্টারনেট চালু করেছি। স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণ করেছি। মোবাইল ফোন এখন সবার হাতে। মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে সবাই এখন বিশ্বকে দেখতে পারে, আত্মীয়স্বজনকে দেখতে পারে। মোবাইল ফোনে আমরা টু জি থেকে থ্রিজি, থ্রিজি থেকে ফোরজিতে চলে এসেছি। আগামীতে আমরা ফাইভ জি চালু করবো।’
দীর্ঘ বক্তব্যে শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘আমরা হাওরাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি। হাওরবাসী যাতে শুধু মাছ চাষেই নয়, অন্যান্য ক্ষেত্রেও তাদের এগিয়ে নিতে বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা আমরা গ্রহণ করেছি। হাওরাঞ্চলে যাতে শিল্প গড়ে ওঠে, সে ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। প্রতিটি মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে বাংলাদেশকে নিয়ে উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরেছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সিলেট বিভাগের বিভিন্ন নদী ভাঙন ঠেকাতে, নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা নিয়েছি। সিলেট বিভাগের সকল জেলায় সার্বিক উন্নয়নে আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি। আবার ক্ষমতায় এলে তা বাস্তবায়ন হবে। দারিদ্র বলে কিছু থাকবে না। মানুষ সুন্দরভাবে জীবনযাপন করবে।’
‘নৌকা হচ্ছে মানুষের বিপদের বন্ধু’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নুহ নবীর আমলে মহাপ্লাবন থেকে মানুষ জাতিকে রক্ষা করেছিল নৌকা। নৌকা বাংলাদেশকে স্বাধীনতা দিয়েছি। নৌকা দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন বিশ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করেছে। ২০২১ সালের মধ্যে প্রতিটি ঘরে ঘরে আমরা আলো জ্বালবো, কোনো ঘর অন্ধকার থাকবে না। এই নৌকায় ভোট দিয়ে দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। বাংলাদেশ একসময় নেতিবাচক পরিচিতি পেয়েছিল। এখন বাংলাদেশ মানে উন্নয়ন। বাংলাদেশ বিশ্বে মর্যাদা পেয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্ব ব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ করেছিল। আমি চ্যালেঞ্জ করেছিলাম। আমি দুর্নীতি করতে আসিনি। আমি বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য গড়তে এসেছি, নিজের ভাগ্য গড়তে আসিনি। যে অভিযোগ ওঠেছিল, তা বানোয়াট ছিল প্রমাণ হয়ে গেছে। চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলাম, নিজেদের টাকায় পদ্মাসেতু করবো। আল্লাহর রহমতে তা আমরা করছি।’
‘বিএনপি-জামায়াত জোট বাঙালি জাতির মানসম্মান ভুলুণ্ঠিত করেছিল’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘হত্যা, দুর্নীতি এগুলো ছিল তাদের নীতি। নির্বাচনে তারা একেক আসনে চার-পাঁচজনকে নমিনেশন দিয়েছে। পরে অকশনে দিয়েছে। যে বেশি টাকা দিয়েছে, তাকে মনোনয়ন দিয়েছে।’
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমদ চৌধুরী আওয়ামী লীগে যোগদান করায় তাকে স্বাগত জানান শেখ হাসিনা। লন্ডনে থাকা সাজাপ্রাপ্ত তারেক রহমানকে দেশে এনে বিচারের রায় কার্যকর করা হবে বলেও মন্তব্য করে তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বে যে সম্মান অর্জন করেছে, তা ধরে রাখতে হবে। যে সম্মান বিশ্বে পায়, তার জন্য নৌকায় ভোট দিতে হবে। আমি নৌকা প্রতীকে ভোট চাইতে এসেছি। শুধু নৌকা প্রতীক নয়, আমরা মহাজোটের সকল প্রার্থীর জন্য ভোট চাইতে এসেছি।
জগন্নাথপুর টুডে-১৮
জনসভায় সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনে মহাজোটের সকল প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন শেখ হাসিনা।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নৌকা প্রতীক বাংলাদেশকে উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলবে। ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে সমৃদ্ধ দেশ। ২১০০ সালের মধ্যে ডেল্টা প্ল্যানের মাধ্যমে বাংলাদেশেকে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
জগন্নাথপুর-দক্ষিন সুনামগঞ্জ আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী
স্টাফ রিপোর্ট:
নানা জল্পনা কল্পনার পর সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-দক্ষিণ সুনামগঞ্জ) আসনে ঐক্যফ্রন্টের চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরীকে সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-দক্ষিণ সুনামগঞ্জ) আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়।
শনিবার (৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্যাডে দলের মহা-সচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরীকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ঘোষনা করেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত ওই চিঠি জেলা রিটার্নিং অফিসারের নিকট দেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী জানান, শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় বিএনপির মহা-সচিব স্বাক্ষরিত চিঠি তিনি পেয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালে এই আসনের উপ-নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী।
জগন্নাথপুর টুডে/১৮