শ্রীরামসি হাফাতি বিলে দীর্ঘ দিন পর ঐতিহ্যের ‘পলো বাওয়া’ উৎসব

 

মোঃ- আকরাম হোসেন জুয়েল ঃ-
জগন্নাথপুরে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘পলো ভাওয়া’ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ঝপ ঝপ শব্দের তালে তালে আজ শনিবার উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামসি গ্রামের পশ্চিমের হাফাতির বিলে এ পলো ভাওয়া উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

শিকড়ের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের টানে সবার আনন্দের জন্য এ আয়োজন করা হয়। বাঁশ আর বেতের সমন্বয়ে তৈরী করা হয় পলো। শিকার করাই গ্রামবাসীর প্রধান এক আনন্দের উৎসব।

শ্রীরামসি গ্রামের ঐতিহ্য অনুযায়ী যদি ও প্রতি বছর হয় না উৎসব। তবুও আনন্দের কমতি ছিল না।

এবার বিলের পানি কমতে থাকায় এবং মাছের সংখ্যা বেশী থাকায় শনিবার উৎসবটি পালন করেন গ্রামবাসী।

এতে অংশগ্রহন করেন গ্রামের কয়েক শতাধিক সৌখিন মৎস্য শিকারী। সরেজমিন বিলে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই বিলের ধারে জড়ো হয়েছেন শিকারীরা।

এতে দলভুক্ত হয়েছে শিশু-কিশোরও। মাছ ধরার বিভিন্ন সরঞ্জাম পাশে নিয়ে পূর্ব নির্ধারিত সময়ের প্রহর গুনছেন সকলেই।

সময় হলেই একযোগে ‘আনন্দ চিৎকার’ দিয়ে বিলে নামার অপেক্ষায় সবাই। উৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে বিলের ধারে ভিড় জমিয়েছেন উৎসুক জনতা।

আজ শনিবার সকাল ১১ টায় ভূ-দৌড়ে পলো নিয়ে বিলে ঝাপ দেন শিকারীর দল। দীর্ঘসময় জলে মাছ শিকারে মেতে উঠেন তারা। ঝপ ঝপ শব্দের তালে তালে চলতে থাকে পলো ভাওয়া। প্রায় ২ ঘন্টাব্যাপী এ ‘পলো ভাওয়া উৎসবে’ অংশ নেন শ্রীরামসি সহ আশপাশ গ্রামের সব বয়সী পুরুষ।

এসময় সৌখিন শিকারীদের পলোতে ধরা পড়ে বোয়াল, রুই, কাতলা, শোল, গজার, বাউশ, ব্রিগেডসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।

একেকটি মাছ শিকারের সাথে সাথে চিৎকার করে নিজেদের আনন্দ প্রকাশ করেন শিকারীরা। তাদের ওই আনন্দের সাথে তাল মেলান বিলের তীরে অপেক্ষমান গ্রামের মুরব্বী, ও শিশুরা।

গ্রামবাসীরা জানান, পলো ভাওয়া উৎসব শ্রীরামসি গ্রামের একটি ঐতিহ্য। গ্রামবাসী পূর্বপুরুষেরা এই উৎসব পালন করে আসছেন।

মাঝে মাঝে বিভিন্ন কারণে বন্ধ হয়ে যায়।এবার গ্রাম বাসীর সবার আনন্দের জন্য সবাই জোড়দার দিয়ে এই উৎসব পালনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

‘পলো উৎসব’র এক সপ্তাহ পূর্বে পঞ্চায়েতের সভা ডেকে সৃঙ্খলা রক্ষায় নেয়া হয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। সভার পরপরই উসৎসবের ন্যায় গ্রামের ঘরে ঘরে পলো তৈরী, মেরামত ও সংগ্রহের কাজ চলে। পূর্ব নির্ধারিত সময়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে একযোগে সবাই মাছ ধরতে বিলে নামেন ।

যুক্তরাজ্য প্রবাসী আসকর উদ্দিন দুলু বলেন, পলো ভাওয়া উৎসব আমাদের গ্রামের একটি ঐতিহ্য। দীর্ঘদিন পর এবার এই উৎসবে অংশ নিতে পেরে আমি আনন্দিত।
# জটুডে /এহাই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *