সুন্দরবনে বাড়ছে চোরা শিকার
- Update Time : ১২:৫৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
- / 15

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সুন্দরবন থেকে ফিরে:
বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন এখন বহুমুখী হুমকির মুখে। বন বিভাগের ধারাবাহিক অভিযান ও মামলা বাড়লেও থামছে না চোরা শিকারি ও বনজ সম্পদ লুটেরা চক্রের তৎপরতা।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পশ্চিম সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জে বন অপরাধের ঘটনায় ২৯৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় ৩৯৬ জনকে গ্রেফতার করা হলেও এখনও পলাতক রয়েছেন ৬৩ জন।
একই সময়ে উদ্ধার করা হয়েছে ৪৮৭ কেজি হরিণের মাংস, ৫ হাজার ৭১২ মিটার হরিণ ধরার ফাঁদ এবং ৬ হাজার ৯৮৬টি অবৈধ কাঁকড়া ধরার ফাঁদ।
সংঘবদ্ধ চক্রের তৎপরতা
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বন অপরাধ এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। হরিণ শিকার, বিষ প্রয়োগে মাছ ধরা ও বনজ সম্পদ পাচারের সঙ্গে জড়িত রয়েছে সংঘবদ্ধ চক্র।
গত এক বছরে অভয়ারণ্যে মাছ ও কাঁকড়া আহরণে ১০৬টি, বিষ প্রয়োগে মাছ শিকারে ৩৩টি এবং হরিণ শিকারে ৩টি মামলা হয়েছে।
বন বিভাগ হরিণ শিকার ও বন্যপ্রাণী নিধনের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ১৩৫ জনের একটি বিশেষ তালিকা তৈরি করে তাদের নজরদারিতে রেখেছে।
বিষ দিয়ে মাছ শিকারে বিপর্যয়
সুন্দরবনের নদী ও খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরার প্রবণতা বেড়েছে। গত এক বছরে ৮৭ বোতল নিষিদ্ধ কীটনাশক জব্দ করা হয়েছে। এতে নদীর সামগ্রিক জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জনবল ও বিকল্প জীবিকার সংকট
প্রায় ৬ হাজার বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত সুন্দরবন পাহারা দিতে হিমশিম খাচ্ছে বন বিভাগ। জনবল ও আধুনিক সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে।
বাগেরহাট রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির বলেন, “শুধু অভিযান দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। বননির্ভর মানুষের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।”
বন বিভাগের বক্তব্য
সুন্দরবন খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, “স্মার্ট টহল টিম ও ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।”
পশ্চিম সুন্দরবনের ডিএফও এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, “নিয়মিত টহলের কারণে বন অপরাধ আগের তুলনায় কমেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য জনবল ও প্রযুক্তি বাড়ানো প্রয়োজন।”



















