০৯:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউএনও’র উদ্যোগে বর্ণমালা ও নানা প্রজাতির রঙিন ছবিতে সাজানো হলো বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল

  • Update Time : ০৮:০১:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 3
সংবাদ ফটোকার্ড তৈরি ও ডাউনলোড করুন →

 

ইমরান আহমদ, গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি:

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারীর উদ্যোগে কোমলমতি শিশুদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এবং বিদ্যালয়কে একটি আনন্দদায়ক স্থান হিসেবে গড়ে তুলতে নেওয়া হয়েছে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। শুধু সাদামাটা চার দেয়াল নয়, বরং বাংলা ও ইংরেজি অক্ষরে এবং বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখি ও প্রাকৃতিক দৃশ্যের দৃষ্টিনন্দন চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে সাজানো হয়েছে শ্রেণিকক্ষ। বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের শিশুদের লেখাপড়ার উপযোগী করে তোলা এই রঙিন পরিবেশ ইতোমধ্যেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের বারান্দা ও শ্রেণিকক্ষের দেয়ালজুড়ে আঁকা হয়েছে বাঘ, সিংহ, হাতি, জিরাফ, হরিণসহ নানা প্রজাতির প্রাণীর ছবি। সেই সঙ্গে রয়েছে টিয়া, ময়না, দোয়েলসহ দেশীয় পাখির চমৎকার সব চিত্র। প্রতিটি ছবির পাশেই বড় ও আকর্ষণীয় রঙের কালিতে লেখা রয়েছে সংশ্লিষ্ট বাংলা ও ইংরেজি অক্ষর, শব্দ এবং সংখ্যা। এর ফলে শিশুরা শুধু ছবি দেখেই আনন্দ পাচ্ছে না, বরং খেলার ছলে সহজেই বর্ণমালা ও নতুন নতুন শব্দের সঙ্গে পরিচিত হতে পারছে।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের শিশুদের জন্য ‘ভিজ্যুয়াল লার্নিং’ বা দৃশ্যমান শিখন পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর। বইয়ের কালো অক্ষরের চেয়ে চারপাশের রঙিন ছবি শিশুদের মস্তিষ্ক দ্রুত ধারণ করতে পারে। বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগটি সেই বৈজ্ঞানিক ধারণার ওপর ভিত্তি করেই নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরুল ইসলাম বলেন, “শিশুরা যেন স্কুলকে ভয়ের জায়গা না ভেবে আনন্দের জায়গা মনে করে, মূলত সেই লক্ষ্যেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এই উদ্যোগ নিয়েছেন। অক্ষরে এবং বিভিন্ন প্রজাতির ছবির এই চিত্রাঙ্কন তাদের কল্পনাশক্তি বাড়াচ্ছে। এখন তারা ক্লাসে ঢুকলেই চারপাশের দেয়াল থেকে অনেক কিছু শিখতে পারছে।
স্থানীয় অভিভাবকরাও এই উদ্যোগে বেশ উচ্ছ্বসিত। এক শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, “আগে আমার সন্তান স্কুলে আসতে চাইত না, কান্নাকাটি করত। কিন্তু এখন স্কুলের এই রঙিন পরিবেশ আর পশুপাখির ছবিগুলো তার এতই পছন্দ হয়েছে যে, সে প্রতিদিন হাসিমুখে স্কুলে আসতে চায়। বাসায় গিয়েও সে দেয়ালের ছবিগুলোর গল্প করে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী বলেন,সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, শিশুদের মানসিক বিকাশ, উপস্থিতির হার বৃদ্ধি এবং আনন্দময় শিক্ষার প্রসারে উপজেলার অন্যান্য বিদ্যালয়গুলোতেও এমন শিক্ষানুকূল পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

ইউএনও’র উদ্যোগে বর্ণমালা ও নানা প্রজাতির রঙিন ছবিতে সাজানো হলো বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল

Update Time : ০৮:০১:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
সংবাদ ফটোকার্ড তৈরি ও ডাউনলোড করুন →

 

ইমরান আহমদ, গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি:

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারীর উদ্যোগে কোমলমতি শিশুদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এবং বিদ্যালয়কে একটি আনন্দদায়ক স্থান হিসেবে গড়ে তুলতে নেওয়া হয়েছে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। শুধু সাদামাটা চার দেয়াল নয়, বরং বাংলা ও ইংরেজি অক্ষরে এবং বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখি ও প্রাকৃতিক দৃশ্যের দৃষ্টিনন্দন চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে সাজানো হয়েছে শ্রেণিকক্ষ। বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের শিশুদের লেখাপড়ার উপযোগী করে তোলা এই রঙিন পরিবেশ ইতোমধ্যেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের বারান্দা ও শ্রেণিকক্ষের দেয়ালজুড়ে আঁকা হয়েছে বাঘ, সিংহ, হাতি, জিরাফ, হরিণসহ নানা প্রজাতির প্রাণীর ছবি। সেই সঙ্গে রয়েছে টিয়া, ময়না, দোয়েলসহ দেশীয় পাখির চমৎকার সব চিত্র। প্রতিটি ছবির পাশেই বড় ও আকর্ষণীয় রঙের কালিতে লেখা রয়েছে সংশ্লিষ্ট বাংলা ও ইংরেজি অক্ষর, শব্দ এবং সংখ্যা। এর ফলে শিশুরা শুধু ছবি দেখেই আনন্দ পাচ্ছে না, বরং খেলার ছলে সহজেই বর্ণমালা ও নতুন নতুন শব্দের সঙ্গে পরিচিত হতে পারছে।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের শিশুদের জন্য ‘ভিজ্যুয়াল লার্নিং’ বা দৃশ্যমান শিখন পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর। বইয়ের কালো অক্ষরের চেয়ে চারপাশের রঙিন ছবি শিশুদের মস্তিষ্ক দ্রুত ধারণ করতে পারে। বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগটি সেই বৈজ্ঞানিক ধারণার ওপর ভিত্তি করেই নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরুল ইসলাম বলেন, “শিশুরা যেন স্কুলকে ভয়ের জায়গা না ভেবে আনন্দের জায়গা মনে করে, মূলত সেই লক্ষ্যেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এই উদ্যোগ নিয়েছেন। অক্ষরে এবং বিভিন্ন প্রজাতির ছবির এই চিত্রাঙ্কন তাদের কল্পনাশক্তি বাড়াচ্ছে। এখন তারা ক্লাসে ঢুকলেই চারপাশের দেয়াল থেকে অনেক কিছু শিখতে পারছে।
স্থানীয় অভিভাবকরাও এই উদ্যোগে বেশ উচ্ছ্বসিত। এক শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, “আগে আমার সন্তান স্কুলে আসতে চাইত না, কান্নাকাটি করত। কিন্তু এখন স্কুলের এই রঙিন পরিবেশ আর পশুপাখির ছবিগুলো তার এতই পছন্দ হয়েছে যে, সে প্রতিদিন হাসিমুখে স্কুলে আসতে চায়। বাসায় গিয়েও সে দেয়ালের ছবিগুলোর গল্প করে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী বলেন,সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, শিশুদের মানসিক বিকাশ, উপস্থিতির হার বৃদ্ধি এবং আনন্দময় শিক্ষার প্রসারে উপজেলার অন্যান্য বিদ্যালয়গুলোতেও এমন শিক্ষানুকূল পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।