স্টাফ রিপোর্টার::
জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের পাইলগাঁও ব্রজনাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উৎসব স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (৮ জানুয়ারী) সুনামগঞ্জের যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালত এ আদেশ দিয়েছেন।
জানা যায়, পাইলগাঁও ব্রজনাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উৎসব উদযাপনে আগামী ২৫ জানুয়ারি উৎসব কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আ ফ ম জিয়াউল হোসেন বাদি হয়ে একটি স্বত্ব মামলা দায়ের করেন।
মামলায় তিনি উল্লেখ করেন পাইলগাঁও ব্রজনাথ উচ্চ বিদ্যালয় ১৯২৬ ইংরেজি সনে প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ের সামনে গেইটে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সন ১৯১৯ লেখা রয়েছে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি এবং প্রাক্তন কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী শতবর্ষ উদযাপন কমিটি গঠন করে আগামী ২৫ জানুয়ারি শতবর্ষ উদযাপন করার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
তিনি মামলার এজাহারে আরো উল্লেখ করেন প্রয়াত জমিদার ব্রজেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরীর পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত স্মৃতি ও প্রীতিতি নামে প্রকাশিত বইয়ে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকাল ১৯২৬ ইংরেজি লেখা রয়েছে। এছাড়াও আরো একাধিক গ্রন্থে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকাল ১৯২৬ ইংরেজি লেখা রয়েছে।
আ ফ ম জিয়াউল হোসেন জানান, বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে বিদ্যালয়ের ইতিহাস ঐতিহ্য রক্ষায় ১৯১৯ সালে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ভূল তথ্য মেনে নিতে না পেরে আদালতে মামলা দিয়েছি । আদালত মামলা গ্রহণ করে শতবর্ষ উৎসব উদযাপন স্থগিত রাখার আদেশ দিয়েছেন।
পাইলগাঁও ব্রজনাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের শত বর্ষ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান জানান, ব্রজনাথ উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এর শতাধিক দালিলিক প্রমাণ রয়েছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও সাবেক শিক্ষার্থীদের নিয়ে শতবর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে । একটি মহল প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে এ মামলা দায়ের করেছেন আমরা আইনি মোকাবিলার মাধ্যমে শতবর্ষ উৎসব উদযাপন করব।
সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী স্বপন কুমার দাশ জানান, আদালত আগামী ২৫ জানুয়ারি তারিখের শতবর্ষ উৎসব স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে আদেশ দিয়েছেন। এছাড়াও মামলার বিবাদী ১৩ জনকে সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে নির্দেশ দিয়েছেন। জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহ্ফুজুল আলম মাসুম জানান, বিদ্যালয়টি ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু পাঠদানের অনুমোদন পায় ১৯২৬ সালে।