০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এলজিইডি-ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে প্রাথমিকে বুয়েট কন্যা লিজা

  • Update Time : ০৮:৩৪:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 16
সংবাদ ফটোকার্ড তৈরি ও ডাউনলোড করুন →

মোঃ আকরাম হোসেন রতন, পূর্বধলা (নেত্রকোনা)
দেশের শীর্ষ বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে ডিগ্রি অর্জনের পর অনেকের স্বপ্ন থাকে দেশ-বিদেশের নামিদামি প্রতিষ্ঠানে উচ্চ বেতনের চাকরি করা। তবে প্রচলিত সেই ধারণার বাইরে গিয়ে ভিন্ন এক জীবন বেছে নিয়েছেন নেত্রকোনার মেয়ে নাইলা সারাফ লিজা।

প্রকৌশলী ও ব্যাংকার হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে তিনি এখন নেত্রকোনা সদর উপজেলার পঞ্চাননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। সেখানে তিনি শুধু শিক্ষক নন, শিশুদের কাছে প্রিয় ‘লিজা আপা’।

২০০৯ সালে এলজিইডিতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পরে ২০১১-১২ সালে যোগ দেন জনতা ব্যাংকে। তবে নিজের ভাষায়, “জব তো কখনো খারাপ হয় না। তবে আমার নিজেকে কখনো মনে হয়নি যে ওই জবগুলোতে আমি খুব বেশি ফিট।”

মনের তাগিদ থেকেই ২০১৭ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। প্রায় আট বছর ধরে ভালোবাসা ও মমতা দিয়ে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন তিনি।

তাঁর কাছে শিক্ষকতা মানে শুধু পাঠ্যবই পড়িয়ে দেওয়া নয়। শ্রেণিকক্ষে তিনি ভীতিকর শিক্ষক নন, শিশুদের বন্ধু। টিফিনের সময় শিশুদের সঙ্গে বসে খাবার ভাগাভাগি করে খান।

লিজা বলেন, “আমি ক্লাসে ওদের বন্ধু। ওরা কোনো ভুল করলেও নির্দ্বিধায় আমার কাছে স্বীকার করতে পারে।”

বর্তমানে নেত্রকোনাতেই স্বামী ও তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া একমাত্র ছেলেকে নিয়ে বসবাস করছেন তিনি। বুয়েটের এই মেধাবী শিক্ষার্থী এখন প্রতিদিন শ্রেণিকক্ষে শিশুদের স্বপ্ন ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

এলজিইডি-ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে প্রাথমিকে বুয়েট কন্যা লিজা

Update Time : ০৮:৩৪:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
সংবাদ ফটোকার্ড তৈরি ও ডাউনলোড করুন →

মোঃ আকরাম হোসেন রতন, পূর্বধলা (নেত্রকোনা)
দেশের শীর্ষ বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে ডিগ্রি অর্জনের পর অনেকের স্বপ্ন থাকে দেশ-বিদেশের নামিদামি প্রতিষ্ঠানে উচ্চ বেতনের চাকরি করা। তবে প্রচলিত সেই ধারণার বাইরে গিয়ে ভিন্ন এক জীবন বেছে নিয়েছেন নেত্রকোনার মেয়ে নাইলা সারাফ লিজা।

প্রকৌশলী ও ব্যাংকার হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে তিনি এখন নেত্রকোনা সদর উপজেলার পঞ্চাননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। সেখানে তিনি শুধু শিক্ষক নন, শিশুদের কাছে প্রিয় ‘লিজা আপা’।

২০০৯ সালে এলজিইডিতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পরে ২০১১-১২ সালে যোগ দেন জনতা ব্যাংকে। তবে নিজের ভাষায়, “জব তো কখনো খারাপ হয় না। তবে আমার নিজেকে কখনো মনে হয়নি যে ওই জবগুলোতে আমি খুব বেশি ফিট।”

মনের তাগিদ থেকেই ২০১৭ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। প্রায় আট বছর ধরে ভালোবাসা ও মমতা দিয়ে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন তিনি।

তাঁর কাছে শিক্ষকতা মানে শুধু পাঠ্যবই পড়িয়ে দেওয়া নয়। শ্রেণিকক্ষে তিনি ভীতিকর শিক্ষক নন, শিশুদের বন্ধু। টিফিনের সময় শিশুদের সঙ্গে বসে খাবার ভাগাভাগি করে খান।

লিজা বলেন, “আমি ক্লাসে ওদের বন্ধু। ওরা কোনো ভুল করলেও নির্দ্বিধায় আমার কাছে স্বীকার করতে পারে।”

বর্তমানে নেত্রকোনাতেই স্বামী ও তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া একমাত্র ছেলেকে নিয়ে বসবাস করছেন তিনি। বুয়েটের এই মেধাবী শিক্ষার্থী এখন প্রতিদিন শ্রেণিকক্ষে শিশুদের স্বপ্ন ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।